তারিখ : ২৬ জুন ২০১৯, বুধবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

ঋণ নিয়ে ফেরত দিচ্ছে না প্রভাবশালীরা,বিপাকে ব্যাংকিং খাত

ঋণ নিয়ে ফেরত দিচ্ছে না প্রভাবশালীরা,বিপাকে ব্যাংকিং খাত
[ভালুকা ডট কম : ১৭ মার্চ]
দেশের ব্যাংকগুলো প্রভাবশালীদের বড় অঙ্কের ঋণ দিয়ে এখন বিপাকে পড়েছে। বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে তা ফেরত না দেয়ার প্রবণতা বেড়ে গেছে। ফলে বেড়ে যাচ্ছে ব্যাংকগুলোর লোকসানের পাল্লা। এতে ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান মতে, মাত্র ১ ও ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে এবং সুদের ওপর বিশেষ ছাড় নিয়ে ১১টি শিল্প গ্রুপ ১৪ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকার ঋণ পুনর্গঠন করেছিল। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠান ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করায় ওই নতুন ঋণও আবার খেলাপি হয়ে পড়েছে। গত ডিসেম্বর শেষে ওই ঋণ সুদে-আসলে ২০ হাজার কোটি টাকা ছেড়ে গেছে, যা গত সেপ্টেম্বর শেষে ছিল প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা। ঋণ গ্রহীতা এসব প্রতিষ্ঠান বিশেষ সুবিধা নিয়ে ঋণ পুনর্গঠন করেও ঋণের কিস্তি পরিশোধ করছে না। উল্টো কেউ কেউ উচ্চ আদালত থেকে স্থাগিতাদেশ নিয়ে  আবার অন্য ব্যাংক থেকে নতুন করে ঋণ নিচ্ছে।

ব্যাংকগুলো থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, সরকার সমর্থিত দেশের প্রভাবশালী একটি শিল্পগ্রুপ ২০১৫ সালে বিশেষ সুবিধায় ৫ হাজার ২১৬ কোটি টাকার ঋণ নবায়ন করেছিল। ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করায় ওই ঋণ বেড়ে এখন সুদে-আসলে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার ওপরে ঠেকেছে। অপর একটি শিল্পগ্রুপ ১ হাজার ৭৭৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকার ঋণ পুনর্গঠন করেছিল। ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করায় সুদে-আসলে তা বেড়ে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকায় উঠেছে। দেশের প্রথম কাতারের আরেকটি শিল্পগ্রুপ ১ হাজার ৬৮৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকার ঋণ পুনর্গঠন করেছিল। যথাযথভাবে ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করায় এখন তা বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকায় ঠেকেছে।

সাম্প্রতিককালে বহুল আলোচিত রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির দায়ে অভিযুক্ত আরেকটি শিল্প গ্রুপ ১ হাজার ৯৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকার ঋণ পুনর্গঠন করেছিল। যথাযথভাবে ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করায় এখন তা বেড়ে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

এ প্রসঙ্গে বাসদ-এর কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এভাবে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে লুটপাট চলতে থাকলে জনগণের উপর এ বোঝা চাপবে। জনগণের পকেট কেটে টাকা আদায় করা হবে। এ লুটপাটের আর্থনীতির বিরুদ্ধে সমাজের সচেতন মহল ও সুশীল সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।

অর্থনৈতিক বিশ্লষকেরা জানিয়েছেন, বড় গ্রাহকদের একাধিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে দেয়া উচিত নয়। ঋণ কেন্দ্রিভূত হওয়া ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ নেয়া উচিত। একই সাথে বড় শিল্প গ্রুপের ঋণগুলো কঠোরভাবে তদারকি করা উচিত।

এদিকে, নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল জানিয়েছেন, সরকার খেলাপি ঋণ আদায়ে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি করার পরিকল্পনা  করছে। বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনার পর তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৯ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা। গত সপ্তাহে জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২০১৮ সালে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে স্বীকার করে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনতে পলিসি গ্রহণের কথা জানান।

নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, খেলাপি ঋণ বিক্রি করার জন্য আমরা একটি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি করব। ওই কোম্পানির কাছে ঋণ বিক্রি করে দীর্ঘ মেয়াদে এসব ঋণ আদায় করার পরিকল্পনা রয়েছে। #





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অন্যান্য বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৭৬ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই