তারিখ : ১৮ নভেম্বর ২০১৯, সোমবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নান্দাইলে ২৫০জন শিক্ষার্থীর দায়িত্বে একজন শিক্ষক

নান্দাইলে ২৫০জন শিক্ষার্থীর দায়িত্বে একজন শিক্ষক
[ভালুকা ডট কম : ২০ সেপ্টেম্বর]
ময়মনসিংহের নান্দাইলের মাঠিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়ে মাত্র একজন শিক্ষক কর্মরত। এ কারণে দাপ্তরিক কাজে বা ছুটিতে তিনি অন্যত্র গেলে বিদ্যালয়ে পাঠদান বিঘ্নিত হয়। এ অবস্থায় একজন অতিথি শিক্ষকের সহায়তা নিয়ে চলছে ২৫০ শিক্ষার্থীর পাঠাদান।

শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানায়, প্রায় এক যুগ আগে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি রয়েছে আসবাবের সংকটও। বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদের সংখ্যা পাঁচ। কিন্তু শিক্ষক রয়েছেন মাত্র তিন জন। এর মধ্যে একজন রয়েছেন ছুটিতে, একজন প্রশিক্ষণে এবং যিনি আছেন, তিনি সহকারী শিক্ষক শহিদুল ইসলাম। অন্য পদ দুটি শূন্য। বিদ্যালয়ের ৫২ শতক জমির অনেকটাই পাশের রাস্তা ও নদীতে মিশে গেছে। নতুন একটি ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় মাঠে জায়গা নেই বললেই চলে। উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে বিদ্যালয়টির অবস্থান হলেও চার কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী থাকায় কোনো শিক্ষকই ওই বিদ্যালয়ে যেতে চান না।

বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের আঙিনায় দৌড়ঝাঁপ করছে। অফিস কক্ষে গিয়ে দেখা যায় দুজন বসে আছেন। যাঁদের একজন শিক্ষক, অন্যজন দপ্তরি-কাম-নৈশ প্রহরী। শিক্ষক শহিদুল ইসলাম জানান, তিনিই বিদ্যালয়ের একমাত্র প্রধান ও সহকারী শিক্ষক! বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক তিন জন। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষক নাসরিন আক্তার ১ জানুয়ারি থেকে ময়মনসিংহে ডিপিএড প্রশিক্ষণে রয়েছেন। অন্য সহকারী শিক্ষক সাফিয়া আক্তার তিন মাস ধরে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন। তাই সবেধন নীলমণি এক শিক্ষক দিয়েই চলছে ২৫২ শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম।

তিনি আরো জানান, একা একা পাঠদান করতে গিয়ে তিনি হাঁপিয়ে উঠেছেন। যে দিন বিদ্যালয়ের কাজে অফিসে যাই, সেদিন এক রকম বন্ধই থাকে পাঠদান। এসব কারণে সম্প্রতি মোশাররফ হোসেন নামের একজন অতিথি শিক্ষক নেওয়া হয়েছে। অবশ্য পরিদর্শনের সময় অতিথি শিক্ষককে বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি। পরিদর্শন রিপোর্ট থেকে জানা যায়, সব শেষ ৪ আগস্ট সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (এটিইও) শাকিল আহমেদ বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে গিয়ে দেখা যায়, ২১ শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উপস্থিত রয়েছে।

শিক্ষার্থী বৃষ্টি আক্তার বলে,নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় আমার এক সহপাঠী অন্যত্র চলে গেছে।একই শ্রেণির জুবায়ের হাসান বলে,সামনে আমাদের পিএসসি পরীক্ষা। তাই স্যার আমাদের একটু বেশি সময় দেন। এতে অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিভাবে স্যার তোমাদের ক্লাস নেন জানতে চাইলে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী হেপি আক্তার বলে,স্যার ক্লাসে লিখতে বা পড়তে দিয়ে অন্য ক্লাসে গিয়ে পড়ান। শিক্ষার্থী রিফাত হাসান বলে,ক্লাস না হওয়ায় সহপাঠীদের অনেকেই নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসে না। প্রতিবেশী অভিভাবক হাসিম উদ্দিন বলেন,শিক্ষক নেই, পড়ালেখা কেমন হবে, তা আপনারা বোঝেন না!

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও এই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির আহ্বায়ক শাকিল আহমেদ বলেন, বিদ্যালয়টিতে শিক্ষকস্বল্পতা রয়েছে। এ জন্য আরো দুজন শিক্ষক দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আশার রাখি, খুব শিগগির বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট কেটে যাবে।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

শিক্ষাঙ্গন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২২১ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই