তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

আওয়ামী লীগ ২১ আগস্ট নিয়ে রাজনীতি করছে-রিজভী

আওয়ামী লীগ ২১ আগস্ট নিয়ে রাজনীতি করছে-রিজভী
[ভালুকা ডট কম : ২২ আগস্ট]
২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনায় তৎকালীন বিএনপি সরকারকে দায়ী করে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছে বিএনপি। গ্রেনেড হামলার স্মরণে বুধবার রাজধানীতে দলীয় আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ক্ষমতায় থাকা বিএনপি-জামায়াত জোটের মদদ ছাড়া দিনে-দুপুরে এমন ঘটনা ঘটতে পারে না। ২১ আগস্টের ঘটনায় খালেদা জিয়ার সহযোগিতা থাকলেও তাকে আসামি করা হয়নি। তিনি তো প্রধানমন্ত্রী ছিলেন-তার সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব ছিল।

এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেন, ২১ আগস্টের বিচারাধীন মামলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রী ও নেতারা অবলীলায় এবং ক্রমাগত এমন বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন যা মামলার রায়কে প্রভাবিত করে আসছে।

প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে রিবভী পাল্টা প্রশ্ন করেছেন, বিএনপি সরকারের সময়ে ঘটনার জন্য যদি বিএনপি দায়ী হয়, তাহলে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পিলখানায় সেনা সদস্যদের হত্যাকাণ্ড, মুক্তচিন্তার ব্লগার, যাজক-পুরোহিত-ইমাম-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হত্যাকাণ্ডের জন্য কেন আওয়ামী সরকার দায়ী হবে না?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালীনই তো পল্টনে সিপিবি’র সমাবেশে, রমনায় ছায়ানটের অনুষ্ঠানে, যশোরের উদীচীর অনুষ্ঠানে, খুলনার কাদিয়ানী মসজিদে, গোপালগঞ্জে ক্যাথলিক গীর্জায়, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ অফিসে, বাগেরহাটের কলেজ মাঠে আক্রমণ ও বোমা হামলা হয়েছে। তাহলে কি এসবের দায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী সরকারের ওপর বর্তায় না? এসব ঘটনাতো তাদের আমলেই হয়েছে। আওয়ামী লীগের আমলে চলমান গুম-খুন ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলোর সাথে কারা জড়িত তা প্রতিটি ভুক্তভোগী পরিবার ও দেশবাসী খুব ভালো করেই জানেন।

২১ আগস্টের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, গ্রেনেড হামলায় হতাহতের ঘটনা মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক। আইভি রহমানসহ অনেকের জীবননাশ ও আহত হওয়ার নৃশংস ঘটনায় আমরা তখনও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছি-এখনও জানাই।

কিছু গণমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, কেবল প্রধানমন্ত্রী বা ক্ষমতাসীন দলের নেতারাই নন, আমরা বিস্মিত হয়েছি, দুই-একটি পত্রিকা এবং সরকারি নেতাদের মালিকানাধীন টেলিভিশনে ইনিয়ে বিনিয়ে অসংলগ্ন ভাষায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের ওপর দোষ চাপাতে অক্লান্ত চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য, প্রকৃত ঘটনা এভাবে মিথ্যাচার আর অপপ্রচারের মাধ্যমে জনগণের কাছে বিশ্বাসযাগ্য করা যাবে না।

বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রথম থেকেই আওয়ামী লীগ একুশে আগস্ট বোমা হামলা মামলা নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনীতি করছে। মূলত: ২১ আগস্টের ঘটনা ছিল গভীর নীল নকশার অংশ। এই মামলার সামগ্রিক সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসত। কিন্তু তা না করে সুপরিকল্পিত নীলনকশা অনুয়ায়ী এই ঘটনাকে ন্যক্কারজনক কায়দায় সম্পূর্ণ রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করে আসছে আওয়ামী লীগ। তার বড় প্রমাণ কথিত সম্পূরক চার্জশিটের নামে এই মামলায় তারেক রহমানকে জড়িয়ে ফরমায়েশী রায়ে সাজা দেয়া। যা ছিল সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, গভীর ষড়যন্ত্রমূলক ও দীর্ঘদিনের মাস্টারপ্ল্যানের ফসল।

চার্জশিটে তারেক রহমানের নাম রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে অভিযোগ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, মঈন উদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকারের সময়ও মামলার চার্জশিটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম ছিল না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাদের একান্ত অনুগত, বিশ্বস্ত ও দলীয় লোক, পুলিশ  বিভাগ থেকে অবসরে যাওয়া আওয়ামী লীগের মনোনয় প্রার্থী আবদুল কাহহার আকন্দকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয় শুধুমাত্র বিএনপি নেতাদেরকে বিপদাপন্ন করার জন্য।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ১/১১ এর পর ১৬৪ ধারায় মুফতি হান্নানের জবানবন্দিতে তারেক রহমানের নাম ছিল না। মুফতি হান্নানকে ৪১০ দিন রিমান্ডে রেখে অমানুষিক নির্যাতন করে এ মামলায় তারেক রহমানের নাম বলতে ও তথাকথিত স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করেন কাহার আকন্দ- যার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। একই ব্যক্তির একই মামলায় দুই বার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির নজিরও নেই।’ পরবর্তী সময়ে আদালতে আবেদন করে মুফতি হান্নান তার তথাকথিত স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যও প্রত্যাহার করে নেন এবং তার ওপর বর্বোরচিত নির্যাতনের বিবরণ দেয়।

সমাবেশস্থল নিয়ে আওয়ামী লীগ লুকোচুরি করেছে অভিযোগ করে বিএনপির অন্যতম এই শীর্ষ নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সমাবেশ শুরুর দুই ঘণ্টা আগেও জানত না সমাবেশ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে হবে। সেখানে মুফতি হান্নান কিভাবে দুই দিন আগেই জেনেছিলেন সমাবেশ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে হবে? কার সিদ্ধান্তে সমাবেশস্থল মুক্তাঙ্গন থেকে রাতারাতি সরিয়ে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে নেওয়া হয়েছিল?

রিজভী আরো বলেন, মুফতি হান্নানের স্বীকারোক্তিতে গ্রেনেড নিক্ষেপের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু বন্দুক ব্যবহারের কথা নেই। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় ও সিকিউরিটি অফিসার নাজিব আহমেদ বলেন, তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার বুলেটপ্রুফ গাড়িতে অসংখ্য গুলি করা হয়েছে। এ বন্দুক ও গুলি এলো কোথা থেকে?

বিএনপির এ নেতা উল্রেখ করনেন,  এই ঘটনার তদন্ত করতে তৎকালীন বিএনপি সরকার মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআইকে নিয়ে এসেছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এফবিআইকে তদন্ত কাজে কোনো প্রকার সহায়তা করা হয়নি। এমনকি শেখ হাসিনাকে বহনকারী গাড়িটিও পরীক্ষা করতে  দেওয়া হয়নি। কেন তারা সুষ্ঠু তদন্ত করতে দিল না-এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য। এরকম অনেক প্রশ্নের কোন সমাধান হয়নি আজও। এই প্রশ্নগুলোর সমাধান হলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অন্যান্য বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৮৯ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই