তারিখ : ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, সোমবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

ভালুকায় আমন ফসল হানির আশংকায় কৃষকের মাথায় হাত

ভালুকায় আমন ক্ষেতে মরা শীষ ফসল হানির আশংকায় কৃষকের মাথায় হাত
[ভালুকা ডট কম : ১২ নভেম্বর]
ভালুকার কোন কোন এলাকার আমন ক্ষেতে পোকা দমনে বার বার কীটনাশক প্রয়োগেও কাজ না হওয়ায় ধানের ছড়া বা শীষ মরে ফসল নষ্ট হচ্ছে অনেক কৃষকের। এ অবস্থায় অনেকেই ফসলের আশা ছেড়ে দিয়ে হতাশায় পরেছেন। অপরদিকে উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন এটি কোন রোগ বালাই নয় শুধুমাত্র ব্রীধান ৫১ জাতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারনে ধান চিটা হচ্ছে।

শুক্রবার উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়নের বাঁওয়া গ্রামে গেলে দেখাযায় কিছু কিছু আমন ক্ষেতে বাদামী কালচে রংয়ের মরা ধানের ছড়া। যা থোরবের হওয়ার পর দুুধভরা হালকা সবুজরংয়ের হওয়ার কথা। আসলে ওই শীষ বা ছড়া গুলিতে দুধ বা চাল কোনটাই নেই শুধুই মরা চিটা।

মরা ধানের ছড়া হাতে নিয়ে ওই গ্রামের কৃষক সিরাজ মিয়া জানান তার ক্ষেতের বেশীর ভাগ ধান বের হওয়ার পর ছড়া গুলি মরে চিটা হয়ে যাচ্ছে। তিনি ধান গাছে নারাদিয়ে দেখালেন ক্ষেতময় পাতার মাঝ খানে সাদা সাদা ছোট ফড়িংয়ের ছড়াছড়ি। দোকান হতে পর্যায়ক্রমে বিট্রাকো, ডারসবান ২০ ইসি, ও ইরাদ ৫৫ ইসি কীটনাশক ঔষধ কিনে পর্যায়ক্রমে তিনবার ক্ষেতে দিয়েও কোন প্রতিকার পাননি। তিনি প্রায় এক একর জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছেন। বাড়ীর পশ্চিমে আরেকটি ক্ষেতে ইদুরের আক্রমন হতে ধান রক্ষার জন্য ক্ষেতে ঔষধ দিয়েছেন ও ফাঁদ পেতে রেখেছেন। বড় সাইজের বেশ কয়েকটি ইদুঁর মারাও পরেছে। তবে ওই ক্ষেতে দেখা দিয়েছে পাতামোরা কীরার আক্রমন। এক ধরনের ছোট পোকা বা কীরা ধানের পাতা মুড়িয়ে তার ভিতরে শত শত ডিম দেয় আর তা থেকে পোকায় ছড়িয়ে যায় সারা ক্ষেত।

তিনি জানান প্রতি কাঠা জমি চাষ ২০০ টাকা হিসাবে ৩২০০, রোপন ৩০০ টাকা হিসাবে ৪৮০০, কীটনাশক সর্বমোট ১০০০ টাকা অন্যান্য ২০০ টাকা সহ এক একর জমি আবাদ করতে এ পর্যন্ত তার মোট খরচ হয়েছে ৯ হাজার টাকার মত। তিনি বিট্রাকো,ডারসবান ও ইরাদ নামে কীটনাশক বেশ কয়েকবার ক্ষেতে প্রয়োগ করেছেন।

অনেকের ঘরে নতুন ধান উঠলেও ওই এলাকায় তার মতো অনেক কৃষকের ক্ষেতে পোকার আক্রমনে ধান মরে যাওয়ায় ফসল না পাওয়ার আশংকায় হতাশ হয়ে পরেছেন। একই এলাকার জুলহাস ঢালী জানান তার ৪ কাঠা জমি পোকায় ও ৬ কাঠা জমি ইদুঁরে আক্রান্ত হওয়ার পর উপ-সহকারী কৃষিকর্মকর্তার পরামর্শে ৩ বার কীটনাশক ও ইদুঁরের জন্য বেশ কয়েকবার বিষটোপ প্রয়োগ করেও কোন প্রতিকার মিলেনি। তার ৬ কাঠা জমির ধান ইদুঁরে কেটে নষ্ট করেছে।

ওই এলাকার চা দোকানী রব্বানী জানান তিনি ৪ কাঠা জমিতে ব্রি-ধান ৫১ জাতের আবাদ করেছেন। তার ক্ষেতেও পোকার আক্রমন দেখা দেয়ায় কয়েকবার কীটনাশক দিয়েও প্রতিকার পাননি। উপজেলার দক্ষিন হবিরবাড়ী কড়ইতলা গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন জানান তার আমন ক্ষেতে ধানের ছড়া মরে কালো চিটা হয়ে ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তিনি সহ কয়েকজন কৃষক জানান তারা দোকান থেকে কীটনাশক এনে ক্ষেতে দিয়েও কোন প্রতিকার পাননি। তাদের অভিযোগ কৃষি বিভাগের পরামর্শ না পাওয়ায় তারা হয়তো বার বার ঔষধ দিয়েও প্রতিকার পাননি। তারা জানান ওই এলাকায় কোন কৃষি বিভাগের লোকজন ফসল দেখতে যাননি।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে চলতি মৌসুমে ইদুঁরের আক্রমন,পাতামোড়া,পাতাপোড়া,খোলপচার আক্রমনে আমন ধানের যে ক্ষতি সাধন হয়েছে তাতে আশানোরুপ ফলন পাবেননা বলে চাষীরা আশংকা করছেন। কৃষকদের অভিযোগ দোকানীরা যে সকল ব্র্যান্ডের কীটনাশক বিক্রি করছেন সেগুলি আদৌ ভেজালমুক্ত কিনা, যেহেতু ওইসব কীটনাশক ব্যবহার করে কৃষকরা কোন ফলাফল না পেয়ে নিরাশ হচ্ছেন।

এ ব্যাপারে ভালুকা বাজারের কীটনাশক বিক্রেতা সবুজবাংলা এন্টারপ্রাইজের মালিক আঃ গাফ্ফার জানান কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে ও কোন কোন ক্ষেত্রে কোম্পানীর দেয়া নিজস্ব অভিজ্ঞতায় ধানের খোলপচা রোগের জন্য এ্যামিষ্টারটপ ও কনজারপ্লাস, পাতামোড়ার জন্য বিট্রাকো, পাতা পোড়ার জন্য ক্লোসিন ও ক্লিমিয়া, ইদুঁর নিধনে লানির‌্যাট ও জিংকফসফাইট কৃষকের কাছে বিক্রি করে থাকেন।

ঔষধে কাজ না করার কারন জানতে চাইলে তিনি জানান কৃষকরা অনেক সময় রোগ নির্নয় না করে ঔষধ দিয়ে থাকেন আবার পরিমিত ঔষধ সঠিক পদ্ধতিতে প্রয়োগ না করায় আশানোরুপ ফল নাও পেতে পারেন।

এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে সংশ্লিষ্ট মাহমুদপুর ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাবিব উল্লাহ বাহারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান ব্রী-ধান ৫১ জাতের জীবনকাল বেশী হওয়া ও তাপমাত্রা জনিত কারনে চিটা জনিত সমস্যা দেখা দিয়েছে এটি কোন বালাই নয়। তিনি জানান ব্রী-ধান ৪৯ জাতের ফলন ভাল হয়েছে অপরদিকে পোকা ও ইদুঁর দমনে তারা কৃষকদেরকে কীটনাশক ও বিষটোপ ব্যাবহারের পরামর্শ দিয়ে সার্বক্ষনিক মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন।

একই দিন মোবাইল ফোনে উপ-সহকারী উদ্বিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা এনামুল হকের সাথে কথা বললে তিনি জানান ব্রী-ধান ৫১ জাতের জীবনকাল অন্যান্য ধানের চেয়ে কিছুটা দীর্ঘ সময় লাগে তাপ মাত্রা বারার কারনে কিংবা ঝড়ো হাওয়ায় থোরের সময় ফুল ও রেনু নষ্ট হয়ে ধানে দুধ ও চাল  না ভরে চিটায় পরিণত হচ্ছে। তিনি জানান ধান গভেষনা ইন্টিটিউট হতে আসা বিজ্ঞানীদের কাছে ব্রীধান ৫১ এর চিটা হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা জানিয়েছেন এটি কোন রোগ নয় কিংবা এর কোন ঔষধ নেই, তাপ মাত্রার তারতম্যে এ সমস্যা হতে পারে বলে তাদের জানিয়েছেন।

তবে সারা উপজেলায় খুব অল্প সংক্ষক জমিতে এ সমস্যা দেখা  দিয়েছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। ইদুঁরের আক্রমন হতে ধান রক্ষা ও অন্যান্য রোগ বালাই প্রতিেিরাধে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে তারা সার্বক্ষনিক মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন।#                 



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৪২ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই