তারিখ : ২৩ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

ভালুকার প্রমত্তা খীরু নদী এখন ফসলের মাঠ

ভালুকার প্রমত্তা খীরু নদী এখন ফসলের মাঠ,সরু খাল দিয়ে বয়ে চলে ফ্যক্টরীর বর্জ্য
[ভালুকা ডট কম : ১৮ ফেব্রুয়ারী]
ভালুকার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বন সুন্দরী নামে পরিচিত এক সময়ের প্রমত্তা খীরু নদী এখন ফসলের মাঠে রুপ নিয়েছে। নদীর দুই দিকের বেশীর ভাগ অংশ অবৈধ দখলদার কর্তৃক ক্রমান্বয়ে ভরাট করে তাতে বোর আবাদ করা হয়েছে। যে টুকু অবশিষ্ট সরু খাল রয়েছে তা দিয়ে কল কারখানার দূষিত তপ্ত কিচকিচে কালো বর্জ পানি প্রবাহিত হওয়ায় পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।

এলাকাবাসী নদী রক্ষায় বিভিন্ন সময় প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েও কোন প্রতিকার পাননি। বর্ষা মৌসুমে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া ও ত্রিশাল উপজেলার বেশ কিছু ইউনিয়নের পানি খীরু  নদী হয়ে শ্রীপুরের শীতলক্ষা নদীতে নেমে যায়। নদীর নাব্যতা হ্রাসের কারনে বর্ষা এলে উজানের পানি নামতে সময় লাগায় ভালুকা এলাকায় প্লাবন দেখা দেয়। এসময় ফসল ও মৎস্য খামারের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত  হয়ে চাষীরা লোকসানে পরেন।

ভালুকা এস আর অফিসের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন নদী রক্ষায় বর্জপানি বন্ধ করা, নদী পারের জমি অবৈধ দখলদার মুক্ত করা ও ভরাট হওয়া নদী খননের মাধ্যমে খীরু নদীকে পূর্বের রুপে ফিরিয়ে নিতে সকল প্রকার সহযোগিতা ও সরকারী সাহায্যের জন্য স্থানীয় এমপি’র নিকট আবেদন জানিয়েছেন। ময়মনসিংহের ভালুকা হতে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার কাউরাইদ ত্রিমোহনী শীতলক্ষা পর্যন্ত প্রায় ২১ কিলোমিটার লম্বা।  ভালুকার বন খীরু নামে পরিচিত এ নদীপথে এক সময় মুক্তাগাছার জমিদাররা ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে বজ্রা বহর নিয়ে ভালুকার সিলমা কাচারীতে আসা যাওয়া করতেন। সিলমা কাচারীর জায়গায় এখন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স শোভা পাচ্ছে। এ নদী হতে বিএডিসি’র পাওয়ার পাম্প দিয়ে চাষীরা রাতদিন বোর ক্ষেতে পানি সেচ দিতেন। শুকনা মৌসুমে নদীপাড়ের মানুষ নিজেরা গোসল করা সহ গৃহস্থালির কাজ কর্ম করতেন।

১৯৮০’র দশক পর্যন্ত সাব রেজিষ্টার অফিস ও থানার ঘাট মানেই লঞ্চের ভেঁপু আর যাত্রীদের তারাহুড়ো। কাঠের একপেয়ে লম্বা সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে আবার সিড়ি বেয়ে নীচে লঞ্চের ডেকে কাঠের সীটে বসে ইঞ্জিনের ঠক ঠক শব্দে ঢেও তুলে এগিয়ে যাওয়া। রেল গাড়ীর সাথে সময় মিলিয়ে ইত্তেফাক আর লেমুয়া নামে দুটি লঞ্চ ভালুকা হতে কাউরাদ রেল ষ্টেশন পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করতো প্রতিদিন দুইবার। এখন থানা আছে থানার ঘাট নেই কিন্তু থানার পাশেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহা সড়কে নদীর উপর রয়েছে খীরু সেতু। সেতুর নীচে পানি নেই অবৈধ বালি ব্যবসায়ীরা বর্ষা এলে শীতলক্ষা হতে ট্রলার যোগে এনে নদী পাড়ে ফেলায় ব্রীজের নীচ থেকে ভাটির এক কিলোমিটার পযর্ন্ত ভরাট হয়ে গেলেও অজ্ঞাত কারনে প্রশাসন এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

নদী আছে পানি নেই পাল তোলা নৌকা নেই লঞ্চের ভেঁপুর শব্দ শোনা যায়না দুরের বাঁকে। ভাটি হতে বেপারিদের পালতোলা নৌকা, বেদে নৌকার লম্বা বহর, মাঝিদের দাঁড় টানার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ তীরে চলা পথিকের নজর কাড়ে না। চাঁদনী রাতে মাঝ নদীতে নৌকার পাটাতনে খোল করতাল আর ঘোংরোর শব্দে ঘাটু গানে রাতভর মেতে থাকেনা গাঁয়ের লোক। যুবকের দল উবুরী নৌকায় মাইক লাগিয়ে আব্দুল আলীমের রুপালী নদীরে রুপ দেইখা তোর হইয়াছি পাগল গান জুরে দিত তখন নদী পাড়ের বউ ঝি-রা উকি দিতে ভুল করতোনা।

নদীর মাঝে মাঝে পানির উপর হিজল গাছের শাখায় পানকৌরি আর বালি হাস সকলের দৃষ্টি ফেরাত। মানুষ ও প্রকৃতির নির্মমতা বনসুন্দরী বন খীরুর যৌবন কেড়ে নিয়েছে। স্বচ্ছ সাদা নির্মল খীরুর বুকে এখন শুধুই কল কারখানার দূষিত বর্জের কালো পানি। ভালুকার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা অসংখ্য কল কারখানার দূষিত গরম কালো বর্জ পানি দিন রাত খীরুর বুক বেয়ে চলে। এক সময় খীরুর মিঠা পানিতে বহু প্রজাতির মাছ পাওয়া যেতো যা এলাকার এক শ্রেণীর মানুষের জীবন জিবিকার উৎস্য ছিলো। অথচ এসব কথা বর্তমান প্রজন্মের কাছে রুপ কথার গল্পের মত শোনায়।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৭৪ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই