তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০১৮, শনিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

‘ছিলাম, আছি, থাকব’

‘ছিলাম, আছি, থাকব’
[ভালুকা ডট কম : ৩০ আগস্ট]
রাজ্জাকশারীরিক অসুস্থতার জন্য গত তিন বছর ধরেই চিকিৎসকের নিয়মিত তত্ত্বাবধানে থাকতে হচ্ছে অভিনেতা রাজ্জাককে। হঠাৎ করে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে আবার যেতে হয় হাসপাতালেও। কয়েক দিন চিকিৎসাসেবা শেষে সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরেন তিনি। এই সময়টাতে রাজ্জাককে কেন্দ্র করে তৈরি হয় নানা ধরনের গুজব। এবারও এর ব্যতিক্রম হলো না। হঠাৎ করেই খবর ছড়াল, রাজ্জাক আর অভিনয় করবেন না। স্বয়ং রাজ্জাকই নাকি এমনটা বলেছেন। শুধু তাই নয়, রাজ্জাকের ছোট ছেলে সম্রাট নাকি বাবার অভিনয় না করার ব্যাপারটি নিশ্চিতও করেছেন।গতকাল রোববার সন্ধ্যায় প্রথম আলোর সঙ্গে এক আলাপে ‘নায়করাজ’ খ্যাত এ অভিনেতা কিন্তু ভিন্ন কথাই বললেন। রাজ্জাক বলেছেন— ‘অভিনয় কেন ছাড়ব! অভিনয় ছাড়ার প্রশ্নই আসে না। আমি ছিলাম, আমি আছি, আমি থাকব। অভিনয়ের কারণেই কিন্তু দেশের মানুষ আমাকে ভালোবেসেছেন, আজকের রাজ্জাক বানিয়েছেন। অভিনয় আমার শরীরের প্রতিটি রক্ত কণার সঙ্গে মিশে আছে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অভিনয় ছাড়ার কোনো চিন্তা করাও আমার পক্ষে সম্ভব না। আমৃত্যু আমাকে চলচ্চিত্রের সঙ্গেই থাকতে হবে।’

রাজ্জাকের দুই ছেলে বাপ্পারাজ ও সম্রাট অভিনয় এবং নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত আছেন। চলচ্চিত্রে সন্তানদের যুক্ত হওয়াটা তাঁর জন্য অনেক আনন্দের। রাজ্জাক বলেন, ‘আমি অভিনয় না করলেও সন্তানদের কাজকর্ম মন দিয়ে দেখি। তাঁরা নানা বিষয়ে আমার কাছে পরামর্শ চায়। আমি তাদেরকে পরামর্শ দিই। এটাও কিন্তু একরকম অভিনয় মাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত থাকাই। আমি সন্তানদের এমন কাজ খুব উপভোগ করি।’অভিনয় না ছাড়লেও আপাতত অভিনয় থেকে দূরে আছেন রাজ্জাক। কারণ, চিকিৎসকের কড়া নির্দেশ। আরও মাস দু-এক পূর্ণাঙ্গ বিশ্রামে থাকতে হবে তাঁকে। রাজ্জাক বলেন, ‘বলতে পারেন, এখন আমি অনেকটাই সুস্থ। একা একাই চলাফেরা করি। মন চাইলে গাড়ি নিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে পড়ি। নাতি-নাতনিদের নিয়ে কেটে যায় অনেকটা সময়। এ আনন্দ একেবারেই অন্যরকম। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলছি। হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার পর শুরুর দিকে অনেকগুলো ওষুধ খেতে হতো, এখন ওষুধ খাওয়ার পরিমাণও কমে গেছে। বেশ কিছুদিন ধরে আমি কিন্তু ধূমপান ছেড়ে দিয়েছি। শুধু তাই নয়, এমনকি যারা ধূমপান করে তাদের আশপাশেও যাই না।’

শুধু দর্শকের কাছ থেকে নয়, দীর্ঘ চলচ্চিত্রজীবনে সহশিল্পীদের কাছ থেকেও ভালোবাসা, সহযোগিতা পেয়েছেন ‘নায়করাজ’। আর তা কোনো দিন ভোলার নয় বলেও জানান তিনি। রাজ্জাক বলেন, ‘এ দেশের মানুষ নির্দ্বিধায়, নিঃশঙ্কচিত্তে আমাকে বছরের পর বছর ধরে যে ভালোবাসা দিয়ে গেছেন, তা আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া। আমার মতো একজন সাধারণ নায়ককে তাঁরা “নায়করাজ” বানিয়েছেন। তাঁদের প্রতি সম্মান রেখেই আমি কাজ করি।আমি ভাগ্যবান শিল্পী। ভাগ্যবান নায়ক। পাঁচটি প্রজন্মকে ৭৩ বছরের জীবনে বিনোদন দিয়ে আসতে পারছি। মাঝে মাঝে নিজেকে তৃপ্ত মনে হয়। ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে একটা দেশের মানুষের মনের মণিকোঠায় থাকা সহজ কথা নয়।’

১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন বাংলা চলচ্চিত্রের এই গুণী অভিনয়শিল্পী। শুধু নায়ক হিসেবেই নয়, পরিচালক হিসেবেও তিনি সফল। সর্বশেষ ‘আয়না কাহিনি’ ছবিটি নির্মাণ করেছেন রাজ্জাক। নায়ক হিসেবে প্রথম অভিনয় করেন জহির রায়হান পরিচালিত ‘বেহুলা’ ছবিতে। এতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন সুচন্দা।রাজ্জাক প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন ‘কি যে করি’ ছবিতে অভিনয় করে। এরপর আরও চারবার তিনি জাতীয় সম্মাননা পেয়েছেন। ২০১১ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননা অর্জন করেন। এ ছাড়া, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) পুরস্কার পেয়েছেন অসংখ্যবার।ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজ্জাক বলেন, ‘বয়স হয়েছে। এখন আসলে সুস্থ থাকাটাই জরুরি। সবার কাছে দোয়া চাই যেন সুস্থ থাকি, ভালো থাকি। সবার জন্য আমারও শুভ কামনা থাকবে যেন সবাই সব সময় ভালো থাকেন।’






সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ব্যাক্তিত্ব বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫২৫ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই