তারিখ : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, শুক্রবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

আপনার ঈদ ভ্রমণ নিরাপদ হতে করণীয়

আপনার ঈদ ভ্রমণ নিরাপদ হতে করণীয়
[ভালুকা ডট কম : ২৪ জুন]
বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলমান,  বৌদ্ধ ও খৃষ্টানসহ সকল ধর্মের লোকজন একসাথে মিলেমিশে বসবাস করে। সবাই যারযার ধর্মীয় উৎসবগুলি অত্যন্ত আনন্দমুখর পরিবেশে পালন করে থাকে। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুটি হলো রোজা ও কোরবানির ঈদ। আমাদের দেশের বেশীর ভাগ মানুষ গ্রামে বসবাস করে। আবার কিছু অংশ চাকুরী, ব্যবসা ও শিক্ষাসহ নানাবিধ কারণে শহরে অস্থায়ী ভাবে বাস করে। শহরে বাস করলেও দুই ঈদে নাড়ীর টানে গ্রামের বাড়িতে প্রিয়জনদের সাথে ঈদের খুশি ভাগাভাগি করে নিতে শহর ছাড়ে।

প্রতি ঈদেই কয়েক কোটি মানুষ রাজধানী ঢাকা সহ দেশের সব কয়টি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা ছেড়ে গ্রামের বাড়ি বেড়াতে যায়। ঈদের ছুটি শুরু হলেই রেল, বাস, লঞ্চ ও স্টিমার স্টেশনে উপচে পড়া মানুষের ঢল। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ করতে গিয়ে মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তান ও আত্মীয়-স্বজনদের কাছে লাশ হয়ে ফিরতে হয়! ঈদ আনন্দ পরিণত হয় নিরানন্দ, বিষাদ ও শোকে! আনন্দের এই ঈদ যেন কষ্টের সাগর না হয় সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।

যারা ইতোমধ্যে যানবাহনের টিকিট কিনে ফেলেছেন, তাদের সময় তো নির্ধারিত হয়েই আছে। বাকিরা ভ্রমনের সুবিধাজনক সময় নির্ধারণ করুন। পরিবার পরিজন নিয়ে যারা বাড়ী যাবেন তাদেরকে একটু বেশী ভুগান্তিতে পড়তে হয়। তাই তাদের ভ্রমণের ব্যাপারে আরও বেশী যত্নশীল হতে হবে। একটু আগেভাগেই বাসা থেকে বের হউন। কেননা গাড়ী ফেল করলে রাস্তাঘাটে পরিবারপরিজন নিয়ে অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। বাসা থেকে বের হবার আগে গ্যাসের চুলা, বৈদ্যুতিক সুইচ ও পানির ট্যাপ ভালভাবে বন্ধ করুন। ফ্রিজে খাবার না রাখাই ভাল। টাকাপয়সা ব্যাংকে রাখাই নিরাপদ। মূল্যবান জিনিসপত্র সুরক্ষিত করে বাসা থেকে বের হউন। ব্যক্তিগত গাড়ী নিরাপদ স্থানে পার্কিং করে আসুন। বিশ্বস্ত হলে রুমের দরজাজানালা বন্ধ করে চাবি বাড়ীওয়ালাকে দিয়ে আসতে পারেন, যাতে কোন দুর্ঘটনায় আপনার জিনিসপত্র নিরাপদে রাখতে পারেন। আগেভাগেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, আত্মীয়স্বজনদের জন্য কেনা  উপহার সামগ্রী, রাস্তায় প্রয়োজনীয় খাবার ও পানি গুছিয়ে রাখুন। ভ্রমণের সময় জরুরী প্রয়োজনীয় জিনিস ছাড়া অতিরিক্ত জিনিসের বোঝা না নেওয়াই উত্তম। প্রেস্ক্রিপশন, ফার্স্ট এইড বক্স এবং ওষুধ সংগে নিন। কারণ গ্রামে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং ওষুধপত্র সচরাচর পাওয়া যায়না।

বাসা থেকে বের হওয়ার সময় অবশ্যই যানবাহনের টিকিট সংগে নিতে ভুলবেন না। আই.ডি কার্ড বা নাম ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর সম্বলিত একটি চিরকুট হলেও সংগে রাখুন। পথে বিপত্তি এড়াতে ভ্রমণের সময় পুরাতন লক্কড় ঝক্কড় অচল গাড়ীতে না উঠা। গাড়ীর কন্ডিশন ভাল ও গাড়ীর চালকের বৈধ কাগজ আছে কিনা আগে থেকেই দেখে নিন। চালককে রাস্তায় গাড়ী দ্রুত চালাতে পীড়াপীড়ি না করা।  কয়েক যানবাহ একসাথে পাল্লা না দিয়ে চালানো। রাস্তায় চালককে ট্রাফিক আইন মানতে বাধ্য করুন। কারণ একটি দুর্ঘটনা সারা, জীবনের জন্য কান্না! মালিকগন অতিরিক্ত লাভের আশায় আপনার মূল্যবান গাড়ী খানা দুর্ঘটনার মুখে ঠেলে দিবেননা। ধারণ ক্ষমতার বেশী যাত্রী গাড়ীতে না উঠা। প্রয়োজনে ঈদের দিন বা ঈদের পরের দিন ভ্রমণ করুন। শিশুদের দরজা জানালার পাশের সিটে বসতে না দেয়া। রাতের বেলায় প্রয়োজন না হলে দরজা জানালা বন্ধ রাখা। চলন্ত যানবাহনে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে সেলফি না তোলা।

চলার পথে অপরিচিতজনের দেওয়া কোন কিছু না খাওয়া। একা একা রাতের বেলায় খালি কোন যানবাহনে না উঠা। রেল, বাস-ট্রাক ও লঞ্চ-স্টিমারের ছাদে অবশ্যই না উঠা। লঞ্চ স্টিমারের স্টাফকে বলুন নৌ-দুর্ঘটনা এড়াতে লঞ্চ-স্টিমারের ডেকের ভিতর ভারী মালামাল রাখতে। আবহাওয়া অফিসের নির্দেশ অবশ্যই মেনে চলুন। ঝড় জলোচ্ছ্বাস দেখলে লঞ্চ-স্টিমার নদীর তীরে নোঙর করতে বলুন। চলন্ত বাস, ট্রেন ও লঞ্চ-স্টিমারে না উঠা। তাড়াহুড়া নয়, যানবাহন থামার পর সব জিনিসপত্র বুঝে নিয়ে নিরাপদে আস্তে করে নামুন। গ্রামগঞ্জে স্বল্প আয়ের যানবাহন চালকরা দুই টাকা বেশী দিলে খুব খুশি হয়। আর তাতে আপনারও মন ভাল থাকবে।

বাড়ি পৌঁছে হাতমুখ ধুয়ে বিশ্রামের পর হালকা খাবার খেলে ভাল। খাবার ও ঘুমের ব্যাপারে স্বাস্থ্য সচেতন থাকুন। আপনার সন্তানদের অন্য শিশুদের সাথে মিশতে দিন তাতে শিশু সামাজিক হতে শিখবে। অনেকেই গ্রামের বাড়ী বেড়াতে গিয়ে শিশুদের সাঁতার শেখায়। অবশ্যই অভিভাবকের উপস্থিতি ও তত্তাবধানে শিশুরা সাঁতার শিখবে। যে গ্রামের মাটি, পানি ও আলো বাতাস পেয়ে আপনি বড় হয়েছেন তার উন্নয়নে সুচিন্তিত পরামর্শ ও সহযোগীতা করে কিছুটা হলেও ঋণ শোধ করতে সচেষ্ট হউন। গ্রামবাসী আপনার বিত্ত বৈভব কোনকিছুই চায়না। কিন্তু আপনি একটু খোঁজ খবর নিলেই তারা মহা খুশি।

ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার পূর্বে বাড়ীতে বৃদ্ধ মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তান ও ভাইবোনদের চিকিৎসক দেখিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র কিনে দিয়ে আসুন। তাহলে শহরে থাকার সময় আপনার বাড়ী নিয়ে দুশ্চিন্তা কম হবে। স্বাস্থ্যকর ভ্রমণের জন্য এইসব সতর্কতার ব্যাপারে সচেতন হলে আপনার ঈদ হবে অনেক অনেক আনন্দের। আপনার ঈদ ভ্রমণ সুন্দর, আনন্দময় ও নিরাপদ হউক। আমিন।
সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা! ঈদ মোবারক!



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

কলাম বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৪৩ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই