তারিখ : ২৪ জুন ২০১৮, রবিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

স্মরণ-জনমানুষের প্রিয় নেতা ছিলেন নজরুল ইসলাম এমপি

স্মরণ-জনমানুষের প্রিয় নেতা ছিলেন নজরুল ইসলাম এমপি
[ভালুকা ডট কম : ০৭ আগস্ট]
তিনি নেই, আছেন প্রাণে, মানুষের অন্তরে। এমনই এক জনপ্রতিনিধি ছিলেন ময়মনসিংহের গৌরীপুরের সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম সরকার। সহযোদ্ধা, বন্ধু আর প্রিয় গৌরীপুরের লাখো জনতার আজও চোখের সামনে ভেসে উঠে নজরুল ইসলামের অবয়ব।

তিনি ৮ আগস্ট জাতীয় সংসদ অধিবেশন শেষে মোটর সাইকেল যোগে গৌরীপুরে আসার পথে ময়মনসিংহ-ঢাকা সড়কের তুলা উন্নয়ন বোর্ডের সামনে মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় প্রাণ যান। তিনি পোষ্ট মাস্টার থেকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পরিবর্তিতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করেন। সংস্কৃতিমনা নাট্যব্যক্তিত্ব নজরুল ইসলাম সরকার অল্পদিনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

আজ যোগ্য নেতৃত্বের বড় অভাব। কল্যাণের ম্যান্ডেট, শাসনের চাবুকে পরিণত হচ্ছে। দিনদিন মানুষ নেতৃত্ব, রাজনীতি, নেতার প্রতি সম্মান কমতে শুরু করেছে। নজরুল ইসলাম সরকার ছিলেন এ ক্ষেত্রে ভিন্ন। তিনি রাজনীতিতে এসে মানুষকে আপন করে ছিলেন। নিজ এলাকাকে ভোট ব্যাংকে পরিণত করতে সক্ষম হন। যা আজ নৌকার ভোট ব্যাংক খ্যাত হচ্ছে। তাঁর এ অর্জনের সফলতায় তার ভাই জনাব সিরাজুল ইসলাম সরকার উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।   

১৯৯১সনে সংসদ বার্তায় অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন অর্থনৈতিক ক্লিষ্টতা ও দারিদ্র বিমোচনে সাফল্য শিরোনামে একটি সাক্ষাতকার প্রকাশিত হয়। তার আপনাদের মাঝে তুলে ধরা হলো।

জাতীয় সংসদ সদস্য মোঃ নজরুল ইসলাম সরকার ১৯৫৩ সালের আগস্ট ২ তারিখে ময়মনসিংহ জেলার সহনাটীতে এক সম্ভ্রান্ত মুসলমান পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মোঃ আব্দুল করিম সরকার। গৌরীপুর মহাবিদ্যালয় থেকে ¯œাতক ডিগ্রী অর্জনের মাধ্যমে জনাব নজরুল ইসলাম সরকার তার শিক্ষা জীবনের অবসান ঘটান। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সংসম্পর্শে আসেন। তিনি ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। পাকিস্তানি শাসনমলের শেষের দিককার প্রতিটি আন্দোলনে তিনি সরাসরি অংশ নিয়েছেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে তিনি অংশ গ্রহণ করেন এবং  বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের থানা কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। গণমুখী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণে জনাব নজরুল ইসলাম সরকার নিজ এলাকায় খুবই জনপ্রিয়।

তিন তিন বার তিনি পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ছাত্র জীবন শেষে তিনি আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত হন এবং দলের প্রতিটি কর্মসূচীতে অংশ গ্রহণ করেন। ১৯৯১- এর ২৭শে ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী  হিসাবে জনাব সরকার ময়মনসিংহ-৩ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হয়েছে। তরুণ রাজনিতিক জনাব নজরুল ইসলাম সরকার সামাজিক কর্মকান্ডের অঙ্গনেও বলিষ্ঠ পদাচারণা  অব্যহত রেখেছেন। তিনি পাছার উচ্চ বিদ্যালয়, গিধাউষা উচ্চ বিদ্যালয় ও নিজ ইউনিয়নের দুটি হাই মাদ্রাসার পরিচলনা কমিটির দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

১৯৭৮ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ জনাব নজরুল ইসলাম সরকারের স্ত্রী একজন সুগৃহিনী। এই সুখী দম্পতির সন্তান সংখা ৩ জন। দুই জন কন্যা এবং একটি পুত্র। জাতীয় সংসদের সদ্যস জনাব নজরুল ইসলাম সরকার আমাদের প্রতিবিদেক প্রশ্নের জবাবে দেশের অর্থ- সামাজিক উন্নয়নের ব্যাপারে তার চিন্তা- ভাবনা ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, আমাদের দেশের বাস্তব যে অবস্থা তাতে অর্থ সামাজিক ক্ষেত্রে উন্নয়ন অর্জন   করতে হলে সমভায় পদ্ধতির প্রসার করতে হবে  বলে আমি মনে  করি। এছাড়া অগ্রধিকার ভিত্তিতে ব্যপক ভাবে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প স্থাপন করতে হবে। গ্রামীণ উন্নয়নে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

মূল্যবোধের অবক্ষয় সর্ম্পকে মন্তব্য করতে অনুরোধ করা হলে জাতীয় সংসদের সদস্য বলেন : আমাদের  চিরায়িত মূল্যবোধগুলিকে অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন অর্থনৈতিক ক্লিষ্টতা ও দারিদ্র বিমোচনে সাফাল্য। কেননা মানুষের প্রয়োজন কোন আইন মানে না। অভাব তীব্র হলে মূল্যবোধ লালন করা অসম্ভ  হয়ে পড়ে। তাই মানুষের নূন্যতম চাহিদা  মেটানো ও প্রতিটি কর্মক্ষম  মানুষের উপার্জনের রাস্তা খুলে দিতে হবে। সাথে সত সংস্কৃতি চর্চা ও সুস্থ বিনোদনের ব্যমস্থা করতে হবে। শিক্ষক, লেখক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক এবং অভিভাকদের মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে পালন করতে হবে আরো সচেতন ভূমিকা। দেশের প্রধান সমস্যা ও সমাধানের পন্থা সম্পর্কে জাতীয় সংসদ সদস্য জনাব নজরুল ইসলাম সরকারের অভিমত জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন : অনেক সমস্যার মধ্যে আমার মনে হয় বেকারত্ব, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও রাজনৈতিক অস্থিরথা আমাদের প্রধান সমস্যা। বেকারত্ব দূর করতে হলে শিল্পায়নের কোন বিকল্প নেই। তবে এই শিল্পায়ন উদ্যোগকে দেশিয় বাস্তবতার সাথে সামজ্ঞস্য পূর্ণ হতে হবে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধে পরিকল্পিত পরিবার গড়ার আন্দোলনকে সামাজিক আন্দোলনে উন্নিত করতে হবে।

বাড়াতে হবে শিক্ষার হার ও  জনগণের সচেতনতার মাত্রা।আর রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করতে হলে অনবরত গণতান্ত্রিক রীতি-নীতি চর্চা করে যেতে হবে। বেকারত্ব, দুর্নীতি, ও শিক্ষাঙ্গণে সন্ত্রাস রোধে আপনার পরামর্শ কি? প্রশ্নের জবাবে নজরুল  ইসলাম সরকার বলেন ঃ শিল্পায়নের মাধ্যমে বেকারত্ব সমাধান করা সম্ভব রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সমঝোতাই মাধ্যমেই।

জনাব নজরুল তার ধারণায় আগামী ২০০০ সালের বাংলাদেশের একটি বর্ণনা তুলে ধরার জন্য অনুরোধ জানানো হলে তিনি বলেন ঃ বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধি হার ও উন্নয়নের গতির মধ্যকার যে পার্থক্য তা যদি ক্রমাগত বাড়তে থাকে তাহলে আগামী ২০০০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ সামাজিক অস্থিরতা  ও নৈরাজ্যের দেশে পরিণত হবে।

আমাদের প্রতিবেদক সবশেষে জানতে চানঃ বর্তমান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আপনি কতটুকু টেকসই মনে করেন? জবাবে জনাব নজরুল ইসলাম সরকার বরেন, আমাদের দেশে গণতন্ত্র বারবার যাত্রারম্ভেই হোঁচট খেয়েছে। এর কুফল ভোগ করতে হয়েছে রাজনীতিকদেরকেই সবচাইতে বেশী। ফলে তারা ঠেকে অনেকটা শিখেছেন। তবে, গণতন্ত্রের ব্যাপারে এখানে প্রায় সবাই নবীশ। ভুল-ত্রুটি হচ্ছে, হবেও। এর মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র টিকে থাকবে বলেই আমি আশা করি।






সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ব্যাক্তিত্ব বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ২০৭ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই