তারিখ : ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

শখের বাগান করে স্বাবলম্বী নওগাঁর সোহেল রানা

শখের বাগান করে স্বাবলম্বী নওগাঁর সোহেল রানা
[ভালুকা ডট কম : ০৪ ডিসেম্বর]
গ্রামের এক নিন্ম মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের ছেলে সোহেল। ছোটবেলা থেকেই ফলের বাগান করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। নানা জাতের গাছ থাকবে সেই বাগানে আর বিচিত্র সব ফলে ভরে উঠবে সেই বাগানটি। সেই স্বপ্নকেই বাস্তবে রূপ দিয়েছেন শিক্ষিত ছেলে সোহেল রানা (৩৫)। সোহেল রানার বাড়ি নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার দিবর ইউনিয়নের রূপগ্রাম এলাকায়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনার পাট চুকানোর পর গড়ে তোলেন সমন্বিত কৃষি খামার। তার খামারের নাম ‘রূপগ্রাম অ্যাগ্রো ফার্ম’। সোহেল রানার সমন্বিত কৃষি খামার এখন এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকদেরও জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা অবস্থায় একটি দৈনিক পত্রিকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন সোহেল রানা। পড়াশোনা শেষে ওই পত্রিকার ফিচার বিভাগে চাকরি নেন সোহেল। এছাড়া আরও কয়েকটি ম্যাগাজিনেও (ই-বিজ ও কম্পিউটার জগৎ) কাজ করেছেন তিনি। পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে দায়িত্বও ছিল বেশি। তাই পড়াশোনা শেষে চাকরি করা ছাড়া অন্য কিছু ভাবার অবকাশ ছিল না। কিন্তু ফলের বাগান গড়ে তোলার স্বপ্নটি তাকে তাঁড়িয়ে বেড়াচ্ছিল। ঢাকায় থাকা অবস্থায় পত্র-পত্রিকায় দেশের বিভিন্ন স্থানের সফল খামারিদের গল্প আগ্রহ নিয়ে পড়তেন এবং সুযোগ পেলেই সেই সব খামার পরিদর্শনে যেতেন তিনি। এক সময় সাহস করে চাকরি ছেড়ে বাড়িতে এসে স্বজনদের নিজের স্বপ্নের কথা জানান। শুরুতে বেশিরভাগ আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী নিরুৎসাহিত করলেও একপ্রকার স্রোতের বিপরীতে সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তোলার কাজে হাত দেন সোহেল। এখন তিনি সফল খামারি। তাঁর বাগান দেখে এখন অনেকেই মিশ্র ফলের বাগান করছেন। রূপগ্রামসহ আশপাশের এলাকায় গড়ে উঠেছে শতাধিক ফলের বাগান। এসব বাগানে আম, পেয়ারা, লেবু, স্ট্রবেরি ও কুল গাছই বেশি।

ছাত্র অবস্থাতেই বাবার অনুমতি নিয়ে বাড়ির পাশে ৬ বিঘা জমিতে আমের বাগান গড়ে তোলেন সোহেল। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে আর্থিকভাবে সহায়তা করেন। ২০১৫ সালে চাকরি ছেড়ে গ্রামে এসে ছোট ভাই আব্দুল বারীকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলেন সমন্বিত কৃষি খামার। সমন্বিত এই কৃষি খামারে রয়েছে আম, লিচু, ড্রাগন ফল, মাল্টা, খাটো জাতের নারিকেল, লেবুসহ ৫০ প্রজাতির ফলের গাছ। খামারে আরও আছে বাসক, তুলসী, নিম, নীল অপরাজিতা, সাদা লজ্জাবতীসহ নানা প্রজাতির ঔষুধি গাছ। আছে বিভিন্ন জাতের ফুল গাছ। এছাড়া তিনটি পুকুরে মাছ চাষ, হাঁস-মুরগী ও ছাগল পালন করে বছরে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন তিনি। সফল খামারি হওয়ার জন্য সোহেল যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, আরডিএ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিএমডিএ থেকে কৃষির ওপর বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ করেন।

পাশের গ্রাম নিশ্চিন্তপুরের শহিদুল ইসলাম বলেন, সোহেল খামার দেখে উৎসাহিত হয়ে ১০ বিঘা জমিতে আম ও থাই পেয়ারার বাগান করেছি। এছাড়া দুটি পুকুর ইজারা নিয়ে মাছ করছি। বাগান ও মাছ চাষ করার ব্যাপারে সোহেল বিভিন্ন সময় চারা ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেন।করমজাই গ্রামের আব্দুল জব্বার বলেন, সোহেলের সাফল্য দেখে উৎসাহিত হয়ে চার একর জমিতে গত বছর আম ও পেয়ারার বাগান গড়ে তুলেছেন। আশা করছেন, সফল হবেন।

নিজের স্বপ্নের কথা জানাতে গিয়ে সোহেল রানা বলেন, এই এলাকায় অ্যাগ্রো ট্যুরিজম গড়ে তোলার স্বপ্ন রয়েছে আমার। যেখানে দেশি-বিদেশী বিভিন্ন পুষ্টিগুন সম্পন্ন ফল থাকবে। এছাড়া বিলীন হতে বসা বিভিন্ন দেশি গাছের (জার্ম প্লাজম) সংরক্ষণাগার গড়ে তোলার স্বপ্ন রয়েছে। এই লক্ষ্যে সাপাহারে আরও ১৫ একর জমিতে মিশ্র ফলের বাগান গড়ে তুলছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, উচ্চশিক্ষত হয়ে শুধু চাকরি করতে হবে এই কথা ঠিক না। বরং লেখাপড়া জানা মানুষদেরই কৃষি পেশায় আশা উচিত। চাকরি করে শুধু নিজের পরিবার চালানো সম্ভব। কিন্তু একজন ভালো উদ্যোক্তা কিংবা সফল খামারি নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবেন। সোহেল সেটিরই উজ্জ্বল উদাহারণ।তিনি আরো বলেন, কৃষি বিভাগ তার খামারকে সফল করার জন্য চারা ও পরামর্শ দিয়ে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে আসছে। তিনি একজন মডেল খামারি।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

লাইফস্টাইল বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৪২ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই