তারিখ : ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নওগাঁয় আমনের ফলন ভালো হলেও হাসি নেই কৃষকের মুখে

নওগাঁয় আমনের ফলন ভালো হলেও হাসি নেই কৃষকের মুখে
[ভালুকা ডট কম : ২৫ নভেম্বর]
নওগাঁয় শুরু হয়েছে আগাম জাতের আমন ধান কাটা মাড়াইয়ের কাজ। কৃষকরা তাদের ধানকে ঘরে তুলতে বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে চলতি মৌসুমে আমনের ফলন ভালো হলেও হাসি নেই কৃষকের মুখে কারণ ধানের বাজার ভালো নয়।

জেলার দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠে চারিদিকে এখন সোনালী রঙের আমনের মৌ মৌ গন্ধ। বৃষ্টি নির্ভর আমন ধান এ বছর সেচ নির্ভর হওয়ায় কৃষকদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ। অপরদিকে বাজারে নতুন ধানের দামও কম হওয়ায় লোকসানে পড়েছেন কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় প্রায় ২ লাখ ২শত ৪৫ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ করা হয়েছে যা লক্ষমাত্রা ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে বৃষ্টি নির্ভর ঠাঁ ঠাঁ বরেন্দ্র অঞ্চল পোরশা উপজেলায় ১৬ হাজার হেক্টর, সাপাহারে ১৬ হাজার ১শত ৫০ হেক্টর ও নিয়ামতপুর উপজেলায় ২৯ হাজার ৯শত ৪০ হেক্টর জমিতে আমানের আবাদ করা হয়েছে। এই তিন উপজেলার প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমি খরায় আক্রান্ত হয়। তীব্র খরায় আক্রান্ত ছিল ৫শত হেক্টর এবং ১শত ৫০ হেক্টর জমির ধান কাটা সম্ভব নয়। এ বছর প্রায় ১১ লাখ মেট্রিক টন ধান কৃষকের ঘরে উঠবে বলে জানা গেছে।

এ বছর শুরু থেকেই বৃষ্টি তেমন একটা না হওয়ায় পুকুর, ডোবা, শ্যালো মেশিন ও গভীর নলকুপ দিয়ে আমনের আবাদ করতে হয়েছে। বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকদের অন্য উপায়ে পানি দিতে গিয়ে ধান উৎপাদনে বাড়তি খরচ গুনতে হয়েছে। তবে স্বল্প সময়ে উৎপাদন সক্ষম উচ্চ ফলনশীল ব্রিধান-৪৭, ৪৯, ৬২. বিনা-৭, স্বর্ণা-৫, আতপ ও সোনার বাংলা জাতের ধানের ভাল ফলন হয়েছে। ভালো ফলন হলেও বাজারে ধানের দাম কম হওয়ায় হতাশ কৃষকরা।

জেলার পোরশায় বারিন্দার হুমায়ন কবির ও জালুয়া গ্রামের কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, বিঘা প্রতি ১৫-১৬ মণ ধানের আবাদ হয়েছে। এদিকে শ্যালো মেশিন দিয়ে ধানের আবাদ করতে গিয়ে বিঘা প্রতি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা বাড়তি খরচ হয়েছে। অনেক জায়গায় পানির অভাবে ধান পুড়ে মারা গেছে। বাজারে নতুন ধান প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৬৫০ টাকায়। ফলে ধান বিক্রি করে তাদের উৎপাদন খরচ উঠলেও লাভ হবে না।

মান্দা উপজেলার দেলুয়াবাড়ী গ্রামের কৃষক বজু গোপাল বলেন, আড়াই বিঘা জমিতে সোনার বাংলা জাতের ধানের আবাদ করেছেন। যে সময় ধান বের হয় তখন পানির সংকট দেখা দেয়। ফলে ধানের দানা তেমন পরিপুষ্ট হয়নি। এতে উৎপাদনে বিঘাপতি ৩-৪ মন ধান কম হয়েছে।

ধামইরহাট উপজেলার ধানতাড়া গ্রামের কৃষক আবুল হাসান বলেন, এ বছর বৃষ্টি না হলেও কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ হয়নি ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণ না থাকায় ফলন অনেকটাই ভালো হয়েছে। তবে কৃষকরা ধানের দাম না পেলে আগামীতে ধানের আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং করা হলে কৃষকরা দাম পাবেন বলে আশাবাদী।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক বলেন, এবছর সুষম বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কৃষককে সম্পূরক সেচে যেতে হয়েছে। এমনকি ধান রোপনের সময়ও বৃষ্টি হয়নি। ফলে বৃষ্টি নির্ভর আমন এবার সারা বছরই সেচ দিয়ে আবাদ করতে হয়েছে। এতে কিছুটা বাড়তি খরচ গুনতে হয়েছে কৃষকদের। জেলার বরেন্দ্র অঞ্চল সাপাহার, পোরশা ও নিয়ামতপুর খরার কবলে পড়ে ফসল নষ্ট হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমন ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৪৫ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। মৌসুমের পরে যদি বাজার দর ভাল থাকে তাহলে কৃষকরা লাভবান হবেন। কৃষকরা ২-৩ মাস ধান ধরে রাখতে পারলে ভাল দাম পাবেন। কিন্তু তাদের পক্ষে তা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তবে কৃষকের কথা ভেবে সরকারের ধানের বাজারের দিকে নজর দেওয়া উচিত বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

কৃষি/শিল্প বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৪২ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই