তারিখ : ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

রাণীনগরে সেচ না দেওয়ায় ফলন বিপর্যয়,হতাশায় কৃষক

রাণীনগরে সেচ না দেওয়ায় ফলন বিপর্যয়,হতাশায় কৃষক
[ভালুকা ডট কম : ২৪ নভেম্বর]
নওগাঁর রাণীনগরের বড়গাছা ইউপির দেউলিয়া-মানিকহার মাঠে বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের গভীর নলক’প থেকে চলতি আমন মৌসুমে ধানের জমিতে পানির সেচ না দেওয়ায় ফলন বিপর্যয়ে পড়েছে স্থানীয় কৃষকরা। আশানুরূপ ফলন না পাওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে কৃষকদের।

মানিকহার গ্রামের মৃত-অক্ষয় চন্দ্র সরকারের ছেলে অনন্ত কুমার সরকার বলেন, চলতি মৌসুমে ওই মাঠে আমি ৫বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আতপ ধানের চাষ করেছি। কিন্তু বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রদানকৃত গভীর নলক’পের মালিক মন মোহন মন্ডলের ছেলে সঞ্জিত মন্ডল আর্থিক দ্বন্দ্বের কারণে প্রায় ১৫-২০দিন যাবত আমার ধানের জমিতে পানির সেচ না দেওয়ায় ফলন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছি। পানির অভাবে জমির কোন কোন স্থানে ধান মরে গেছে। মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। অনেক আগে থেকেই সঞ্জিত মন্ডল আমার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে রেষারেষি করে আসছে। মাঠে ধান চাষ করার সময় থেকে আজ পর্যন্ত সঞ্জিত কখনো আমার জমিতে ভালো ভাবে পানির সেচ দেয় নাই। সঞ্জিতকে এই বিষয়ে কোন কিছু বলতে গেলে সে নানা রকমের অকথ্য ভাষায় কথা বলে। সে বলে আমার বাপের টাকার ডিপমেশিন (গভীর নলক’প) তাই টাকা না দিলে জমিতে পানি সেচ দেওয়া হবে না। কৃষক আরো বলেন জমিতে ধানের যে অবস্থা এই ফলন দিয়ে এবার আমার জমিতে ধান চাষ করার খরচও উঠবে না। এবার ধানের ফলন নিয়ে আমি খুব হতাশার মধ্যে আছি।

দেউলিয়া গ্রামের কামদা প্রসাদের ছেলে আরেক কৃষক কাঞ্চন কুমার বলেন, সঞ্জিত মন্ডলের গভীর নলক’পের মুখ থেকে আমার এক সঙ্গে ২৫বিঘা ধানের জমি আছে। গত ২০০৮সালে সঞ্জিতরা এই গভীর নলক’প স্থাপন করার পর থেকে আজ পর্যন্ত আমার জমিতে পানির সেচ দেয় না। কি কারণে পানি সেচ দেয় না তা আমার অজানা। তাই আমি বাধ্য হয়েই সেই সময় থেকে নিজের শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে পানি সেচ দিয়ে বছরে ৩বার ধানসহ অন্যান্য ফসল চাষ করে আসছি। এতে আমার ধান চাষে খরচ অনেক বেশি পড়ে যায়। অথচ গভীর নলক’প থেকে পানি সেচ দিলে আমার ধান চাষের খরচ অনেক কম লাগতো। আমি বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি মৌখিক ভাবে বলে ছিলাম। পরবর্তিতে এই বিষয়ে অফিসে লিখিত ভাবে কোন অভিযোগ না দেওয়ায় বিষয়টি আজও সমাধান হয়নি। এছাড়াও কৃষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে পানির সেচের টাকা বেশি নেওয়াসহ নানা অভিযোগ রয়েছে এই মাঠে ধান চাষ করা অনেক কৃষকদের। কিন্তু কৃষকরা বাধ্য হয়েই এদের বিরুদ্ধে কোন কিছু বলার সাহস পায় না। সঞ্জিত মন্ডলরা পেশীবলের জোরে তাদের নিজের ইচ্ছে মতো এই গভীর নলক’পকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। আমরা কৃষকরা এই সমস্যা থেকে মুক্তি চাই।

গভীর নলক’পের মালিক মন মোহন মন্ডলের ছেলে অপারেটর সঞ্জিত মন্ডল বলেন, এই সব মিথ্যে কথা। অনন্ত আমাকে বলেনি যে তার জমিতে সেচের পানি লাগবে। যদি পানি লাগবে তাহলে সে জমিতে পানি নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করুক আমি পানি দিচ্ছি। আর কাঞ্চন কখনো আমাকে বলেনি যে তার জমিতে গভীর নলক’পের সেচের পানি দিয়ে আবাদ করবে। সে তার নিজস্ব মেশিন দিয়ে ধান চাষ করে আসছে।

রাণীনগর বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহকারি প্রকৌশলী তিতুমির রহমান বলেন কৃষককে গভীর নলক’পের পানি দিতে বাধ্য মালিকরা। কিন্তু এখানে কি সমস্যা হয়েছে তা আমাকে কৃষকরা কখনো জানাই নাই। তবে এখন বিষয়টি আমি জানলাম। আমি উভয়পক্ষকে ডেকে বিষয়টি অতিদ্রুত সমাধান করার এবং ভবিষ্যতে যেন এরকম আর কোন সমস্যার সৃষ্টি না হয় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

কৃষি/শিল্প বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৪২ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই