তারিখ : ১৩ নভেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

হালুয়াঘাটে প্রকল্পের নামে হরিলুট

হালুয়াঘাটে প্রকল্পের নামে হরিলুট  
[ভালুকা ডট কম : ২১ অক্টোবর]
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে জেলাপরিষদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য আসমাউল হোসনা শিমুলের বিরুদ্ধে কোটি টাকার প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্ণীতি ও হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জেলা পরিষদ কর্তৃক শিমুল তার নামে বরাদ্ধকৃত ২৫টি প্রকল্পের নাম ভাঙ্গিয়ে হাতিয়ে নেন লক্ষ লক্ষ টাকা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোথাও কোথাও নামমাত্র কাজ হলেও বেশির ভাগ প্রকল্পেই রয়েছে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্ণীতি। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীরা জানান, তাদের কাছ থেকে সর্বনিন্ম ১৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ নিলেও প্রকল্প বাস্তবায়নের কোন খবর নেই।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিলডোরা বঙ্গবন্ধু পরিষদের নামে ২ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ হলেও কোন কাজই হয়নি।স্থানীয় বিলডোরা গ্রামের ওয়ালী উল্লাহসহ অনেকেই জানান, এখানে বঙ্গবন্ধু পরিষদ নামে কোন পরিষদই নেই। একই গ্রামে বিলডোরা নুরানীয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ২ লক্ষ টাকার কাজ করার কথা থাকলেও কোন কাজ হয়নি বলে স্থানীয়রা জানান।

অত্র মাদ্রাসার সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্য নয়ন তালুকদার বলেন, ২ লক্ষ টাকা দিবে বলে জামানত বাবদ আগাম ৬০ হাজার টাকা নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাজের কোন বালাই নেই। জৈনাটি মহিলা মাদ্রাসার কবরস্থান নির্মানের জন্যে ১ লক্ষ টাকার কাজ দিবে বলে জামানত বাবদ ১৬ হাজার টাকা নিয়েছে এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আমজাদ আলী।

আমজাদ আলী বলেন, আমাকে প্রজেক্ট দিবে বলে কাগজপত্র চেয়ে নিয়েছে। টাকাও ১৫ হাজার দিয়েছি। কিন্তু কোন কাজই সে দেয়নি।মূলত এখানেও ১ লক্ষ টাকার কাজ বরাদ্ধ হয়েছে যা বাস্তবে দেখা মিলেনি। এমনিভাবে  বাঘমারা উত্তরপাড়া সামাজিক গোরস্থানের নামে ২ লক্ষ টাকার প্রকল্পের কাজ হওয়ার কথা থাকলেও  কোন কাজ হয়নি। একইরকম ভাবে কাজিয়াকান্দা কবরস্থানের নামে ২ লক্ষ টাকা, কাজিয়াকান্দা ঈদগাহ মাঠ পাকা করনের নামে ২ লক্ষ টাকা, কাজিয়াকান্দা যৌথ কবর সংস্কারের নামে ১ লক্ষ টাকা প্রকল্পের নাম মাত্র কিছু কাজ করে বলে দেখা যায়।

এরকমভাবে হালুয়াঘাট উপজেলায় উক্ত জেলা পরিষদ নেত্রী আসমাউল হোসনা শিমুলের বিরুদ্ধে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের ২৫ টি প্রকল্পের প্রত্যেকটিতেই ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্ণীতির অভিযোগ উঠেছে। অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে আছমাউল হোসনা শিমুল বলেন, আমি প্রকল্প এনে দিয়েছি। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্যে আলাদা আলাদা কমিটি রয়েছে। তারাই তা বাস্তবায়ন করবে। আমি কোন কাজ করছিনা, সুতরাং আমি অনিয়ম করবো তা হতেই পারেনা। তিনি সকল অভিযোগ মিথ্যে বলে আখ্যায়িত করেন।

এ সকল দূর্ণীতির বিষয়ে কথা বললে জেলাপরিষদের চেয়ারম্যান ইউসুফ খান পাঠান বলেন, আমি তাকে প্রকল্প দিয়েছি। সে যদি কাজ না করে প্রকল্পের নামে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়ে থাকে তাহলে আমি বিষয়টি দেখবো। তিনি বলেন, আমি যেখানে যেখানে অনিয়মের খবর পাচ্ছি সেখানেই ব্যবস্থা নিচ্ছি। চেয়ারম্যান বলেন, আমি স্বচ্ছতার সাথে কাজ করতে পছন্দ করি। কোন প্রকার দূর্ণীতিকে প্রশ্রয় দিবনা। এ সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের প্রয়োজন বলে দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। #





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৩৭ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই