তারিখ : ২৩ জুলাই ২০১৮, সোমবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নওগাঁর হাট-বাজারে শোভা পাচ্ছে জাতীয় ফল কাঁঠাল

নওগাঁর হাট-বাজারে শোভা পাচ্ছে জাতীয় ফল কাঁঠাল
[ভালুকা ডট কম : ০৮ জুলাই]
ছয়ঋতুর দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। কাঁঠাল আমাদের জাতীয় ফল যে ফলের কোন কিছুই নষ্ট হয় না। এই মধুমাসে নওগাঁ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গাছে গাছে ও হাট-বাজারে শোভা পাচ্ছে ক্যান্সার প্রতিরোধক রসালো আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠাল।কাঁঠাল পাকতে শুরু করায় এখন জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে উঠতে শুরু  করেছে সুমিষ্ট রসালো ঘ্রাণ সমৃদ্ধ ফল কাঁঠাল। তবে যে ফলের এতগুন সেই ফলটি বাণিজ্যিক ভাবে চাষ করা হয় না জেলার কোন উপজেলায়। সরকারি বা বেসরকারি বিভিন্ন উদ্যোগই পারে কৃষকদের বাণিজ্যিক ভাবে কাঁঠাল চাষে উদ্বুদ্ধ করতে।

পাকা কাঁঠালের সুগন্ধে মুখরিত হয়ে উঠেছে উপজেলার বিভিন্ন বাড়ি ও বিভিন্ন কাঁঠাল বাগান। মৌমাছিরাও কাঁঠালের ঘ্রাণ নিতে বাগানে ভোঁ ভোঁ শব্দ করে এ ডাল থেকে ও ডালে উড়ে বেড়াচ্ছে। এ যেন মনমুগ্ধোকর এক দৃশ্য।জেলার ১১টি উপজেলার প্রতিটি গ্রামে গ্রামে দেখা গেছে কাঁঠালের বাম্পার ফলন। এসব এলাকার বাড়িতে, রাস্তার ধারে, শহরে ও জঙ্গলের ভেতরে থাকা গাছে ধরেছে প্রচুর পরিমাণ কাঁঠাল। গাছের গোঁড়া থেকে আগা পর্যন্ত শোভা পাচ্ছে সর্বোচ্চ পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এই ফল।

মানুষের অতি প্রিয় ফল ও তরকারি হিসেবে কাঁঠাল যুগ যুগ ধরে কদর পেয়ে আসছে। কাঁঠালের বিচি মানুষের একটি ঐতিহ্যপূর্ণ তরকারি। পাটশাক ও কাঁঠালের বিচির সমন্বয়ে রান্না করা শোলকা দিয়ে এখানকার মানুষ তৃপ্তির সঙ্গে ভাত খেতে পারেন। গবাদিপশুর জন্যও কাঁঠালের ছাল উন্নতমানের গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

আত্রাই উপজেলার মির্জাপুর-ভবানীপুর বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, কাঁঠাল আমার একটি প্রিয় ফল। অত্যধিক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এ ফল আমি প্রতি মৌসুমে বেশি করে খাই। কাঁঠালের কোনো অংশই পরিত্যক্ত থাকে না। এর বিচি তরকারি হিসেবে ও ছাল গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হওয়ায় কাঁঠালের কদর বেড়েছে।

কাঁঠালের কদর ও বহুগুণের এমন কথা জানালেন একই উপজেলার শাহাগোলা গ্রামের মো: আজাদ সরদার, বহুগুণ সমৃদ্ধ এ কাঁঠাল এখানকার হাট-বাজারে এখনও তেমন উঠতে শুরু করেছে। জ্যৈষ্ঠের শেষ ও আষাঢ় মাসের শুরু থেকে এখানকার হাট-বাজারে কাঁঠাল কেনাবেচা পুরোদমে শুরু হবে এমনটি সকলের ধারণা। উৎপাদনে খরচ নেই ও বাজারে চাহিদা থাকায় এ জনপদে কাঁঠালের গাছ রোপণ করে অনেকে কাঁঠাল বিক্রিতে বাড়তি আয় করেন। এখানকার হাট-বাজারে একটি কাঁঠাল সর্বনিম্ন ১০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলার মধুগুড়নই গ্রামের মো: জিল্লুর রহমান জানান, এ বছর অতিমাত্রায় ঝড় বৃষ্টিপাতের কারণে বহু বাগানে কাঁঠালের মুচি ঝরে যাওয়ার পরও বাম্পার ফলন হবে বলে আমি আশা করছি।কৃষি অফিস সূত্রে জানা, জেলার কোথাও কাঁঠাল বাগান গড়ে তোলা হয় নাই। বাড়ির উঠান, রাস্তার পাশে কিংবা জমির ধারে বিক্ষিপ্ত ভাবে কাঁঠাল গাছ রোপন করা হয়। তাই বলা যায় জেলার প্রায় ২শতাধিক হেক্টর জমিতে বিক্ষিপ্ত ভাবে কাঁঠাল গাছ রয়েছে। এভচর জেলায় কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে এই ফলটি যদি ব্যাণিজ্যিক ভাবে চাষ করা হয় তাহলে আমসহ অন্যান্য ফলের পাশাপাশি কাঁঠালও অর্থনীতিতে ভালো ভূমিকা রাখতে পারে। এই বিষয়ে সরকারি বা কেসরকারি ভাবে কৃষকদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হলে আগামীতে কাঁঠালও বাণিজ্যিক ভাবে চাষ করা সম্ভব বলে মনে করছেন কৃষিবিদরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক বলেন, কাঁঠাল আমাদের দেশের একটি সহজলভ্য ফল। এই ফল ক্যান্সার প্রতিরোধক একটি ফল যা আমরা অনেকেই জানি না। এই ফলটি আমাদের বেশি বেশি করে খাওয়া উচিত। তিনি আরো বলেন, গত বছরের তুলনায় এবারও জেলায় কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপকারি এই ফল সম্পর্কে মানুষ দিন দিন জানতে পারছেন বলে জেলার বিভিন্ন এলাকার জনগণ কাঁঠাল গাছ রোপন করছে।#






সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অন্যান্য বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫১৭ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই