তারিখ : ১৮ জুন ২০১৮, সোমবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নান্দাইলে কর্মসৃজন প্রকল্পের দৈন্যদশা,ফেরত ৮ কোটি টাকা

নান্দাইলে কর্মসৃজন প্রকল্পের দৈন্যদশা,অনিয়ম, গাফিলতিতে ফেরত প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা
[ভালুকা ডট কম : ৩০ মে]
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে  অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান (ইজিপিপি) কর্মসূচির ১ম পর্যায় শেষে ২য় পর্যায়েও প্রকল্পে দৈন্যদশা চলছে। অনিয়ম, গাফিলতি ও চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সাথে আওয়ামীলীগ দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে কর্মসৃজন প্রকল্পের শ্রমিকের অংশ ভাগাভাগি নিয়ে সমন্বয় না হওয়ার কারনে কাজ না হওয়ায় ১ম ও ২য় দফা মিলিয়ে প্রায় সাড়ে আট কোটি টাকা ফেরত যাচ্ছে সরকারী কোষাগারে।

ইতিমধ্যে কর্মসৃজন প্রকল্পের ১ম ধাপে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মাঝে ৪টি ইউনিয়নে আংশিক ও বাকী ৮টি ইউনিয়নে কোন কাজ না হওয়ায় ৪ কোটি ৭ লাখ ৫৪ হাজার টাকা সরকারী কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কর্মসৃজন প্রকল্পের ২য় দফা ৪০দিনের কর্মসূচী ২৫শে মার্চ থেকে শুরু করে ২৫শে মে পর্যন্ত শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২য় ধাপে মাত্র ৫টি ইউনিয়ন যথাক্রমে বেতাগৈর, মোয়াজ্জেমপুর, সিংরইল, শেরপুর ও জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নে আংশিক কাজ হয়েছে। বাকী ৭টি ইউনিয়নে কোন কাজ হয়নি এবং প্রকল্প অনুমোদিত হয়নি যার ফলে আবারও কর্মসৃজন প্রকল্পের ২য় পর্যায়ের টাকা কাজের সময় বর্ধিত না হলে সরকারী কোষাগারে ফেরত যাবে। এছাড়া যেসমস্ত ইউনিয়নে কাজ হয়েছে সে এলাকায় কাজের বিবরণসহ সাইন বোর্ড থাকার কথা থাকলেও অদ্যাবধি তা দেয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাগেছে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ২য় দফায় ৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা বরাদ্দে  ৫৯৫০ জন শ্রমিক নিয়োগ করার কথা ছিল। চেয়ারম্যান, মেম্বার ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় না হওয়ায়  এবং সময়মতো প্রকল্প তালিকা প্রদান না করায় কাজ করা সম্ভব হয়নি বলে জানাযায়। যার ফলে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জনসাধারণ। এটা নান্দাইলবাসীর জন্য দূর্ভাগ্যজনক। এছাড়া যেসস্ত ইউনিয়নে কর্মসৃজন প্রকল্পের আংশিক কাজ হয়েছে সেগুলোতেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকল্পের শ্রমিক তালিকায় ভুয়া শ্রমিকের নাাম পাওয়া গেছে। এরা কোনো কাজ না করেই সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে কাজের মজুরি উত্তোলন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাফিজুর রহমান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার এবি এম সিরাজুল হক জানান,সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি শুরু থেকেই বাস্তবায়ন করার জন্য তারা চেষ্টা করেছেন। কিন্তুু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা একমত হতে পারেননি।

নান্দাইল উপজেলার একাধিক ইউনিয় পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, আওয়ামীলীগ দলীয় নেতাকর্মীরা ৪৫% শ্রমিকের তালিকা চাওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ তা দিতে রাজি হয়নি। ফলে নান্দাইল উপজেলায় ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে কর্মসৃজন প্রকল্পে এই বেহলা দশা বিরাজ করছে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হাসান মাহমুদ জুয়েল বুধবার এই প্রতিনিধিকে জানান,আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে ৪৫% শ্রমিক চাওয়ার চেয়ারম্যানদের অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে কর্মসৃজন প্রকল্পের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটির সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার জন্য আমরা বলেছি। কারন সরকারী উন্নয়নের টাকা অপচয় হোক তা আমরা দিতে পারিনা।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক চৌধুরী স্বপন জানান,তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করেও বিষয়টি ফয়সালা করতে না পারায় নান্দাইল উপজেলার বরাদ্দ থেকে এই বিশাল অংকের টাকা ফেরত যাচ্ছে যা দুঃখজনক।

ময়মনসিংহ-৯ নান্দাইল আসনের সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল আবেদীন খাঁন তুহিন জানান,বিগত ৪টি অর্থ বছরে সুন্দরভাবে কাজ হয়েছে, বর্তমান অর্থ বছরের শুরু থেকেই কতিপয় চেয়ারম্যান নিজেদের স্বার্থে এই প্রকল্পে গোলমাল পাকিয়েছেন। আমি সমন্বয়ের চেষ্টা করেছি। সরকারী টাকা কাজ না করে উত্তোলন করে আত্মসাত করা হোক আমি এর পক্ষে না।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এবিএম সিরাজুল হক বলেন,বার বার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রকল্পের নাম ও শ্রমিকের নাম জমা দেওয়ার জন্য চিঠি ও মৌখিকভাবে বলা হলেও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা তা করতে ব্যর্থ হওয়ায় নান্দাইল উপজেলায় এই প্রকল্পের প্রায় সাড়ে আট কোটি টাকা ফেরত যাবে।

অপরদিকে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন নান্দাইল উপজেলা শাখার সভাপতি এডভোকেট মকুবল হোসেন সরকার জানান, অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন প্রকল্পের প্রায় সাড়ে আট কোটি টাকা ফেরত যাওয়ায় নান্দাইলের অতি দরিদ্র মানুষের কাজ করার অধিকার ক্ষুন্ন হয়েছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরজমিন তদন্ত করে এরজন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবী জানাচ্ছি। #

 






সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ২০৪ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই