তারিখ : ১৪ নভেম্বর ২০১৮, বুধবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

এক যুগ ধরে বন্ধ নওগাঁর শাহাগোলা রেলওয়ে ষ্টেশন

এক যুগ ধরে বন্ধ নওগাঁর শাহাগোলা রেলওয়ে ষ্টেশন,নষ্ট হচ্ছে লাখ লাখ টাকার সম্পদ
[ভালুকা ডট কম : ২২ অক্টোবর]
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা রেলওয়ে ষ্টেশনের কার্যক্রম প্রায় এক যুগ ধরে বন্ধ রয়েছে। ষ্টেশনটি এখন শুধই স্মৃতি হিসেবে রয়ে গেছে। ষ্টেশনের কার্যক্রম প্রায় এক যুগ যাবত বন্ধ থাকায় একদিকে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে অপর দিকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে রেলের মূল্যবান লাখ লাখ টাকার সম্পদ। এ ষ্টেশনে দুইটি মেইল ট্রেন উত্তরা এক্সপ্রেস ও রকেট মেইলের স্টোপেজ বহাল থাকলেও কখন ট্রেন আসে আর কখন যায় তা অনেকে জানতেই পারে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সেই বৃট্রিশ শাসনামলে রেল স্থাপিত হবার পর আত্রাই ও রাণীনগরের মাঝে শাহাগোলাতে একটি ষ্টেশন স্থাপন করা হয়। সে সময় থেকেই এখানে লোকাল ট্রেনগুলোর স্টোপেজ কার্যকর ছিল। পরবর্তীতে মেইল ট্রেনগুলোও এখানে স্টোপেজ দেয়া শুরু করে। সেই সাথে ট্রেন ক্রসিংয়ের জন্য এখানে প্রতিস্থাপন করা হয় ডুয়েল লাইন। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোকবল নিয়োগ দেয়া হয়। এদিকে ট্রেনগুলোর যাত্রা বিরতীতে এলাকার হাজার হাজার জনগণ যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যাপক সুবিধা পেতে থাকে। সেই সাথে রাজস্ব আয়ও অনেক বাড়তে থাকে।

শাহাগোলা ওই অঞ্চলের একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র হওয়ায় সেখান থেকে প্রতিদিন ট্রেন যোগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মালামাল পরিবহন করে রেলের আয় হত অনেক টাকা। এই জনপদের একমাত্র সহজ যোগাযোগ মাধ্যম হচ্ছে এই রেল। কিন্তু গত প্রায় ১০ বছর যাবত এ ষ্টেশন থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয় ট্রেন ক্রসিং ব্যবস্থা, প্রত্যাহার করে নেয়া হয় সেখান থেকে জনবল। ফলে দিনের পর দিন অকেজো হতে থাকছে ষ্টেশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা। বতর্মানে ষ্টেশনটিতে দু’টি ট্রেনের স্টোপেজ থাকলেও ট্রেন কখন আসে আর কখন যায় তা কেউ জানতে পারে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে প্লাটফরমের ইট উঠে গিয়ে গোটা প্লাটফরম ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। প্লাটফরমের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। সামান্য বৃষ্টি হলে এসব গর্তে পানি জমে যায়। ফলে যাত্রীদের ট্রেনে উঠা নামার জন্য প্লাটফরম ব্যবহারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ ছাড়াও সেখানকার টিকিট ঘরের বারান্দার টিন উধাও হয়ে গেছে। মূল ঘরের টিনগুলো একে একে খসে পড়ছে। সেই সাথে যাত্রীদের বসার স্থান, শৌচাগারসহ সব স্থাপনাগুলোই প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে শাহাগোলা গ্রামের আজাদ সরদার বলেন, এখানে কখন ট্রেন আসে আর কখন যায় তা কেউ জানতে পারে না। ঘন্টা দেয়ারও কোন লোক নেই, টিকিট বিক্রিরও কোন লোক নেই। এখান থেকে যত যাত্রী চলাচল করে তাদেরকে বিনা টিকিটেই চলাচল করতে হয়।

এ ব্যাপারে শাহাগোলা গ্রামের সাবেক মেম্বার মো: ডালিম বলেন, এক সময় উপজেলা সদরে যাওয়ার ক্ষেত্রে ট্রেন যোগে খুব সহজেই যেতে পারতাম কিন্তু এখন তা আর সম্ভব হয় না। তিনি আরো বলেন ষ্টেশনটি সচল না থাকায় রেলের অনেক মূল্যবান আসবাবপত্রও বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এগুলো দেখারও কেউ নেই।

আলহাজ শামসুল হক বলেন, শাহাগোলা এই এলাকার একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এক সময় এখান থেকে ট্রেন যোগে আমরা ধান চাল উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় পরিবহন করতাম। তখন এ ষ্টেশন ছিল জাঁকজমকপূর্ণ। বর্তমানে রেলের কোন লোক এখানে নেই এ জন্য মালামালও পরিবহন করা যায় না। আর রেলও রাজস্ব পায় না।

উপজেলার সচেতন মহলের দাবি এ ষ্টেশনটি পুনরায় সচল করলে ষ্টেশনটি জাঁকজমকপূর্ণ হয়ে উঠবে এবং রেলের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে। ফিরে আসবে স্টেশন এলাকায় প্রাণচাঞ্চল্যতা। এই জনপদের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নতি ঘটবে।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৩৭ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই