তারিখ : ২৭ মে ২০১৯, সোমবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

জেএমবি-সর্বহারাদের আতংকে আতংকিত রক্তাক্ত জনপদ

জামিনে ও পালিয়ে থাকা জেএমবি-সর্বহারাদের আতংকে আতংকিত রক্তাক্ত জনপদ
[ভালুকা ডট কম : ২৫ ডিসেম্বর]
নিষিদ্ধ সংগঠন জেএমবি ও সর্বহারার উত্থান নওগাঁর আত্রাই-রাণীনগর থেকে। শুধু এ দুই উপজেলা নয়; রাজশাহীর বাগমারাসহ তার আশেপাশের উপজেলাতে ছিল এই বাহিনীর ঘাটি। শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে জেএমবির মেরুদন্ড ভেঙে গেলেও এখনো বিভিন্ন স্থান থেকে আটক হচ্ছে তারা। আবার গ্রেপ্তারের পরে অনেকেই জামিনে ও পালিয়ে রয়েছে। তাই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারো তারা নাশকতার ঘটনা ঘটাতে পারে এমন আশংঙ্কায় ভোটার ও জনপ্রতিনিধিরা। তাই তারা প্রশাসনের সহায়তা চেয়েছেন। তবে পুলিশের দাবি; নির্বাচনকে ঘিরে যে কোন নাশকতা রোধে জামিনে ও পালিয়ে থাকা সর্বহারা ও জেএমবির সদস্যদের গতিবিধির ওপর কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, জেএমবি ও সর্বহারা বাহিনীর অনেক সদস্য নওগাঁয় বিভিন্ন মামলায় জামিনে রয়েছে। জামিনে থাকা এসব সদস্যদের নিয়ে আতংক প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী। ২০০৪ সালে সর্বহারা দমনের নামে ঘোষনা দিয়ে নওগাঁ-৬ আসনে উত্থান ঘটে জেএমবির। সর্বহারা দমনের নামে পুরো এলাকায় কায়েম হয় ত্রাসের রাজত্ব। সে সময় হত্যা, গুম, লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ নানা অভিযোগে একাধিক মামলায় বেশির ভাগ সদস্যকে আটক করে পুলিশ। তৎকালীন সময়ে দুই উপজেলায় সর্বহারা ও জেএমবিদের হাতে নিহত হয় আটজন ব্যক্তি ও আহত হয় শতাধিক। এদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য রাণীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের তৎকালীন সময়ের সাধারন সম্পাদক ও শিক্ষাবিদ আমজাদ হোসেন, ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম, আত্রাই উপজেলার লালু, সোবহান চেয়ারম্যান, ভুট্টু, রাজা, বাদশা, অরুন, রাজাসহ অনেকে। এছাড়াও তাদের সন্ত্রাসী তান্ডবে দুই উপজেলার প্রায় কয়েকশত পরিবার আজও পুঙ্গ হয়ে রয়েছে। তবে কিছু মামলায় সাজাভোগ করার পর অনেকে জামিনে ছাড়া পায়।
জেএমবির হাতে নির্যাতিত উপজেলার শলিয়া গ্রামের মহসিন মল্লিক দিলেন তার উপর বর্বরোচিত লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা। তিনি বলেন, সেই সময় জেএমবি সদস্যরা তাকে সহ ২৭জনকে আটক করে নিয়ে যায়। এরপর তার হাত-পা বেঁধে পা উপরে ঝুলিয়ে রেখে মারপিট করে। এই মারপিটে বাকি ২৪জন নিহত হলেও মহসিনসহ আরো ২জন ভাগ্যের শক্তিতে প্রাণে বেঁচে যায়।  

উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের সাধারন মানুষ বলেন, জামিনে ও পালিয়ে থাকা জেএমবির ও সর্বহারার সদস্যরা নির্বাচন উপলক্ষে অনেকেই এলাকায় এসেছেন। ব্যাপকভাবে তারা দলকে সুসংগঠিত করার চেষ্টা করছেন। এতে করে সাধারন ভোটাররা আতংকিত। তারা বলছেন, নির্বাচনে তারা সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে ভোট দিতে পারবেন কি না তা নিয়ে শঙ্কিত।

রাণীনগর সদর ইউপির চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান পিন্টু বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে সেই নিষিদ্ধ দলের লুকিয়ে থাকা সদস্যরা আবারো তৎপরতা চালাতে পারে বলে এমন আশঙ্কায় রয়েছেন সাধারন মানুষরা। শান্তিপূর্ন এই পরিবেশ কি সেই সময় পর্যন্ত শান্তিপূর্ন থাকবে এমন প্রশ্ন এখন সবার মুখে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সকল নিরাপত্তা বাহিনীকে এই আসনের দিকে কঠোর নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নওগাঁ জজ কোর্টের আইনজীবী এ্যাড. খোদাদাদ খান পিটু বলেন, এক সময়ের রক্তাক্ত জনপদ হিসেবে পরিচিত ছিল এ আসনটি। দিনে-দুপুরে মানুষ বাহিরে বের হতে ভয় পেতো। কিন্তু এখন সেখানে শান্তির সুবাতাস বইছে। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে জেএমবি ও বাংলাভাইয়ের অনেকের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে। তারা নির্বাচনে নাশকতা ঘটাতে পারে এমন শংকাও রয়েছে। তবে নির্বাচনে যেন তারা কোন ধরনের অঘটন ঘটাতে না পারে সেজন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ খুবই জরুরী।

নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশিদুল হক বলেন, আগের চেয়ে অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে যে কোন নাশকতা রোধে জামিনে ও পালিয়ে থাকা সর্বহারা ও জঙ্গি সদস্যদের উপর সতর্ক নজরদারি রাখা হয়েছে। মামলা হয়েছে অন্তত ৩৩টি। বিভিন্ন মামলায় জেএমবির ১৮০জন আসামীর মধ্যে ১৮জন জেল হাজতে, ১৪১জন জামিনে এবং ২১জন জেএমবি ও সর্বহারা সদস্য পালিয়ে রয়েছে।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৭৬ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই