তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বুধবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

পাওনা টাকা না পেয়ে দুশ্চিন্তায় নওগাঁর চামড়া ব্যবসায়ীরা

পাওনা টাকা না পেয়ে দুশ্চিন্তায় নওগাঁর চামড়া ব্যবসায়ীরা
[ভালুকা ডট কম : ২০ আগস্ট]
গত দু‘বছরের পাওনা প্রায় ২০ কোটি টাকা না পেয়ে আসন্ন কোরবানী ঈদে চামড়া কেনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় নওগাঁর চামড়া ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ দুই বছরে প্রায় ২০কোটি টাকা পাওনা পরিশোধ করছেন না ট্যানারি মালিকরা। ব্যবসায়ীদের দাবী, ট্যানারী মালিকরা স্বল্প সুদে সরকারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তারা অন্য ব্যবসার কাজে লাগান। আমাদের পাওনা টাকা পরিশোধ করেন না।

সূত্রে জানা, প্রায় দু‘বছরে ২০ কোটি টাকার বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় আসন্ন কোরবানি ঈদে চামড়া কেনা নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন নওগাঁর চামড়া ব্যবসায়ীরা। দফায় দফায় সময় নিয়েও বিগত বছরের পূর্বের পাওনা পরিশোধ করেনি ট্যানারি মালিকরা। অথচ জেলার ব্যবসায়ীরা কোরবানীর সময় আসলে ধার দেনা বা জমি বিক্রি করে হলেও টাকা পরিশোধ করে। টাকা না পেয়ে কেউ কেউ এ ব্যবসা ছেড়ে অন্য ব্যবসায় চলে গেছেন, টাকার চিন্তায় ষ্ট্রোক করে মারাও গেছেন অনেক চামড়া ব্যবসায়ীরা। পাওনাদারের ভয়ে এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন অনেকেই। জেলায় প্রায় ৩৫ জন ব্যবসায়ীর স্থলে এখন ৬ জন রয়েছে। মূলধন সঙ্কটে চামড়া কেনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন জেলার চামড়া ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবী, সরকার যদি তাদের ট্যানারি মালিকদের মত স্বল্প সুদে ঋন দিত তাহলে এ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পারতেন তারা।

জেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা, গত বছর জেলায় ১লাখ ২০ হাজার পিচ গরু, ছাগল ও ভেড়ার চামড়া সংগ্রহ করা হয়। বিক্রিত চামড়ার মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। প্রাণী সম্পদ সূত্রে জানা, আসন্ন কোরবানীর ঈদে জেলায় প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার পশু কোরবানীর জন্য জবাই করা হবে হবে।

জেলার রাণীনগরের চামড়া ব্যবসায়ী শাহিন আলম বলেন, এক সময়ে এই চামড়ার ব্যবসা খুব লাভজনক ছিলো। কিন্তু এখন লোকসানের ব্যবসাতে পরিণত হয়েছে এই ঐতিহ্যবাহী এই চামড়ার ব্যবসার। এর পেছনে কারণ একমাত্র সরকার ও ট্যানারী মালিকরা। ট্যানারী মালিকদের কাছে পাওনা টাকা না পেয়ে আমরা সর্বশান্ত হয়ে গেছি। অনেকে এ ব্যবসা ছেড়ে চলে গেছে। সরকার বা কোন ব্যাংক থেকে জেলা পর্যায়ে চামড়া শিল্পের উপর কোন ঋন দেয় না। আমরা ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ীরা না বাঁচলে এই ব্যবসাও বাঁচবে না।

জেলা সদরের রইচ উদ্দিন জানান, সরকার চামড়া খাতকে আরো গতিশীল করার লক্ষে ট্যানারী মালিকদের স্বল্প সুদে টাকা দেন। কিন্তু ট্যানারী মালিকরা সেই টাকা চামড়া খাতে ব্যয় না করে ব্যয় করে তাদের পছন্দ মতো অন্য খাতে। তারা কিন্তু ঠিকই টিকে আছেন আর মরছি আমরা ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ীরা। আমরা চাই, তারা মাঠ পর্যায়ে চামড়া ক্রয় করে বিল ভাউচার এবং চেকের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা টাকা তুলবে তাহলে এই টাকা সঠিক কাজে ব্যবহার হবে।

নওগাঁ জেলা চামড়া ব্যবসায়ী মালিক গ্রুপের সভাপতি মোমতাজ হোসেন বলেন আমরা দিন দিন ধ্বংসের পথে চলে যাচ্ছি একমাত্র সরকার ও ট্যানারী মালিকদের কারণে। চামড়া খাতে বরাদ্দকৃত টাকার সঠিক ব্যবহার হয় না। আমরা টাকা পাই না। তাই সরকারকে সরাসরি এই শিল্পের দিকে নজর রাখতে হবে। আমাদের বাকি টাকা পরিশোদ না করলে এই চামড়াগুলো সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেকগুন বেড়ে যাবে। এতে করে সরকার এই চামড়া থেকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাবে। আর আমরা ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ীরা বাঁচলে দেশের চামড়া শিল্প বাঁচবে। আর এর জন্য শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে সরকারের ভিশন ২০২১ সাকসেসফুল হবে বলে জানান তিনি।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৩২ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই