তারিখ : ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

রাণীনগরের আবাদপুকুর হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ

রাণীনগরের ঐতিহ্যবাহী আবাদপুকুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ,রেহায় পাচ্ছে না কৃষকরাও
[ভালুকা ডট কম : ০১ ডিসেম্বর]
নওগাঁর রাণীনগরের আবাদপুকুর হাটসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া কৃষকের কোন খাজনা না থাকলেও কৃষকদের নিকট থেকে আদায় করা হচ্ছে খাজনা। ইজারা শর্ত  অমান্য করে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে খাজনা। এতে ইজারাদার লাভবান হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হাটে আগত হাটুরেরা।

জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলার মধ্যে সব চাইতে বড় হাট আবাদপুকুর হাট। এই হাট কয়েকটি উপজেলার মধ্যে ধানের বড় মোকাম হিসেবে পরিচিত। চলতি বাংলা সনে এই হাটের ইজারার মূল্য ৮৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। হাটটি টেন্ডারের মাধ্যমে নওগাঁ সদরের সুনিল কুমার মন্ডল ইজারা নেন। হাটের শুরুতে টোল আদায়ে কিছুটা সহনশীল থাকলেও বর্তমান ইজারা শর্ত অমান্য করে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকে জোর করে অতিরিক্ত খাজনা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, পশু ক্রয়-বিক্রয়ে শুধু মাত্র ক্রেতাদেয় কাছ থেকে খাজনা আদায়ের নিয়ম থাকলেও প্রতিটি গরুর ক্ষেত্রে ৩শত টাকার স্থলে ক্রেতার নিকট থেকে ৪ শত টাকা এবং বিক্রেতার কাছ থেকে আরো ৫০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। ভেড়া/ছাগলের ক্ষেত্রে ১শত ৫০ টাকার স্থলে ক্রেতার নিকট থেকে ২শত ৫০ টাকা এবং বিক্রেতার নিকট থেকে আরো ২০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া ভ্যান সাইকেলের প্রতিটি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে মাত্র ৯০ টাকা নিধারণ থাকলেও ক্রেতার নিকট থেকে ২শত এবং বিক্রেতার নিকট থেকে আরো ২০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। ধানের ক্ষেত্রে প্রতি মন ধানে ক্রেতার কাছ থেকে ৪ টাকা খাজনা আদায়সহ সম্পন্ন নিয়ম বর্হিভূতভাবে প্রতিমন ধানে পুনরায় কৃষকের কাছ থেকে ৩ টাকা খাজনা আদায় করছেন ইজারাদার। এছাড়া হাঁস-মূরগীর ক্ষেত্রেও নিয়ম অমান্য করে উভয় পক্ষের নিকট থেকে অতিরিক্ত খাজনা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে রশিদের মাধ্যমে খাজনা আদায় করলেও কোন রশিদে খাজনার পরিমান টাকা উল্লেখ না করেই ফাঁকা রেখে রশিদ হাতে ধরে দেয়া হচ্ছে বলে ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান।

হাটে খাসি কিনতে আসা উপজেলার বোদলা গ্রামের মুকুল হোসেন, মাধাইমুড়ি গ্রামের এনামুল হক বলেন খাসি ক্রয় করার জন্য তাদের কাছ থেকে ১শত ৫০ টাকার স্থলে ২শত ৫০ টাকা খাজনা দিয়েছেন। এযেন বাপের সম্পদ ইজাদারের ইচ্ছে মতো খাজনা আদায় করা হচ্ছে অথচ দেখার কেউ নেই।

বগুড়ার আদমদীঘি সদরের গরু ক্রেতা ফেরদৌস হোসেন বলেন, তিনি হাট থেকে একটি গরু কিনে ৩শত টাকার স্থলে ৪শত টাকা খাজনা দিয়েছেন। এছাড়া বিক্রেতার নিকট থেকে খাজনা হিসেবে আরো ৫০ টাকা আদায় করা হয়েছে বলে তিনি বলেন।

একডালা গ্রামের জামাল হোসেন বলেন, তার ছেলের জন্য একটি বাইসাইকেল ক্রয় করে ২শত টাকা খাজনা দিতে হয়েছে এবং বিক্রেতার নিকট থেকেও খাজনা হিসেবে আরো ২০ টাকা আদায় করা হয়েছে।খাজনা আদায়ে নিযুক্ত হাটের মুহুরি শহিদুল ইসলাম বলেন, ইজারাদারের নির্দেশে গরুর ক্ষেত্রে প্রতিটি ক্রেতার নিকট থেকে ৪শত এবং বিক্রেতার নিকট থেকে ৫০ টাকা আদায় নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া হাটে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক আব্দুর রশিদ, জিল্লুর রহমান, মোয়াজ্জিম হোসেনসহ আরো অনেকেই বলেন, ধান বিক্রিতে খাজনা ক্রেতা দেয় সিডিউলে এমন বিধান থাকলেও আড়ৎদারদের মাধ্যমে প্রতি মন ধান বিক্রিতে ৩ টাকা হারে খাজনা নেওয়া হয় ।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার ও ধান আড়ৎ ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দীন হেলু বলেন, কৃষকের নিকট থেতে ৩টাকা মন হারে খাজনা আদায় করে ইজারাদারকে দিতে হয়। এছাড়া হাটে প্রায় সকল ক্ষেত্রেই ক্রেতা-বিক্রেতার নিকট থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে।

হাট ম্যানেজার রতন কুমার বলেন, হাটের ব্যবসায় কিছু নিয়ম-অনিয়ম হতেই পারে। তাছাড়া পশু ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বিক্রেতার নিকট থেকে যে টাকা আদায় করা হয় তা নিযুক্ত মহুরিরাই নেয়।ইজারাদার সুনিল মন্ডল বলেন, ইজারা শর্ত মেনেই হাটে খাজনা আদায় করা হচ্ছে। এখানে কোন অনিয়ম বা অতিরিক্ত খাজনা আদায় করা হচ্ছে না।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন জানান, অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। #



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৪২ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই