তারিখ : ২৫ জুন ২০১৮, সোমবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

রস নামাই,সিঙ্গা লাগাই,দাঁতের পোকা ফেঁলাই

রস নামাই,সিঙ্গা লাগাই,দাঁতের পোকা ফেঁলাই
[ভালুকা ডট কম : ১১ ডিসেম্বর]
এই দাঁতের পোকা উঠাই, পিঠের ব্যথা, পেটের ব্যথা, হাঁটুর ব্যথায় শিঙ্গা লাগাই, শিঙ্গা-আৃ এই শিঙ্গা টানি, মাজা টানি, মাজা ব্যথা, দাঁতের ব্যথা, দাঁতের পোকা ফেলাই-ই-ইৃবিভিন্ন সুরেলা কন্ঠে, আকর্ষণীয় বাচনভঙ্গিতে বেদে মেয়েরা গ্রাম থেকে গ্রামে বিচরণ করে থাকে। শুধুমাত্র পেটের একমুঠো ভাত জুগানোর জন্যে। আবার কোন কোন বেদেনী সুরে সুরে গায়- মোরা এক ঘাটেতে রান্দি বাড়ি আরেক ঘাটে খাই, মোদের সুখের সীমা নাই, পথে ঘাটে ঘুরে মোরা সাপ খেলা দেখাই, মোদের ঘর বাড়ি নাই।

রবিবার ময়মনসিংহের ভ্রন্মপুত্র নদীর চরে কয়েকমাস যাবৎ অস্থায়ীভাবে বসবাসরত বেদে পাড়া থেকে ঘুরে এসে জানা যায় বিচিত্র রকমের তথ্য। একই সাথে দেখা যায় কত বিচিত্র রকমের জীবনযুদ্ধের মাঝে মোকাবিলা করে অতিবাহিত হয় তাদের প্রতিটি ক্ষন। কথা হয় বগুড়া থেকে আসা সাপুরে সর্দার বাদশা (৫৬) মিয়ার সাথে। খুব চৌকুস সাপুরে। তিনি জানান, তার কাছে রয়েছে বিষাক্ত দুধরাজ, বাতরাজ,ধারাইজ, খয়া গুক্কুর, মাইটা গুক্কুর। দেখতে চাইলে তৎক্ষনাৎ সাপের বাক্স থেকে বের করে সাপের খেলা দেখাতে শুরু করেন।

বাদশা জানান, ইতিমধ্যে সানকিপাড়া কেন্টনমেন্টে সাপের খেলা দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা পেয়েছেন। তোরাব আলী(৪৫) নামে আরেক সাপুরে  জানান, তিনিও ভালো সাপ ধরতে জানেন। বগুড়া থেকে এসেছেন তিনি। তবে সাপ ধরে তিনি সেই সাপগুলো অন্য সাপুরের নিকট বিক্রি করে দেন। বর্তমানে তার নিকট কোন সাপ না থাকলেও রয়েছে খেলা দেখানোর জন্যে অভিজ্ঞ তিনটি বানর। হুকুম পেলেই সালাম দেওয়া থেকে আরম্ভ করে দর্শনার্থীর সাথে হাত মিশিয়ে মোলাকাত করতে শুরু করে। নানারকম আকর্ষনীয় স্টাইলে বানরগুলো তার অঙ্গভঙ্গিতে খেলা প্রদর্শন করে থাকে।

এছাড়া বিভিন্ন বেদেদের সাথে কথা বলে জানা যায়-বেদেরাই সাধারণত সাপ ধরে। বন-জঙ্গল, ঝোপঝাড় থেকে পুরুষ বেদেরা সাপ ধরে নিয়ে আসে। বেদেনীরাও সাপ ধরতে পারে। ঢোঁরা সাপ, ঘরচিতি, লাউডগা, কালনাগিনী ইত্যাদি সাপ সাবলীলভাবে ধরতে পারে। তবে সবাই সাপ ধরতে পারে না। উগ্র মেজাজের এবং ভয়ঙ্কর বিষাক্ত দাঁড়াশ, কালকেউটে, গোখরা, শঙ্খিনী জাতের সাপ তারা অন্য বেদের কাছ থেকে কিনে নেয়। সাপ খেলা দেখানোর জন্য এ ধরনের সাপের দরকার হয়। সুরেলা গলায় গান গেয়ে তারা সাপের খেলা দেখায়। সাপ খেলা দেখানোর সময় কালনাগিনী সাপকে বেদেনী বাহুতে বিংবা গলায় পেঁচিয়ে রাখে। কালনাগিনী বেদেনীদের ভীষণ পছন্দের সাপ। এই সাপের রঙ-রূপ-স্বভাব বেদেনীরা অনুকরণ করে। তাদের সাজসজ্জায় ও আচরণে তার প্রকাশ ঘটায়। এমনকি হাঁটার সময় পা দু’টি সমান্তরালে এগিয়ে কোমর দুলিয়ে চলতে দেখা ।

অপরদিকে বেদেদের বসবাসের জন্যে অস্থায়ীভাবে  নির্মাণকৃত ঘরগুলো পর্যবেক্ষন করে দেখা যায়-  এদের কুঁড়ে ঘরের ছাউনি হয় শত ছিন্ন পলিথিন কিংবা নাইলনের অথবা সিমেন্টের ব্যাগে। আর খেজুর পাতার পাটি দিয়ে তৈরি বিছানা। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ হেমন্ত ও বসন্ত সব ঋতুতেই ছেলেমেয়ে, স্ত্রী, পরিজন নিয়ে অবস্থান করে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস। জীবিকার সন্ধানে ওরা খুঁজতে থাকে আরো কত কিছু। পুকুর, ডোবা বা জলাশয়ে কারো স্বর্ণ-রূপা হারিয়ে গেলে উদ্ধার করে দেয় তারা। নানা প্রতিকূলতার মোকাবেলা করে বেঁচে থাকে এরা। অবহেলিত এই বেদে-বেদেনিরা সভ্য মানুষের চোখের সামনে দিয়ে অবলীলাক্রমে এদের জীবন কাটলেও কোনো মানুষই তাদের জীবন নিয়ে ভাবে না অথবা তাদের পুনর্বাসনের কথা কেউ চিন্তাও করে না। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করানোর ইচ্ছা থাকলেও পরিবেশ ও পরিস্থিতির কারণে সম্ভব হয় না। যা আয় হয় তা দিয়ে কোনোমতে দিন কাটে। কঠিন রোগ হলে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। ঝাড়ফুঁকে সারলে তো ভালোই অন্যথায় মৃত্যু অনিবার্য। এ ছাড়া তারা তাবিজ-কবচও বিক্রি করে। বছরের বেশির ভাগ সময় বিশেষ করে ফসল তোলার মৌসুমে ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে তারা বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জে পরিভ্রমণ করে। এই পরিভ্রমণকে বেদেদের ভাষায় গাওয়াল বলে। মহিলারাই বেশি গাওয়ালে যায়।

বেদে মহিলারা জানান-বিয়ের ব্যাপারে বেদে যুবক-যুবতীর পূর্ণ স্বাধীনতা থাকে। বিয়ের পর স্বামী স্ত্রীর ঘরে যায় এবং স্ত্রীকে স্বামী ও সন্তানের লালন-পালনের জন্য ওয়াদা করতে হয়। বেদেদের নাচ-গানের আসরে বহিরাগত কেউ উপস্থিত থাকলে তাকে প্রলুব্ধ করে বেদে তরুণীকে বিয়ে করার জন্য উৎসাহিত করা হয়। বিয়ে হয়ে গেলে তাকে নিজেদের গোত্রে রেখে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বহিরাগত কোনো যুবক বেদে যুবতীকে ফুসলিয়ে বিয়ে করলে তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। এদের সমাজে বহুবিবাহ, বাল্যবিবাহ ও যৌথ পরিবার প্রথা নেই। বিধবা বিবাহে কোনো বাধা নেই। মুসলমান হলেও বেদে মেয়েরা পর্দা করে না। মহিলারা অত্যন্ত স্বাধীনচেতা ও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ছাড়াছাড়ি হলে সম্পত্তি, এমনকি পুত্র-কন্যারও বিভাজন হয়, যার বেশির ভাগ পায় স্ত্রী।#






সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

লাইফস্টাইল বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ২০৭ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই