তারিখ : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, শুক্রবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

ভূমি দালাল থেকে ভূমিদুস্য পরে শিল্পপতি এখন রাজনীতিবিদ-হাজী সানি

ভূমি দালাল থেকে ভূমিদুস্য পরে শিল্পপতি এখন রাজনীতিবিদ-হাজী সানি
[ভালুকা ডট কম : ১৯ আগষ্ট]
জীবনের প্রথম শুরুটা জমির দালালি দিয়েই হাতে খড়ি সেই নব্বইয়ের দশক থেকে তার পর আস্তে আস্তে বনের জমি দখল বিক্রি করে কোটিপতি তার পর আর কি দেখতে দেখতে শিল্পপতি কারণ আমাদের দেশে চাটুকারের তো আর কমতি নেই ভূমিদুস্য,ভূমি দালাল পরিবর্তে হয়ে গেলেন শিল্পপতি । প্রবাদ আছেনা ভাত ছিটালে কাকের অভাব হয়না এরই একটা জলন্ত উদাহারন , আমি বলছিলাম ভালুকার হবিরবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ভূমিদুস্য, ভূমি দালাল থেকে শিল্পপতি এখন যার পরিচিতি রাজনীতিবিদ জ্বনাব মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের কথা ।তার আরও কিছু পরিচয় আছে যা আমি আস্তে আস্তে লেখার মধ্যে বিস্তারিত তুলে ধরতে চেষ্টা করব ।

ভূমিদুস্য থেকে শিল্পপতি :
ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী এলাকাবাসীর মতে মোঃ মোর্শেদ আলম প্রথম দিকে যখন ভালুকাতে উন্নায়নের ছোয়া লাগছিল ছিল তখন সে বিভিন্ন কোম্পানির জন্য জমির দালালি করতে থাকেন পরে পট পরিবর্তে ভালুকা বিএনপির সভাপতি ফখর উদ্দিন আহাম্মেদ বাচ্চুর সমর্থনে হবিরবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবার পর চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় হবিরবাড়ীর ভিবিন্ন মৌজার বনের জমি জবরদখলের মাধ্যমে রাতারাতি গড়ে তুলেটাকার পাহাড় আর বনে যান শিল্পপতি।

হবিরবাড়ী এলাকাবাসীর অভিযোগ মতে হবিরবাড়ী মৌজার ১৫৪ নম্বর দাগের ১৯ একর ৪১ শতাংশ জমি,কাশরগড় মৌজার ২৪নং দাগে ২একর২৩শতাংশ বিরোধপূর্ণ জমি জবরদখলের অভিযোগে রয়েছে তা ছারা ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ীর রেঞ্জ কর্মকর্তা,বিট কর্মকর্তাদের তথ্য মতে হবিরবাড়ি মৌজায় ১৮৫নং দাগে মোট ২শ একর ৫৬শতাংশ জমির মধ্যে বনের ১৮০একর ৪৬শতাংশ জমি যা হবিরবাড়ি রেঞ্জে অফিসের সামনে ঢাকা ময়মনসিংহ মহা সড়কের পাশে যা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা মোর্শেদ আলম কনস্টাকশন শুরু করলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেঞ্জ কর্মকর্তা যা বর্তমানে মহামান্য হাইকোর্টের একক বেঞ্জের রিট চলছে এছাড়াও মোর্শেদ আলমের বিরুদ্ধে হাবরবাড়ি মৌজার ১৫৪ নম্বর দাগে বনবিজ্ঞপ্তিত প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের দেড় একর জমি দখলের অভিযোগ সহ বনের জমি জবরদখলের অভিযোগে মোর্শেদ আলম এর বিরুদ্ধে বন আইনে ১০/১২ টি মামলা রয়েছে যার মধ্যে ৯০৩/১৬ নং একটি মামলায় তাহার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা ছিল ঐ মামলায় দির্ঘদিন যাবৎ সে পলাতক থাকার পর ১৬ আগষ্ট বুধবার দুপুরে বন আদালতে হাজির হয়ে এ্যাডভোকেট এর মাধ্যমে জামিন প্রার্থনা করিলে ময়মনসিংহের বন আদালতের ম্যাজিষ্টেট হাফিজ আল আসাদ জামিন না মুঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। পরে বিকালে জেলা দায়রা জজ আদালতে তাহার আইনজীবি পুনরায় জামিন চাইলে ২ ঘন্টা পর জেলা দায়রা জজ ড. আমির উদ্দিন আহাম্মেদ তাহার জামিন মুঞ্জুর করেন।

শিল্পপতি থেকে রাজনীতিবিদ :
ভালুকার চৌধুরী বংশের পারিবারিক দ্বন্ধে যখন ভালুকার বিএনপি মৃত তখন এই মৃত সংগঠনের হাল ধরেন ফখর উদ্দিন আহাম্মেদ বাচ্চু আর তারই নেতৃত্বে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি গঠনের সময়ই বিএনপির রাজনীতিতে আবির্ভাব ঘটে ফখর উদ্দিন আহাম্মেদ বাচ্চুর হাত দরে এক সময়ের ভূমিদুস্য, ভূমি দালাল পরে টাকার পাহাড় গড়ে শিল্পপতি এখনকার রাজনীতিবিদ মোঃ মোর্শেদ আলমের ।বর্তমানে সে ভালুকা উপজেলা বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক, ময়মনসিংহ (দক্ষিণ) জেলা বিএনপি’র সহ সাধারণ সম্পাদক।

ভালুকার বিএনপির রাজনীতি বর্তমানে ষ্পষ্টতই দুই ভাগে বিভক্ত রয়েছে একটি কে জিয়ার আদর্শের মূল বিএনপি অন্যটিকে টাকার আদর্শের বিএনপি ও বলা যেতেপারে। এক দিকে ফখর উদ্দিন আহাম্মেদ বাচ্চুর জিয়ার আদর্শের মূল বিএনপি অপর দিকে শিল্পপতি মোঃ মোর্শেদ আলমের টাকার আদর্শের বিএনপি। দলের মুল অংশ জিয়ার আদর্শের মূল বিএনপি ফখর উদ্দিন আহাম্মেদ বাচ্চুর সাথে অবস্থান করছে।কারন ফখর উদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চু ভালুকার বিএনপির রাজনীতিকে সংগঠিত করেছেন। বিগত আন্দোলনে মাঠে নেমে মিছিল মিটিং করেছেন। আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি এ পর্যন্ত ২২টি মামলা খেয়েছেন জেল খেটেছেন দলের জন্য। পক্ষান্তরে মোর্শেদ আলমের বিরুদ্ধে কোন রাজনৈতিক মামলা নেই যে কয়েকটি মামলা আছে সে গুলো বিভিন্ন কোম্পানির নামে বনের জমি দখল করতে গিয়ে বনের মামলা।

মুহাম্মদ মুর্শেদ আলম বিগত দিনে বিএনপির কোন প্রকারের কর্মসূচীতে মূল দলের সাথে অংশ গ্রহন না করে এবং অনেক বার দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে যা পত্রিকার পাতার এখনকারও আলোচনার বিষয় হয়। গত ২৮ অক্টোবর ১৮ দলীয় জোটের ডাকা হরতালের দ্বিতীয় দিনে ভালুকায় বিএনপি নেতা দলের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে হরতাল পালন না করে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করে দল এবং সেই সময় দলের বাইরের মহলে ব্যাপক আলোচনায় রয়েছে ভালুকা উপজেলা শাখার শিল্পবিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ মুর্শেদ আলম আ’লীগের জন্য কাজ করছেন। ঘটনার পর পরই বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এ ঘটনার পর জেলা বিএনপি এক জরুরী সভা আহবান করে দলীয় ভাবমূর্তি নষ্ট এবং শৃঙ্খলা অভিযোগের  পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমকে তার দলীয় পদবী ব্যবহার না করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) ময়মনসিংহ (দক্ষিণ) জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ স্বাক্ষরিত এক চিঠির সুত্রে তা জানাযায়।

মোঃ মোর্শেদ আলম হবিরবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় ইউনিয়নের সাধারণ জনগণের সাথে সে তেমন কোন যোগযোগ রক্ষা করেনি। এমনি সাধারণ মানুষের মোবাইল ফোন পর্যন্ত রিসিভ করেন নি। জনপ্রতিনিধি হওয়ার পর সাধারণ মানুষ হতাশ হয়েছে। জনগণ তারই জাবাব দিয়ে ছিল উপজেলা নির্বাচনে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ধানের শীষ বিজয়ী হলেও মোর্শেদ আলম তার নিজ ইউনিয়নে লজ্জাজনক ভাবে হেরেছেন। তিনি যদি এম,পি হন তাহলে ভালুকার মানুষ তাকে চোখে দেখার জন্য মসজিদে সিন্নি দিতে হয়ে বলে তার এলাকার এক ভোটার মন্তব্য করেন। বনের জমি দখলকারী হিসাবে তার বেশ পরিচিতি রয়েছে নিজ ইউনিয়নে।

স্থানীয় আমীর আলীর সাথে নির্বাচনের সময় কথা হলে সে জানান, মোঃ মোর্শেদ আলম যদি বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে আল্লাহ না করুক এমপি হন তাহলে হবিরবাড়ি এক শতাংশ বনের জমি থাকবে না। বর্তমান আ’লীগের আমলে তিব্বত গ্রুপের রিডিশা কোম্পানি নামে আমার জমি সহ বহু বনের জমি দখল করে নিয়ে যাচ্ছে।

ভূমি দালাল থেকে ভূমিদুস্য পরে শিল্পপতি থেকে রাজনীতিবিদ এখন দূর্নীতিবাজ যার প্রমান দিচ্ছে দূর্নীতি দমন কমিশন জেলা কার্যালয় ময়মনসিংহ  বিস্তারিত তথ্য নিয়ে আসছে ৩য় পর্বে বি:দ্র:-হবিরবাড়ির বা আশ পাশের কোন ব্যক্তি যদি মোর্শেদ আলম সম্পর্কে কোন তথ্য দিতে চান তবে ০০৯৬৬৫৬৯৫৭৬৪৭৭ বা ০০৯৬৬৫৪১২৭৭৭৬৭ এই দুটি নাম্বারে একটা কল দিন আমি আপনার সাথে যোগাযোগ করব ।- (চলবে)



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

কলাম বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৪৩ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই