তারিখ : ১৬ নভেম্বর ২০১৮, শুক্রবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

ভালুকায় ভিজিএফ বিতরণে অনিয়ম,পিআইও কর্তৃক ধামাচাপার চেষ্টা

ভালুকায় ভিজিএফ বিতরণে অনিয়ম,পিআইও কর্তৃক ধামাচাপার চেষ্টা,৩টন চাল জব্দ     
[ভালুকা ডট কম : ১৭ জুন]
ভালুকা উপজেলার উথুরা ইউনিয়নে ভিজিএফ এর কার্ড স্থানীয় আ’লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের দিয়ে বিতরণ করা হয়েছে । ঈদের দিন ও পর দিন উথুরা বাজারের দুই ব্যবসায়ীদের দোকান থেকে ৬০বস্তা (৩টন) চাল জব্দ করেছে পুলিশ । এ ঘটনায় মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা (পিআইও) মনিরুল ইসলাম রেজা বিষয়টি ধামা চাপা দেয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সূত্রে জানা যায়, ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এক জন দরিদ্র মানুষকে ১০ কেজি করে ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে সরকারি চাল বিনামূল্যে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিতরণ করার কথা রয়েছে। উপজেলার উথুরা ইউনিয়ন মোট ৪হাজার,৭শত,২০টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ পায়। সেই কার্ড স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রহমান তালুকদার বাচ্চু তার ইউনিয়নে বিতরণের জন্য ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি শামসুল হক চৌধুরীকে ১হাজার কার্ড,প্রতি পুরুষ মেম্বার ৩০০ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য ৩০০টি করে ভিজিএফ কার্ড দেন।

চাল বিতরণে বিশৃংখলা দেখা দেয়ার পর ঈদের দিন সন্ধ্যায় উপজেলার উথুরা বাজারে  হাফিজুলের দোকানে ২০/২৫বস্তা চাল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ জব্ধ করে এবং তাঁর দোকানে তালা লাগিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশের সাথে ভালুকা উপজেলা পরিষদের পিআইও উপস্থিত ছিলো। পর দিন রবিবার দুপুরে উথুরা বাজারের সরকারি শেডের ক্ষুদ্র চাল ব্যবসায়ীর  একটি দোকান থেকে আরও ৩৮বস্তা চাল পুলিশ জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

শনিবার রাতে পিআইও মনিরুল ইসলাম রেজা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হাফিজুলের ঘরে বিজিএফ এর চাল  পাওয়ার পর বিষয়টি ধামা চাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয় জনতার চাপের মুখে হাফিজুলের দোকানে একটি নতুন তালা লাগিয়ে পুলিশের কাছে ঘরটি বুঝিয়ে দিয়ে চলে আসেন। তিনি ঘটনাস্থল থেকে এসে উপজেলা নির্বাহী অফিসাকে অবগত করেন যে চাল পাওয়া গেছে সেই গুলো ভিজিএফ এর চাল না।

উথুরা ইউনিয়নের ৯নং মরচি এলাকার ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন,চাল বিতরণের সময় আমরা ছিলাম না।দুই একজন ইউপি সদস্য থাকলেও তাদেরকে কোন মূল্যায়ন করা হয়নি।চেয়ারম্যান তার নিজস্ব লোক দিয়ে চাল বিতরণ করেছে।এক সময় কার্ডধারীরা চাল না পেয়ে পরিষদের সামনে আন্দোলন শুরু করলে আমি ৬৫ টি কার্ড সংগ্রহ করেছি।

স্থানীয় মানুষের অভিযোগ,চাল বিতরণের সময় বাচ্চু চেয়ারম্যান স্থানীয় আ’লীগের নেতাদের দিয়ে চাল বিতরণ করেছেন। দুই এক জন ইউপি সদস্য উপস্থিত থাকলেও তাদের কোন ভূমিকা ছিলো না। ১০কেজির স্থলে সাড়ে ৭কেজি থেকে ৮কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয় নেতাদের ভয়ে কেউ কোন প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। কারণ বিনা টাকায় যে টুকু চাল, যাই পাওয়া যায় সে টুকুই লাভ।আরও অভিযোগ,ঈদ উপলক্ষে বরাদ্দকৃত ভিজিএফ কার্ড ইউপি সদস্য ও আ’লীগ নেতারা প্রকৃত সুবিধা ভোগিদের না দিয়ে, তারা তাঁদের পরিচিত ও স্বজনদের নামে বরাদ্দ দেন। সে সব কার্ডধারি বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলন করে স্থানীয় উথুরা বাজারে চালের ক্ষূদ্র দোকানীদের কাছে প্রতি কার্ডের চাল ১৫০-১৬০টাকায় বিক্রি করে দেয়।

উপস্থিত জনতারা আরও জানায়, প্রায় হাজার খানেক কার্ডের কোন হদিস নেই তারা কোন চাল উত্তোলন করেননি। রবিবার স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে ৬৫টি কার্ড তাঁদের কাছে আসে,সেই সব কার্ডের চাল উত্তোলন করা হয়নি। অবশ্য চেয়ারম্যন দাবী করছেন ৪হাজার,৭শত,২০কার্ড বরাদ্দ পাওয়া সব কার্ডের বিপরীতে সব চাল গত শুক্রবার বিতরণ করে দিয়েছেন,তার পরিষদে ভিজিএফ কার্ডের কোন চাল বিতরণের বাকী নেই।

হোসেন আলী পিতা সাহেব আলী আকন্দ বলেন,আমার নামে একটি ভিজিএফ এর কার্ড ছিলো সেই কার্ড নিয়ে গত শুক্রবার চেয়ারম্যানের কাছে চালের জন্য গেলে, চেয়ারম্যান জানান চাল দেয়া শেষ হয়ে গেছে পরিষদে আর চাল নেই।উথুরা বাজারের মাছ ব্যবসায়ী ফারুক জানান,আমাদের সামনেই কার্ডধারিরা চাল উত্তোলন করে সেই চাল ১৫০/১৬০টাকা করে আমাদের পাশের দোকানে বিক্রি করে দিয়ে গেছেন।

উথুর ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি শামসুল হক চৌধুরীর মোবাইলে ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।ভালুকা পিআইও মনিরুল ইসলাম রেজার সরকারী নম্বর বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য দেয়া গেল না।

উথুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বজলুর রহমান বাচ্চু বলেন,ভিজিএফ কার্ড বিতরণ কমিটির সদস্য স্থানীয় আ’লীগের সভাপতিসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দও ছিল। সংরক্ষিত নারী মেম্বার,পূরুষ মেম্বার ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের সমন্বয়ে কার্ড বিরতণ করা হয়েছে। যাতে একই ব্যক্তি দুই বার কার্ড না পান। বিতরণের জন্য তিনি আ’লীগের সভাপতিকে যে ১০০০টি কার্ড দেয়া হয়েছে হয়ত সেখান থেকে কিছু কার্ড তিনি সাধারণ মানুষকে তিনি দেননি। চেয়ারম্যান আরও জানান, কার্ডধারীদের আমরা চাল দিয়ে বিতরণ করে দিয়েছি। বাইরে গিয়ে তিনি তার চাল বিক্রি করে দিবে না  বাড়ি নিয়ে যাবে সেটা তাদের ব্যাপার। এটার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ দায়ী না।

ভালুকা মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ ফিরোজ তালুকদার বলেন,কিছু চাল জব্দ করে উথুরা বাজারে একটি দোকানে তালা দিয়ে রাখা হয়েছে। আর ৩৮বস্তা চাল জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

ভালুকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ কামাল বলেন,ঈদের দিন যে চাল গুলো জব্দ করা হয়েছে পিআইও প্রাথমিক ভাবে জানিয়েছিল জব্দকৃত চাল গুলো ভিজিএফ এর না। বিষয়টি আমি তদন্ত করে দেখব, তদন্ত করে যদি দেখা যায় চাল গুলো সবরকারি তাহলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।আর আজকের চাল গুলো একটি দোকান থেকে পুলিশ জব্দ করে থানায় নিয়ে এসেছে।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৩৮ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই