তারিখ : ২৬ মার্চ ২০১৯, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

রাবিতে শহীদ ড. শামসুজ্জোহা দিবস পালিত

রাবিতে শহীদ ড. শামসুজ্জোহা দিবস পালিত
[ভালুকা ডট কম : ১৮ ফেব্রুয়ারী]
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ ড. শামসুজ্জোহা দিবস পালিত হয়েছে। সোমবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।এদিন সকাল ৭টায় উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের নেতৃত্বে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ শহীদ ড. শামসুজ্জোহার সমাধি ও জোহা স্মৃতিফলকে পুস্পস্তবক অর্পণ করে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, আবাসিক হল, পেশাজীবী সমিতি, ছাত্র রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পুস্পস্তবক অর্পণ করে। সকাল সাড়ে আটটায় জোহা স্মরণে অফিসার সমিতি কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দিনের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনসহ অন্যান্য ভবনে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।সকাল দশটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাবির শহীদ প্রক্টর অধ্যাপক ড. জোহা স্মারক বক্তৃতা দেন, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ররসায়ন বিভাগের অধ্যাপক শ্যামল চক্রবর্তী।

এসময় অধ্যাপক শ্যামল চক্রবর্তী বলেন,যেসকল গুণাবলীর জন্য একজন পাঠ দাতা প্রকৃত শিক্ষকের মর্যাদা লাভ করেন, ড. শামসুজ্জোহা নিঃসন্দেহে সেই স্থান অর্জন করেছেন। সর্বে পল্লী রাধা কৃষ্ণ বলেছিলেন ‘শিক্ষক সমাজ জাতির মেরুদন্ড’ এর সত্য মিথ্যা পরীক্ষা করবে সুশীল সমাজ। তবে ‘ভঙ্গুর’ মেরুদন্ড নিয়ে দিন অতিবাহিত করলে জাতির ‘ঋজু’ মেরুদন্ড নির্মান হয় না, নিজের জীবন দান করে আমাদের জানিয়ে গিয়েছিলেন শহীদ ড. শামসুজ্জোহা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান বলেন, ১৯৬৯ সালে আইয়ুব সরকারের ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে, জোহা সেদিন জানতেন পাকিস্তানি বাহিনী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করবে, তিনি সেনা সদস্যদের সামনে গিয়ে বলেছিলেন, কোনো ছাত্রের গায়ে গুলি লাগার আগে যেন আমার গায়ে লাগে। তিনি ছাত্রের জন্য জীবন দিয়ে গেছেন। এমন মহান শিক্ষক কয়জন হতে পারে, সবাই কি জোহা হতে পারবে।উপাচার্য  আরও বলেন, ড. জোহার আত্মত্যাগ বিফলে যায়নি। তাকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতা আন্দোলন আরও ত্বরান্বিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক বেলায়েত হোসেন হাওলাদারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা ও অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া। অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম সেখ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ, রাবি প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান, জনসংযোগ দপ্তর প্রশাসক সহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্মচারী, বিভিন্ন অনুষদ অধিকর্তা ও বিভাগের শিক্ষকরা।এছাড়া এদিন বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে কোরআন খানি ও বিশেষ মোনাজাত, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে দোয়া মাহফিল ও প্রদীপ প্রজ্জ্বালন করা হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রক্টর অধ্যাপক শামসুজ্জোহা পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে নিহত হন।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

শিক্ষাঙ্গন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৬০ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই