তারিখ : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নওগাঁয় আমন ধান রোপনে ব্যস্ত কৃষক,বেড়েছে মজুরির দাম

নওগাঁয় আমন ধান রোপনে ব্যস্ত কৃষক,বেড়েছে মজুরির দাম
[ভালুকা ডট কম : ০২ আগস্ট]
আষাঢ়ে অনাবৃষ্টির কারণে আমনের আবাদ নিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন চাষিরা। কিন্তু গত এক সপ্তাহ থেকে প্রকৃতিতে শ্রাবণের ধারা বইতে শুরু করেছে। আষাঢ়-শ্রাবণের রিমঝিম বৃষ্টিতে মাঠের জমিতে জমতে শুরু করেছে আকাশের বৃষ্ঠি। প্রকৃতি থেকে পাওয়া বৃষ্টির পানিতে আমনের জমিতে চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন নওগাঁর চাষীরা। তবে একই সাথে জমি চাষাবাদের কারণে বেড়েছে শ্রমিকের মজুরিও। তবুও থেমে নেই আমান ধান রোপনের প্রস্তুতি। তবে এই মৌসুমে ধানে লাভ কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন জেলার কৃষকরা।

আমনের আবাদের জন্য প্রকৃতির বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে ছিলেন চাষিরা। আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে জমিতে আমনের চারা রোপনের উপযুক্ত সময় হলেও, বৃষ্টি অভাবে মাঠের পর মাঠ জমি অনাবাদি পড়েছিল। আবার গভীর ও অগভীর নলকূপ থেকে পানি দিয়ে বাড়তি খরচ করে জমি তৈরী করেছিলেন অনেক কৃষক। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর শ্রাবণের আকাশে ঘটেছে মেঘের ঘনঘটনা। গত এক সপ্তাহ থেকে প্রকৃতিতে বইতে শুরু করেছে শ্রাবণের ধারা। জমিতে বেঁধেছে প্রকৃতি থেকে পাওয়া বৃষ্টির পানি। আর এ সুযোগে বৃষ্টির পানিতে আমনের জমিতে চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। তবে একই সাথে জমি চাষাবাদের কারণে বেড়েছে শ্রমিকের মজুরিও। আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যে জমিতে চারা রোপনের কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছে চাষিরা।

জেলা সদরের কীর্ত্তিপুর গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন বলেন এবার তিনি ২০ বিঘা জমিতে আমন ধান রোপন করার প্রস্তুতি নিয়েছেন তবে আকাশের বৃষ্টি হওয়ার কারণে স্বস্তি নেমে এসেছে কৃষকদের মনে। কারণ কয়েকদিন আগের খরার কারণে আমরা জমি তৈরি করতে পারছিলাম না। আর আমন ধানে সেচ দিয়ে ধান চাষ করলে কৃষকরা তেমন একটা লাভবান হবেন না। কারণ এই ধানের ফলন তেমন একটা হয় না। আমন ধান রোপন করতে দেরি হওয়ার কারণে সেচ দিয়ে জমি চাষ করা শুরু করি। কিন্তু সম্প্রতি আষাঢ়ের বৃষ্টির কারণে আর সেচ দিয়ে জমি চাষ করতে হচ্ছে না।

জেলার রাণীনগর উপজেলার রনসিংগার গ্রামের আমন চাষী রফিকুল ইসলাম বলেন এখন আমরা আমন ধান রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছি কিন্তু মজুরের দাম অনেক বেশি।এমনিতে বৃষ্টির কারণে আমন ধান রোপেন অনেকটা দেরি হয়ে গেছে তার উপর আবার শ্রমিকদের সংকট। যে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে তাদের মজুরি দিতে হচ্ছে অনেক বেশি। কিন্তু উপায় নেই জমিতো আর ফেলে রাখা যাবে না। তাই বাধ্য হয়েই ধান রোপন করছি।

জেলার ধামইরহাট উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের মহিলা শ্রমিক জোসনা রানী বলেন সব সময় রিমঝিম বৃষ্টি হচ্ছে আর এই বৃষ্টিতে ভিজে অনেক কষ্ট করে আমরা ধান রোপন করছি। আর বর্তমানে বাজারে সবকিছুর দাম বেশি তাই মজুরি বেশি না নিলে আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে চলবো কেমন করে। তাই আমরাও আমাদের কাজের মজুরি বৃদ্ধি করেছি দাদা।

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক জানান চলতি আমন মৌসুমে ১ লাখ ৬১ হাজার ১৭৬ হেক্টর জমিতে আমনের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৮৬ হাজার হেক্টর জমিতে আমনের চারা রোপন করা হয়েছে। তবে ভাল ফলন হলে কৃষকের তা পুশিয়ে যাবে বলে এবং বৃষ্টির অভাবে আমনের চারা রোপনে বিলম্ব হলেও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। নওগাঁয় ইরি-বোরো, আমন ও আউশ ধান থেকে বছরে প্রায় ১৬ লাখ মেট্টিক টন খাদ্য উৎপাদন হয়ে থাকে।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

কৃষি/শিল্প বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৪৪ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই