তারিখ : ২৫ জুন ২০১৮, সোমবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

রাণীনগরে ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

রাণীনগরে ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা
[ভালুকা ডট কম : ২৫ এপ্রিল]
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। তবে পুরোদমে ধান কাটা মাড়াই শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন সময় লাগবে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে যথা সময়ে কৃষকরা ভাল পরিচর্যা করায় ও আবহাওয়া এখন পর্যন্ত ধান চাষের অনুক’লে থাকায় এবছর ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ধান কাটার শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষকদের মুখের হাঁসিটি অম্লান হয়ে গেছে।

জানা গেছে, পূর্বের বছরগুলোতে এই সময় দেশের দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চল বিশেষ করে ভেরামারা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, পোড়াদহ, চিলাহাটি, ডোমারসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ধান কাটা শ্রমিকরা এই এলাকাগুলোতে আসে। কিন্তু দেশের সেই সব এলাকাগুলোতেও ধান চাষ শুরু হওয়ায় শ্রমিকরা এখন আর তেমন আমাদের এই এলাগুলোতে আসে না। তাই প্রতি বছর ধান চাষীতে চরম শ্রমিক সংকটে পড়তে হয়।

এবছরের শুরুতে কৃষকদের পড়তে হয়েছে চরম শ্রমিক সংকটে। সম্প্রতি হয়ে যাওয়া ঝড়ে পড়ে যাওয়া ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছে কৃষকরা। এই ধানগুলো কাটার জন্য শ্রমিক না পাওয়ায় চরম হতাশায় রয়েছে এলাকার কৃষকরা। হয়তো বা শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষকরা সময়মতো তাদের স্বপ্নের ধানগুলো ঘরে তুলতে পারবেন কি না বর্তমানে এই ভয়ই এলাকার কৃষকদের মনে। তারপরও যে সব স্থানীয় শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে গুনতে হচ্ছে দ্বিগুন শ্রমিক মূল্য। শ্রমিক খরচটা আরও সহজলভ্য হলে এলাকার কৃষকরা ধান চাষ করে আরও অনেক লাভবান হতো। তাই কৃষকরা পড়ে গেছে মহাবিপদে।  ইতিমধ্যেই রাণীনগর উপজেলা বিভিন্ন গ্রামে চলতি ইরি-বোরো ধান কাটার জন্য কিছু কিছু বিদেশী শ্রমিকরা আসা শুরু করেছে।

উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে দিগন্ত জুড়ে পাকা ধানের সোনালী রঙের সমারাহ। যতদূর চোখ যায় শুধু পাকা ধানের সোনালী রঙের চোখ ধাঁধানো দৃশ্য দেখা যায়। মাঠ জুড়ে পাকা ধান বলে দিচ্ছে গ্রাম বাংলার কৃষকের মাথার ঘাম পায়ে ফেলা ইরি-বোরো ধান চাষের দৃশ্য। চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো ধানের ভাল ফলনের বুকভরা আশা করছে কৃষকরা। বাজারে নতুন ধানের আমদানি হওয়ায় কেনা-বেচা শুরু হলেও দর ভাল থাকাই কৃষকদের মুখে হাঁসি দেখা দিয়েছে। জিরা জাতের সুরু ধান মান ভেদে ৮শ’ ৭০টাকা পর্যন্ত হাটে-বাজারে বেচা-কেনা হচ্ছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে ৮টি ইউনিয়নে ১৮হাজার ৪শ’ ২৫হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষি অফিসের পরামর্শে সঠিক সময়ে চারা লাগানো, নিবিড় পরিচর্যা, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, যথা সময়ে সেচ দেওয়া, সার সংকট না থাকায় উপজেলার কৃষকরা জিরাশাইল, খাটো-১০, স্বর্ণা-৫ জাতের ধান চাষ করেছেন। নতুন ধান কাটার শুরুতেই বিঘা প্রতি ২০-২২ মন হারে ধান উৎপাদন হচ্ছে।

নওগাঁর ছোট যমুনা নদী বেষ্টিত নিম্নাঞ্চল হওয়ায় উর্বর পলি মাটির জমিতে ইরি-বোরো ধান ব্যাপক আকারে চাষ করা হয়েছে। এছাড়াও বিল মুনসুর, বিল চৌর, সিম্বা, খাগড়া, আতাইকুলা, গোনা, রক্তদহ বিল, একডালা, কালিগ্রাম, রাতোয়াল, ভাটকৈ মাঠে পাকা ধানের সোনালী রং চোখে পড়ার মতো।

উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের কৃষক মো: আব্দুল জলিল জানান, আমি এবছর ৬ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। কৃষি বিভাগের পরামর্শ যথা সময়ে ভাল পরিচর্যা করায় আমার জমিতে ধান ভাল হয়েছে। ইতিমধ্যেই ধান কাটা শুরু করেছি ফলন ভালই হচ্ছে। কিন্তু সমস্যা একটাই ধান কাটার শ্রমিক সংকট। দিন যাচ্ছে আর এই সমস্যা প্রকট আকার ধারন করছে। ধান কাটার সময় এলেই আমাদের মন খারাপ হয়ে যায়।

উপজেলার আবাদপুকুর হাটের ধান ব্যবসায়ী মো: বছির আলী মিঠু জানান, রবিবার হাটে তেমন ধান আমদানি শুরু হয়নি। তবে টুকটাক বেচা-কেনা হয়েছে, জিরা জাতের ধান প্রতিমন মানে  ৮শ’ ৫০থেকে ৭০টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হয়েছে। আশা করছি দুই চার দিনের মধ্যে পুরোদমে ধান আমদানি শুরু হবে।

রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এসএম গোলাম সারওয়ার জানান, ইরি-বোরো ধান লাগানোর শুরু থেকে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তি সময়ে আবহাওয়া ভালো থাকলে ও বাজারে ধানের ভাল দাম বর্তমান থাকলে কৃষকরা লাভবান হবেন। তবে শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষকরা একটু সমস্যায় পড়েছেন।#






সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

কৃষি/শিল্প বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ২০৭ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই