তারিখ : ২৬ মার্চ ২০১৯, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

তজুমদ্দিনে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে নেই শহীদ মিনার

তজুমদ্দিনে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে নেই শহীদ মিনার
[ভালুকা ডট কম : ১৯ ফেব্রুয়ারী]
বাঙালি জাতির গর্ব ও অহংকারের দিন একুশে ফেব্রুয়ারী। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনে ও শহীদদের প্রতি সম্মান এবং শ্রদ্ধা জানাতে ভোলার তজুমদ্দিনে দু-একটি ছাড়া অধিকাংশ বিদ্যালয়ে নেই কোন শহীদ মিনার। অথচয় সরকারীভাবে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে একুশে ফেব্রুয়ারী পালনের নির্দেশ থাকলেও বিদ্যালয়গুলোতে শহীদ মিনার না থাকায় শিক্ষার্থীরা পারছেনা দিবসটি ভালভাবে পালন করতে।

ভাষা আন্দোলনের ৬৭ বছর পরও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনার না থাকায় একুশে ফেব্রুয়ারীর আগের দিন শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে কলা গাছ দিয়ে শহীদ মিনার বানিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অথচয় অধিকাংশ বিদ্যালয়গুলি বেসরকারী খাতের টাকা বিভিন্ন কাজে ব্যয় করলেও সামান্য ব্যয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শণের জন্য শহীদ মিনার তৈরী করতে উদ্যোগ গ্রহণ করেনা।

উপজেলার ১১০টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটিতেও নেই শহীদ মিনার। একুশে ফেব্রুয়ারীর দিন সকালে বেলায় উপজেলা সদরের আশপাশে স্কুলগুলি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রভাত ফেরীতে অংশ নিয়ে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি তাদের সম্মান জানলেও বাকি বিদ্যালয়গুলিতে এ দিবসটি পালন করে ঢিলেঢালা ভাবে। ১৫টি মাদ্রাসার একটিতেও নেই শহীদ মিনার সেই হিসেবে এই দিবস পালনে তাদের নেই তেমন কোন মাথা ব্যাথা। এদিকে ১৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে পঞ্চপল্লী মাধ্যমিক বিদ্যলয়, শিবপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও শম্ভুপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার থাকলেও বাকিগুলিতে নেই। অপরদিকে ৩টি কলেজের মধ্যে দুইটিতে শহীদ মিনার থাকলেও নেই শম্ভুপুর শাহে আলম মডেল কলেজে।

এব্যপারে শম্ভুপুর শাহে আলম মডেল কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মুঈনউদ্দিন জানান, শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য জেলা পরিষদে আবেদন করা হয়েছে। সরকারীভাবে কোন উদ্যোগ না নেয়ায় প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারী আসলে পাশ্ববর্তী বিদ্যালয়ে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এদিকে উপজেলার ২টি সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একটিতেও নেই ভাষা শহীদদের প্রতিশ্রদ্ধা জানানোর জন্য শহীদ মিনার।

জানতে চাইলে গোলকপুর রাজকুমার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম ফরিদ উদ্দিন বলেন, স্কুলগুলোতে শহীদ মিনার না থাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসটি পালন করতে অনেক সমস্যা হয়। তবুও আগের দিন কলাগাছ দিয়ে শহীদ মিনার বানিয়ে শহীদদের প্রতিশ্রদ্ধা জানিয়ে দিবসটি পালন করি আমরা।

পশ্চিম চাঁদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপ্লব চন্দ্র দাস বলেন, নিজস্ব শহীদ মিনার না থাকায় উপজেলায় বাচ্চাদের নিয়ে ফুল দিয়ে দিবসটি পালন করি। যদি স্কুলে শহীদ মিনার থাকতো তাহলে দিবসটির তাৎপর্য সম্পর্কে তাদেরকে ধারণা দেয়া যেত।

বাংলা বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারী শুরুর ২দিন আগে খুঁটির সাথে কাঠ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরী করে দিবসটি পালন করে থাকি।
চাঁচড়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওঃ সালেহ উদ্দিন বলেন, সরকারী ভাবে কোন বরাদ্ধ না দেয়ায় নিজ উদ্যোগে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরী করে দিবসটি পালন করি। সামনে যাতে স্থায়ী শহীদ মিনার তৈরী করে দিবসটি পালন করা যায় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আতিকুল ইসলাম বলেন, সরকারীভাবে এধরনের কোন প্রকল্প নেই। তবুও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিনিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার প্রয়োজন। বিষয়টি আমি জেলা শিক্ষা কমিটির মিটিংয়ে ও উপজেলা পরিষদের মিটিংয়ে উপস্থাপন করছি।

মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শওকত আলী বলেন, পড়াশুনার মানের দিকে খেয়াল রেখে শহীদ মিনার নিমার্ণের জন্য বিদ্যালয়ের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। খুব শীগ্রই  তালিকা উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার দাস জানান, স্কুলে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য জেলা পরিষদ অর্থ দেয়। সেই হিসেবে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য প্রতিষ্ঠানের তালিকা সুপারিশসহ দ্রুত প্রেরণ করা হবে।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

শিক্ষাঙ্গন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৬০ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই