তারিখ : ২৩ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

আরসিবিসির বিরুদ্ধে আমেরিকায় ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের মামলা

আরসিবিসির বিরুদ্ধে আমেরিকায় ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের মামলা
[ভালুকা ডট কম : ০১ ফেব্রুয়ারী]
নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরির অর্থ ফিরিয়ে আনতে ফিলিপাইনের ম্যানিলার রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) বিরুদ্ধে আমেরিকার আদালতে মামলা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইউ) প্রধান আবু হেনা মোহাম্মদ রাজি হাসান জানান, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) আমেরিকার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারে ও দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে এ মামলা করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিনিধিদল এখন নিউইয়র্কে অবস্থান করছে। প্রতিনিধিদলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি ছাড়াও রয়েছেন বাংলাদেশ ফাইনান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের মহাব্যবস্থাপক দেবপ্রসাদ দেবনাথ, একই ইউনিটের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রব ও অ্যাকাউন্ট অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের মহাব্যবস্থাপক জাকির হোসেন।

হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে থাকা বাংলাদেশের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। ওইসময় ব্যাংকিং লেনদেনের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সুইফটে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে ফিলিপাইনের আরসিবিসিতে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ও শ্রীলঙ্কার দু'টি ব্যাংকে ২ কোটি ডলার স্থানান্তর করা হয়েছিল। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কার ব্যাংকে স্থানান্তর হওয়া ২ কোটি ডলার ফেরত আনা হয়েছে। ফিলিপাইনের আরসিবিসি থেকে ফেরত আনা হয়েছে ১ কোটি ৪৬ লাখ ডলার। এখনো ফেরত আসেনি ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। বিপুল এই অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্যই আমেরিকার আদালতে মামলা করা হয়েছে। আইনি লড়াই মোকাবেলা করার জন্য দেশটিতে দুটি ল’ ফার্মকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। টাকা উদ্ধারে  ল’ ফার্ম দুটির সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে যে চুরি যাওয়া ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার উদ্ধার করে দিতে পারলে ল’ ফার্ম দু'টিকে মোট অর্থের ১০ ভাগ দেওয়া হবে।

জানা গেছে, হ্যাকাররা চুরির অর্থ ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের জুপিটার স্ট্রিট শাখার চারটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেছে। সেখান থেকে ওই অর্থ ফিলিপাইনের মুদ্রা পেসোতে রূপান্তরের পর দু'টি ক্যাসিনোতে পাঠানো হয়। রিজার্ভ চুরির এ ঘটনায় দোষী প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৮ সালের ১০ জানুয়ারি আরসিবিসির সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগুইতোকে সাজা দিয়েছে ফিলিপাইনের আদালত। এছাড়া তাকে সর্বমোট ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলার জরিমানা করেছে দেশটির আদালত। ওই ঘটনায় বাংলাদেশেও একটি মামলা করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ মতিঝিল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা ওই মামলায় সরাসরি কাউকে আসামি করা হয়নি। তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ গত তিন বছরেও আদালতে প্রতিবেদন দিতে পারেনি। রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমানকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অন্যান্য বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৮৪ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই