তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০১৮, শনিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

সাংবাদিকদের মানববন্ধন ও প্রতীকি কর্মবিরতি

সাংবাদিকদের মানববন্ধন ও প্রতীকি কর্মবিরতি
[ভালুকা ডট কম : ০৭ আগস্ট]
রাজধানী ঢাকায় ছাত্র আন্দোলন চলাকালে কর্তব্যপালনরত সাংবাদিকদের নির্যাতনকারী সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে সাংবাদিক সমাজ। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার সার্ক ফোয়ারা গোল চত্বরে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ-এর ব্যানারে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা মানববন্ধন ও প্রতীকি কর্মবিরতি পালন করেন। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত সাংবাদিকদের ওপর গত কয়েকদিন একের পর এক হামলা চালানো হয়। এমনকি পুলিশের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাংবাদিকদের চিহ্নিত করে হামলা চালায় কিছু দুর্বৃত্ত।

মানববন্ধনে সাংবাদিকরা জানান, ছাত্রআন্দোলন চলাকালে গত ২ আগস্ট উত্তরা জসিম উদ্দিন রোড এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন 'সারাবাংলা ডটনেট'র সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট উজ্জল জিসান। একই দিন মিরপুর এলাকায় মোহনা টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান ও রিপোর্টার লাঞ্ছিত হন। গত ৪ ও ৫ আগস্ট রাজধানীর ধানমন্ডি, জিগাতলা, সাইন্সল্যাব, বাড্ডা, রামপুরাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহের সময় পুলিশের উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়েছে। এ সময় প্রথম আলোর সাংবাদিক আহমেদ দীপ্ত, এপির সাংবাদিক এএইচ আহাদসহ বেশ কিছু সাংবাদিকের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। সেসময় দুবৃত্তরা হেলমেট পরে হামলায় অংশ নেয়ার ছবি ও ভিডিও গণমাধ্যমে এবং সামাজিত যোগযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এ সব দুবৃত্তকে আইনের আওতায় আনতে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে আজকের মানববন্ধন থেকে।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের ক্রাইম চিফ পারভেজ খান বলেন, সরকারের সদিচ্ছার অভাব আছে। হামলাকারী সবাই চিহ্নিত, এটা সবাই জানে। সরকার আন্তরিক হলে হামলাকারীরা আইনের আওতায় আসবে।

একুশে টেভিভিশনের সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার দীপু সারোয়ার বলেন, চলমান আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারী, আন্দোলন বিরোধী এবং পুলিশ তিন পক্ষের কাছ থেকেই হামলা নির্যাতনের শিকার হয়েছে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকরা। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা কারও প্রতিপক্ষ নয়, তবুও কেন তাদের ওপর এমন হামলা? অবিলম্বে হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

বাংলা ভিশনের সাংবাদিক দীপন দেওয়ান বলেন,আমরা যারা মাঠে কাজ করি, তাদের প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। আমরা দেখেছি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুজব সৃষ্টিকারীদের গ্রেপ্তার করেছে, উসকানিদাতাদের নামে মামলা করছে। কিন্তু সাংবাদিকদের ওপরে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার কোনো প্রক্রিয়া আমরা দেখতে পাচ্ছি না। আমরা সরকারকে বলতে চাই, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু না হলে, এরপর আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।

এছাড়া মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে বিশ্বব্যাপী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হ্যাশট্যাগ ক্যাম্পেইন ‘আই সে নো’ শুরুর ঘোষণাও মানবন্ধন থেকে দেওয়া হয়। সকল সাংবাদিক এবং সাংবাদিক নির্যাতনবিরোধীদের এ ক্যাম্পেইনে অংশ নিতে ভিডিওসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘#আই সে নো’ লিখে একাত্মতা প্রকাশের আহ্বান জানান তারা।

সাংবাদিকরা বলেন, প্রতি মুহূর্তে হাজারো চাপ এবং বিপদ উপেক্ষা করে সত্য সংবাদ সংগ্রহ ও তা প্রকাশের চেষ্টা করছেন তারা। এ অবস্থায় সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেওয়া এবং হামলা করার মাধ্যমে গুজবের পথ প্রশস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া বিদেশেও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাই সরকারকে আন্তরিকভাবে এ হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত সক্রিয় হতে নির্দেশ দিতে হবে। #





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

মিডিয়া বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৩৪ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই