তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

সখীপুরে কাগজে কলমে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকলেও বাস্তবে নেই

সখীপুরে কাগজে কলমে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকলেও বাস্তবে নেই
[ভালুকা ডট কম : ০৬ জুলাই]
টাঙ্গাইলের সখীপুরে যাদবপুর ও হাতীবান্ধা ইউনিয়ন দুটিতে গত ১১ বছর ধরে কাগজে কলমে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকলেও বাস্তবে নেই। স্থাপনাবিহীন ওই দুই হাসপাতালে চিকিৎসক নিয়োগ থাকলেও তাঁরা প্রেষণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে ওই দুটি ইউনিয়নের গ্রাম পর্যায়ের দুই লক্ষাধিক মানুষ গত ১১ বছর ধরে স্বাস্ব্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় আটটি ইউনিয়নের মধ্যে শুধু কাকড়াজান, বহেড়াতৈল, কালিয়া ও গজারিয়া ইউনিয়নে বাস্তবে একটি করে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। যাদবপুর ও হাতীবান্ধায় ইউনিয়নে কাগজে কলমে থাকলেও বাস্তবে এর অস্তিত্ব নেই। এছাড়াও নব গঠিত দাড়িয়াপুর ও বহুরিয়া ইউনিয়নে এখনো হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়নি।

জানা যায়, গত ২০০৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলার যাদবপুর ও হাতীবান্ধা ইউনিয়নের প্রতিটি  উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জন্য একজন চিকিৎসা কর্মকর্তা, একজন উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন অফিস সহায়কের পদ সৃষ্টি হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ওই পদের বিপরীতে নিয়োগও দেয়। তবে ওই পদের বিপরীতে নিয়োগপ্রাপ্তরা বাস্তবে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্থাপনা না থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে প্রেষণে দায়িত্ব পালন করছেন।

যাদবপুর ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কাগজে-কলমে চিকিৎসা কর্মকর্তা (মেডিকেল অফিসার) হিসেবে  সুশান্ত কুমার সাহা থাকলেও বর্তমানে তিনি প্রেষণে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চাকুরী করছেন এবং উপ-সহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা (স্যাকমো) মোস্তফা কামাল কর্মরত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্মরত রয়েছেন।হাতীবান্ধা ইউনিয়নে চিকিৎসা কর্মকর্তা হিসেবে শামীমা আহমেদ এবং উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা রাশিদা আক্তার  যোগ দিলেও বর্তমানে তারা সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করছেন।

এ ব্যাপারে উপ-সহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, আমি চার বছর ধরে স্থাপনাবিহীন হাসপাতালে চাকরি করছি। কাগজে-কলমে একই হাসপাতালে চাকরি করলেও আমার সহকর্মী চিকিৎসা কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার সাহাকে আমি কখনো দেখিনি। কারণ হচ্ছে আমি যে হাসপাতালে কাজ করার জন্য নিয়োগ পেয়েছি, বাস্তবে ওই ইউনিয়নের কোথাও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কোনো অস্তিত্ব নেই।

যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান ও হাতীবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমাদের ইউনিয়নে কাগজে-কলমে একটি করে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকলেও বাস্তবে নেই। ফলে আমাদের দুটি ইউনিয়নের প্রায়  দুই লাখ গ্রামবাসী স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বেলায়েত হোসেন বলেন, আমি প্রায় বছর খানেক ধরে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দিয়েছি। আমার কার্যালয়ে প্রতিটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র বিষয়ে যাবতীয় তথ্যাবলী টাঙিয়ে রেখেছি। ওই দুই চেয়ারম্যান মহোদয় এ সম্পর্কে না জানলে আমার কী করার আছে। তবে আমি ওই দুই চেয়ারম্যানকে কথা দিতে পারি প্রতিটি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জমিদাতা পাওয়া গেলে হাসপাতালের ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৯২৮ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই