তারিখ : ২৬ মার্চ ২০১৯, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে ঐক্যফ্রন্টের ৩২ প্রার্থীর মামলা

নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে ঐক্যফ্রন্টের ৩২ প্রার্থীর মামলা,২৮ ফেব্রুয়ারী গণশুনানি
[ভালুকা ডট কম : ১৪ ফেব্রুয়ারী]
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গত ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণে নানা অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে আজ দুপুর পর্যন্ত মামলা করেছেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৩২ প্রার্থী। গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল করে আবারও ভোটের দাবিতে বিএনপি, গণফোরামসহ জোটভুক্ত অপরাপর দলের প্রার্থীরা হাইকোর্টে এই মামলা করেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিটি জেলায় একজন করে প্রার্থী নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করবে বলে দলীয় সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশের সব জেলার একজন করে প্রতিনিধির সাথে কথা বলেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। যদিও এ মামলা করার বিষয়ে দলের কারো কারো ভিন্ন পর্যবেক্ষণ রয়েছে। দলের একজন ভাইস চেয়ারম্যান গতরাতে বলেছেন, আদালতের ভবন আছে, বিচার নেই। সেখানে মামলা করে কোনো লাভ হবে না।

এছাড়া, একাদশ নির্বাচনে ভোট ডাকাতির চিত্র তুলে ধরতে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারী গণআদালতের অবয়বে শুনানি করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বুধবার সন্ধ্যায় ফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকের পর জেএসডি'র সভাপতি আ স ম আবদুর রব এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

আ স ম রব জানান, আগামী ২৪ তারিখে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোগে গণশুনানি। এই শুনানিতে একটা আদালত থাকবে, বিচারমঞ্চ থাকবে। সকাল ১০ টা থেকে ৬ ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠেয় এই গণশুনানির মাধ্যমে ভোটের ডাকাতি চিত্র বিশ্ববাসী ও দেশের জনগণের কাছে পরিস্কার করে তুলে ধরা হবে, তাদের (সরকার) অপকর্ম প্রকাশ করে দেয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়কারী ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, মহা ভোটজালিয়াতির বিরুদ্ধে তারা ইতোমধ্যে কয়েকদফা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে এবং প্রার্থীদের নিয়ে কারচূপির বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করেছে। এরপর তারা একটা গণতদন্ত করার কর্মসূচি নিয়ে এগুচ্ছে। বাম জোটের পরবর্তী সভায় নতুন কর্মসূচি ঠিক করা হবে। এছাড়া, নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ফলাফল প্রত্যাখ্যানকারী দল 'ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ' এখন তাদের সাংগঠনিক ব্যস্ততার সময় পার করে নির্বাচনের ইসূতে  পরবর্তী করণীয় ঠিক করবেন বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমেদ।

ওদিকে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা জানতে চেয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও'র কাছে মঙ্গলবার চিঠি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি। নির্বাচনে জালিয়াতি, ভোট কারচুপি, ভোটার নির্যাতনের নানা দিক তুলে ধরে এ বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয় ওই চিঠিতে। তাছাড়া, একই দিন যুক্তরাষ্ট্র সিনেটের আর্মড সার্ভিস কমিটির শুনানিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক দলীয় শাসন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

বাংলাদেশের নির্বাচন ও গণতন্ত্রের অবস্থা নিয়ে মার্কিন ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আমরা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের নেতিবাচক প্রবণতা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলের বিশ্বাসযোগ্যতার অভাবের গুরুতর অভিযোগ এ প্রবণতাটিকে আরো শক্তিশালী করেছে। এ নেতিবাচক প্রবণতার বিষয়টি আমলে নিয়ে এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরকে পদক্ষেপ সংবলিত একটি রূপরেখা প্রণয়নের জন্য আমরা অনুরোধ জানাই। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রতি সমর্থন একান্ত জরুরি। সে যাত্রায় বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যে ব্যাপকভিত্তিক অনিয়মের প্রতিবেদন বেরিয়েছে, তা মার্কিন স্বার্থের প্রতি চরমভাবে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশের নির্বাচনটিকে একটি বড় মাত্রার জালিয়াতিপূর্ণ নির্বাচন আখ্যা দিয়ে এ বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয় ওই চিঠিতে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী ও গর্বিত গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য রয়েছে। কিন্তু নির্বাচন চলাকালে প্রচারণায় সহিংসতা, গণগ্রেফতার এবং স্বাধীন মত প্রকাশের বিষয়ে আমরা বরাবরই হতাশ ছিলাম। বলা চলে, পুরো নির্বাচনব্যবস্থাটিই হুমকির মুখে পড়েছিল।

ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচন প্রসঙ্গে আরো বলা হয়, যদিও সরকার নিযুক্ত নির্বাচন কমিশন দাবি করেছে যে, নির্বাচন বৈধ ছিল, তা সত্ত্বেও আমরা বিশ্বাস করি নির্বাচনে ব্যাপকভিত্তিক কারচুপি এবং ভোটারদের দমনের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করা উচিত। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী যখন ভোটগ্রহণ শুরু হয় তখন সন্দেহজনকভাবেই ব্যালট বক্সগুলো ভর্তি পাওয়া যায়। এ ছাড়াও এমন খবরও পাওয়া গেছে- আওয়ামী লীগ কর্মীরা ভোটারদের ভোটপ্রদানে বাধা প্রদান করেছে। দুপুরের খাবারের সময়েই অনেক ভোটকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে অথবা ব্যালট পেপার শেষ হয়ে গেছে। অনেক ভোটার অভিযোগ করেছেন, তাদের ভোট ইতোমধ্যেই দেয়া হয়ে গেছে। নির্বাচনব্যবস্থাটি আরো নাজুক করার জন্য বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তাপুষ্ট বেশির ভাগ আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার অ্যাক্রেডিটেশন ও ভিসা প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছে।

অপরদিকে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ একদলীয় ব্যবস্থার দিকে ধাবিত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের শুনানিতে। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে সিনেট ভবনে ইউএস ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ফিলিপস এস ডেভিডসন সিনেটে উপস্থাপিত শুনানিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ সময় শুনানিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জয় পাকাপোক্ত করে অব্যাহতভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার যে প্রবণতা দেখা গেছে তা উদ্বেগকে সামনে নিয়ে আসে। নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা দেশটিকে কার্যত এক দলের শাসনের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।

এশিয়ায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম নিরাপত্তা অংশীদার উল্লেখ করে শুনানিতে বলা হয়,বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা অংশীদার। আঞ্চলিক নিরাপত্তা বৃদ্ধির স্বার্থে এ অংশীদারির গুরুত্ব রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদ দমন, মুসলিম সংখ্যাধিক্য, চরমপন্থা দমন, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবেলা আর জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেয়ার কারণে দেশটির সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক স্বার্থসংশ্লিষ্টতা রয়েছে।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

নির্বাচন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৬০ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই