তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০১৮, বুধবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

ফুলবাড়িয়ায় নির্যাতন সইতে না পেরে গৃহবধূর আত্মহত্যা

ফুলবাড়িয়ায় নির্যাতন সইতে না পেরে গৃহবধূর আত্মহত্যা,স্বামী গ্রেফতার
[ভালুকা ডট কম : ২১ জুলাই]
স্বামী ও শ্বশুরীর নির্যাতন সইতে না পেরে অবশেষে বিষপানে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিল গৃহবধূ রানী আক্তার (২৫)। পরে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ্য হলেও উন্নত চিকিৎসার অভাবে ১০ দিন পর ১৮ জুলাই তিনি মারা যান। ঘটনাটি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার মহেষপুর কান্দানিয়া গ্রামে। এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন বাদি হয়ে স্বামী ও শ্বাশুরীর নাম উল্লেখ করে ফুলবাড়িয়া থানায় আত্মহত্যার প্ররাচনা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করেছে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার মহেষপুর বর্তমান কান্দানিয়া গ্রামের আব্দুল বারেকের ছেলে সাইদুল ইসলামের সাথে সাড়ে তিন বছর আগে ত্রিশাল উপজেলার মোক্ষপুর গ্রামের নামাপাড়ার মৃত শামছুল হকের মেয়ে রানী আক্তারের বিয়ে হয়। মৃত্যুর ১০ মাস আগে তাদের ঘরে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হলেও পরে শিশুটি মারা যায়।

নিহতের বড় বোন শিউলী আক্তার সেলিনা জানান, তার ভগ্নিপতি সাইদুল ইসলাম আগেও একটি বিয়ে করেছিল এবং ওই ঘরে দুটি সন্তান হওয়ার পর তার চাচাতো ভাতিঝির জামাই বিল্লালের সাথে স্ত্রী নাছিমা খাতুনের পরকিয়া হয় এবং দুই সন্তান ফেলে চলে যাওয়ার পর সে তার স্ত্রীকে ডিভোর্স দেয়। আমার বোন রানী আক্তারকে বিয়ে করার পর ওই দুই সন্তান নিয়ে প্রথম অবস্থায় ভালই ছিল। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই নানা কারণে তার স্বামী ও শ্বাশুরী জুলেখা খাতুন তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতণ শুরু করে। মৃত্যুর ১০ মাস আগে তাদের ঘরে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হলেও পরে শিশুটি মারা যাওয়ার পর তার উপর নির্যাতণের পরিমান ভাড়তে থাকে।

তিনি আরো জানান, নিজের সুখের জন্য তার বোন রানী অঅক্তার তার কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা নিয়ে কান্দানিয়া গ্রামে নুতন করে একটি বাড়ি নির্মাণ করে স্বামী ও শ্বাশুরীকে নিয়ে থাকতে শুরু করে। কিন্তু নতুন বাড়িতে যাওয়ার এক দেড় মাস পর আবারো তার উপর নির্যাতণ শুরু হয়। নির্যাতণ সইতে না পেরে আমার বোন স্বামীর বাড়ি থেকে আমার এখানে চলে আসে এবং একটি ফ্যাক্টরীতে চাকরী নেয়। ৫ মাস চাকরী কারার পর তার স্বামী কৌশলে রানীকে তার বাড়ি নিয়ে যায় এবং চাকরীর উপার্জনের টাকা দাবি করে নির্যাতণ শুরু করে। নিযাংতণ সইতে না পেরে এক পর্যায়ে রানী ৭ জুলাই বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। পরে স্থানীয় বাজারের একটি ফার্মেসীতে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। কিন্তু ১৮ জুলাই রানী আবারো অসুস্থ্য হয়ে পরলে খবর পেয়ে আমি ওই বাড়িতে গিয়ে তাকে প্রথমে ভালুকা সরকারী হাসপাতাল ও পরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে অবস্থার অবনতি হলে ত্রিশাল সরকারী হাসাপাতলে নেয়া হলে রাত সাড়ে ১২ টার সময় কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় শিউলী আক্তার সেলিনা বাদি হয়ে নিহতের স্বামী সাইদুল ইসলাম ও শ্বাশুরী জুলেখা খাতুনকে বিবাদি করে ফুলবাড়িয়া থানায় একটি মামলা দয়ের করেছেন। =মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফুলবাড়িয়া থানার এসআই মো: সিরাজুল ইসলাম জানান, ওই ঘটনায় নিহতের বোন বাদি হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলা দায়ের করেছেন এবং মামলার প্রধান আসামী সাইদুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে।#






সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

জীবন যাত্রা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৩৪ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই