তারিখ : ১৪ নভেম্বর ২০১৮, বুধবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নওগাঁয় চলতি মৌসুমে পাটের দামে খুশি কৃষক

নওগাঁয় পাটের আবাদ কমলেও চলতি মৌসুমে পাটের দামে খুশি কৃষকরা
[ভালুকা ডট কম : ০৩ সেপ্টেম্বর]
উত্তরাঞ্চল নওগাঁ জেলা ধান ও সবজি এলাকা হিসেবে খ্যাত। এসবের পাশাপাশি আবাদ হয়ে থাকে পাটেরও। এক সময় পাটকে সোনালী আঁশ হিসেবে আখ্যায়িত করা হতো। বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ায় ফলন যেমন কম হয়েছে, পাটের মানও হতাশাজনক। খরচের তুলনায় দামে তেমন পোশায়না। ফলে প্রতি বছরই লোকসান গুনতে হতো চাষীদের। এতে প্রতি বছরই কমছে পাটের আবাদ।

কিন্তু এবছর পাটের আবাদ কম হলেও দামে স্বস্তি পেয়েছেন চাষীরা। ফলে তাদের মুখে ফুটেছে সোনালী হাসির ঝিলিক। তবে ভাল দাম এবং কৃষি বিভাগ থেকে সার্বিক সুযোগ সুবিধা পেলে আগামীতে পাটের আবাদ আরো বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবছর ৬ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছে। ২০১৭ সালে ছিল ৮ হাজার ২৫ হেক্টর এবং ২০১৬ সালে ছিল ৭ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ। জমিতে দেশী, মেছতা এবং তোষা জাতের পাটের আবাদ করা হয়েছে। তবে উচ্চ ফলনশীল তোষা জাতের পাটের আবাদ বেশি করা হয়েছে।

পাট কাটা, জাগ দেওয়া, পাটকাঠি থেকে পাট ছাড়ানো ও শুকানো নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বৃষ্টিতে নদী, নালা, খাল, বিল ও ডোবাতে পানি থাকায় পাট জাগ দেয়ার কোন সমস্যায় পড়তে হয়নি কৃষকদের। পাটের ভাল ফলন হলে প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ হয়ে থাকে এবং খারাপ হলে ৭ থেকে ৮ মণের মতো হয়। গত কয়েক বছর আগে প্রতি মণ পাটের দাম ছিল ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা। গত বছর প্রতি মণ পাটের দাম ছিল ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা। এবছর প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা।এবছর আবহওয়া অনুকুলে না থাকায় গতবছরের তুলনায় কমছে পাটের আবাদ। এছাড়া প্রতি বছর পাটের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় লোকসান গুনতে গুনতে এখন অন্য আবাদের ঝুঁকেছেন চাষীরা।

রাণীনগর উপজেলার কচুয়া গ্রামের আব্দুর রহিম বলেন, এক সময় আলু ও ধানের আবাদের পর জমি পড়ে থাকত। গত ৮-১০ বছর থেকে ১ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করছি। নিড়ানি, সেচ, সার, ঔষধ, কাটা, জাগ দেয়া, পাট ছাড়ানো ও শুকানো পর্যন্ত খরচ হয় প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার টাকার মতো খরচ হতো। কিন্তু সে তুলনায় ন্যায্য দাম পাওয়া যায়নি। ফলে লোকসান গুনতে হয়েছে। কিন্তু জমি ফেলে রাখতে চাইনা বলে পাটের আবাদ করি।

আত্রাই উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, গত বছর দেড় বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছিলাম। এবছর আবহাওয়া ভাল না থাকায় ১ বিঘা জমিতে আবাদ করেছি। ফলন একটু খারাপ হয়েছে। তবে বাজারে বিগত বছরের তুলনায় দাম খুবই ভাল। প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা। তবে বর্তমানে বাজারে পাটের যে দাম আছে, এ দাম থাকলে কিছুটা ক্ষতি পুশিয়ে নেয়া সম্ভব। আমাদের মতো কৃষকরা লাভবান হতে পারব।

মান্দা উপজেলার কৃষক চকগোবিন্দ গ্রামের কৃষক আহম্মদ আলী বলেন, এবছর দুই বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। বিগত বছরের তুলনায় দাম ভাল পেয়েছি। প্রায় ১৬-১৭ হাজার টাকার মতো লাভ হয়েছে। পাটের ফলন কম হওয়ায় হয়ত দাম ভাল পাওয়া যাচ্ছে। কৃষকরা ভাল দাম পেলে আগামীতে পাট চাষেও আগ্রহ বাড়বে।

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর উপ-পরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক বলেন, এ জেলায় সবজি ও ধানের পাশাপাশি পাটের আবাদও হয়ে থাকে। এবছর মৌসুমের শুরুতে অধিক বৃষ্টিপাত হয়। ফলে জমিতে জোর না থাকায় অনেক কৃষক সঠিক সময়ে জমিতে বীজ বপন করতে পারেনি। খরা অবস্থায় জমিতে পাটের বীজ বপনের জন্য ভাল। এজন্য জেলায় গত বছরের তুলনায় প্রায় ১ হাজার হেক্টরের অধিক জমিতে পাটের আবাদ কম হয়েছে। ফলে কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। 

তিনি আরো বলেন, বাজারে পাটের দাম ভাল রয়েছে। আর দাম ভাল পেলে কৃষকের পাট চাষে আগ্রহ বাড়বে। এতে করে আগামী বছর কৃষকরা পাটচাষে উদ্বৃদ্ধ হবে এবং আবাদ বৃদ্ধি পাবে।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

কৃষি/শিল্প বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৩৭ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই