তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০১৮, বৃহস্পতিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

আত্রাইয়ে লাইসেন্সবিহীন চলছে ডায়াগনস্টিক সেন্টার

আত্রাইয়ে লাইসেন্সবিহীন চলছে থ্রি ষ্টার ডায়াগনস্টিক সেন্টার,প্রতারিত হচ্ছে সাধারন মানুষ
[ভালুকা ডট কম : ২৭ জুলাই]
নওগাঁর আত্রাইয়ে অনগ্রসর ও দুর্গমতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক কোন লাইসেন্স ছাড়াই স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের উদাসীনতা, সেচ্ছাচারিতায় উপজেলার ভবানীপুর বাজার এলাকায় গড়ে উঠেছে থ্রি-ষ্টার ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

সরেজমিনে জানা গেছে, রোগ নির্ণয়ে অত্যাধুনিক পরীক্ষাগার রয়েছে এবং অত্যন্ত স্বল্পমূল্যে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির কথা চাউর করে প্রচার ও সর্বাধিক সুযোগ-সুবিধার নিশ্চয়তা দিয়ে গড়ে ওঠা এই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেই কোন নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন প্যাথলজিস্ট। আনবিক শক্তি কমিশনের পরীক্ষা ছাড়াই পুরনো এক্স-রে মেশিন দিয়ে অদক্ষ লোক দিয়ে  ঝুঁকিপূর্ণভাবে রোগের পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রতিনিয়ত রোগীদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে ভুল ফিটনেস কার্ড। এ ছাড়াও ব্যবসার উদ্দেশ্যে নির্মিত অবৈধ থ্রি-স্টার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতারক এটিএম মামুনুর রশিদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নেই কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। ফলে প্রায় প্রতিদিনই অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছে হাজারো রোগী। নিয়মনীতি ছাড়াই অনুমোদনহীন এই প্রতিষ্ঠানে নিজেই অভিজ্ঞ এবং দক্ষ দাবি করে জটিল রোগের পরীক্ষাসেবার কথা বলে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

এদিকে স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের বিধি অনুসারে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সব সময় অন্তত একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট বা চিকিৎসা-প্রযুক্তিবিদ থাকার কথা থাকলেও থ্রি-স্টার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক নিজেই চিকিৎসক সেজে রোগীর চিকিৎসা করেন। আবার একই ব্যক্তি রক্ত সংগ্রহ করে সে নিজেই আবার সেগুলোর পরীক্ষা করছে। তিনিই আবার সেই পরীক্ষার রিপোর্টসহ হাতে ধরিয়ে দিচ্ছে অসংখ্য ঔষধের প্রেসক্রিপশন। এমতাবস্থায় হ-য-ব-র-ল সিস্টেমের মাঝে চলছে থ্রি ষ্টার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বাস্থ্যসেবা।

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, এই থ্রি-স্টার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতারক এটিএম মামুনুর রশিদ সোহাগ দীর্ঘ দিন নওগাঁর কোন এক ক্লিনিকে কম্পাউন্ডার (সহযোগি) হিসাবে কাজ করতেন। ওই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি প্রায় এক বছর যাবৎ নিজেকে বড় অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ডাক্তার সাজিয়ে থ্রি-স্টার ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলে রোগীদের অপচিকিৎসা দিয়ে আসছে।এব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তি জানান, প্রতারক মামুনুর রশিদ সোহাগের অপচিকিৎসায় দুরারোগ্যব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার একাধিক ঘটনাও আছে।

এব্যাপারে থ্রি-স্টার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক এটিএম মামুনুর রশিদ সোহাগের চিকিৎসা প্রদানের যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি নিজেই তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি বলে দাবি করেন। তিনি একজন চিকিৎসক হিসাবে দাবি করলেও পল্লী চিকিৎসকের সনদ ব্যাতীত তার কোন সনদপত্র দেখাতে পারেনি।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সানাউল ইসলাম জানান, আত্রাইয়ে আমি সবেমাত্র কয়েক দিন হলো যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই তবে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এব্যাপারে সিভিল সার্জন ডাঃ মো: মুমিনুল হক জানান, আমি গত বুধবার থ্রি-স্টার ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিদর্শন করেছি। এই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক কোন লাইসেন্স নেই। মামুনুর রশিদ সোহাগ নিজেকে একজন চিকিৎসক হিসাবে দাবি করলেও পল্লী চিকিৎসকের সনদ ব্যাতীত এমনকি শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রও দেখাতে পারেনি। আমি এই অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি বন্ধ করতে বলেছি। এদিকে এই প্রতারকের হাত থেকে বাঁচতে এলাকার সচেতন মহল দ্রুত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তোক্ষেপ কামনা করেছেন। #






সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫২৪ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই