তারিখ : ২০ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

রাণীনগরে ভেঙ্গে যাওয়া ব্রিজ আড়াই বছরেও নির্মিত হয়নি

রাণীনগরে ভেঙ্গে যাওয়া ব্রিজ আড়াই বছরেও নির্মিত হয়নি
[ভালুকা ডট কম : ১১ ডিসেম্বর]
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা মিরাট ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের উপর দিয়ে বান্দাইখাড়া-মিরাট-নওগাঁ রাস্তার শ্রীমতখালী খালের উপর হামিদপুর ঘাটে নির্মিত ব্রিজটি নির্মাণের মাত্র ৫/৭ দিনের মাথায় দেবে ভেঙ্গে যায়। এরপর দীর্ঘ আড়াই বছর পার হলেও এই খালের উপর নতুন করে নির্মিত হয়নি কোন ব্রিজ। যার কারণে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে ইজাদারকে টাকা দিয়ে এই অঞ্চলের মানুষদের বাঁশে সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। এতে অর্থনৈতিক ক্ষতি ও মালামাল পরিবহনে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন কয়েক গ্রামের সাধারন মানুষরা।

সূত্রে জানা, আত্রাই উপজেলার বান্দাইখাড়া থেকে মিরাট বিলের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা রাস্তাটি নওগাঁ জেলা সদরের সাথে যুক্ত হয়েছে। খাল খননের পর থেকেই রাস্তার  শ্রীমতখালি খালের উপর হামিদপুর ঘাট নামকস্থানে বাঁশের সাঁকো দিয়ে এক সময়ের অবহেলিত ও দূর্গম এলাকা খ্যাত প্রায় ১৬ টি গ্রামের মানুষ চরম দূর্ভোগে চলাচল করতো। এতে উৎপাদিত ফসল সময় মতো বাজারে বিক্রি এবং মালামাল পরিবহন করতে না পারায় ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে চরম দূর্ভোগে জীবন যাপন করতো এলাকাবাসি। ওই এলাকার মানুষের চলাচল ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সু-নিশ্চিত করতে রাণীনগর উপজেলা এলজিইডি’র আওতায় গত ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য টেন্ডার দেয়া হয়। টেন্ডারে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়ে ব্রিজ নির্মাণ শুরু করেন। এরপর ব্রিজ নির্মাণের পর সাটারিং খুলে দিলে মাত্র ৫/৭ দিনের মাথায় ব্রিজের মাঝের পিলার দেবে ব্রিজটি ভেঙ্গে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিন্ম মানের সামগ্রী, দূর্বল অবকাঠামো ও অদক্ষ্য মিস্ত্রী দিয়ে কাজ করার কারণে ব্রিজটি ভেঙ্গে  গেছে। এরপর সেখানে নতুন করে গত ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে প্রায় ১ কোটি ৭৯ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ব্রিজ নির্মাণের জন্য দরপত্র দেয়া হয়। গত ৮ মাস আগে ব্রিজটির পূণ: নির্মাণ কাজ শুরু করলেও শুধুমাত্র খালের দুই পারে ব্রিজের দৃশ্যমান দু’টি উইং ওয়াল নির্মাণ করে অজানা কারণে কাজ বন্ধ রেখেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। ফলে ব্রীজের পাশে বাঁেশর সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে প্রতিদিনই ঘাট ইজারাদারকে টাকা দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের। এতে এলাকাবাসি একদিকে যেমন অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছেন অন্য দিকে ব্যবসা বাণিজ্যে মালামাল ও এলাকায় উৎপাদিত ফসল পরিবহনে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসির ।

ওই এলাকার ভ্যান চালক আব্দুস ছাত্তার (৫৫) জানান, প্রতিদিন সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে ১০ টাকা করে ইজারাদারকে দিতে হচ্ছে। পথচারী খোরশেদ আলম, আবু হাসান, সেকেন্দার আলীসহ অনেকেই জানান, প্রতিদিন সাঁকো দিয়ে পায়ে হেটে পারাপার হতে ইজারাদারকে ৩ টাকা দিতে হয়।  দ্রুত ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শেষ করে জন দূর্ভোগ থেকে মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ঘাট ইজারাদার সুমিত্রা রাণী চৌধুরী (৬৫) জানান, তিনি স্থানীয় মিরাট ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ঘাটটি এক বছরের জন্য ২৫ হাজার টাকা দিয়ে ইজারা নিয়েছেন। সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে প্রতিজন ৩ টাকা, প্রতিটি মটরসাইকেল/ভ্যান ১০ টাকা এবং বাইসাইকেল থেকে ৫টাকা নেন। তিনি প্রায় ৩০ বছর ধরে এব্যবসা করে আসছেন বলে।

রাণীনগর উপজেলা প্রকৌশলী শাইদুর রহমান মিঞা বলেন, ব্রিজটি ভেঙ্গে যাবার পর নতুন করে ওই স্থানে ব্রিজ নির্মাণের জন্য  ১কোটি ৭৯ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়ে দরপত্র দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে দিয়েছেন। খালে পানি থাকার কারণে আপতত কাজ বন্ধ রয়েছে। খালের পানি শুকানোর পরই আবারও কাজ শুরু হবে।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৭৬ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই