তারিখ : ১৪ নভেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

সান্তাহার জংশন স্টেশনে পুনরায় দোকান নির্মাণের চেষ্টা

ঐতিহ্যবাহী সান্তাহার জংশন স্টেশনে উচ্ছেদ হওয়া জায়গায় পুনরায় দোকান নির্মাণের চেষ্টা
[ভালুকা ডট কম : ১২ অক্টোবর]
উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী রেলওয়ে স্টেশন হচ্ছে বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার জংশন রেলওয়ে স্টেশন। ব্রিটিশ শাসন আমলে ১৯২০সালে স্থাপিত হয় এই স্টেশনটি। এই স্টেশন থেকে কয়েকটি জেলার মানুষরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রেন যোগে চলাচল করে আসছে। স্টেশনে দিন দিন সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি পেলেও আধুনিকতার ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত এই স্টেশনটি।

আর প্রতিদিনই আধুনিক সকল-সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে স্টেশন থেকে ট্রেনে যাওয়া-আসা করা হাজার হাজার রেলযাত্রীরা। তবুও স্টেশনের পুরাতন ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার লক্ষে রেলপথ মন্ত্রাণালয়ের সহকারি সচিব সান্তাহার জংশন স্টেশন এলাকায় পরিদর্শনে আসার আগে স্টেশনের এক নম্বর প্লাটফমের্র রেললাইন ঘেঁষে গড়ে ওঠা ২৬টি অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করে ষ্টেশন কর্তৃপক্ষ। পরবর্তিতে উদ্ধার হওয়া এলাকা কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে দেয়া হয় । কিন্তু উচ্ছেদের কয়েক দিন পার না হতেই ওই স্থানে কাঁটা তারের ঘেরার মাঝে আবারো নতুন করে দোকান নির্মাণের চেষ্টা শুরু করেছেন উচ্ছেদ হওয়া অবৈধ দোকানীরা। তাদের এ কাজে স্থানীয় সরকার দলীয় কিছু নেতা সহযোগীতা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় এলাকাবাসিরা জানায়, গত সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সহকারি সচিব জাহিদুল ইসলাম সান্তাহার জংশন স্টেশনে পরিদর্শনে আসেন। তার পরিদর্শনের আগেই স্টেশন কর্তৃপক্ষ এক নম্বর প্লাটফর্মের পশ্চিম পাশে অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা ২৬টি স্থাপনা সরিয়ে ফেলে। সচিব স্টেশন পার্শ্ববর্তী এলাকায় যেন কোন প্রকার অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠতে না পারে সে বিষয়ে স্টেশন মাস্টার ও রেল পুলিশকে সতর্ক করেন। তিন দিনের পরিদর্শন শেষে সচিব জাহিদুল ইসলাম চলে যাওয়ার পর ওই স্থানে পুনরায় মালামাল ফেলে দোকান তৈরীর উদ্যেগ নেয়া হচ্ছে। এক পর্যায়ে সান্তাহার নাগরিক কমিটি ঝুকিঁপূর্ন ওই স্থানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের প্রতিবাদে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। সমাবেশ থেকে বক্তারা বলেন, রেললাইন ঘেঁষে দোকান নির্মাণ করার ফলে একদিকে যেমন দুর্ঘটনার আশাংকা রয়েছে পাশাপাশি এসব দোকানে অবস্থান নিয়ে অপরাধীরা স্টেশন এলাকায় নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালায়। সমাবেশ থেকে পুনরায় দোকান নির্মাণ বন্ধে স্টেশন কর্তৃপক্ষের সহযোগীতা কামনা করেন তারা । তাদের দাবির মুখে রেল কর্তৃপক্ষ ও সান্তাহার পৌরসভা যৌথ উদ্যেগ নিয়ে উচ্ছেদকৃত এলাকা কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে দেয়।

স্টেশনে আসা কয়েকজন ট্রেনযাত্রী বলেন আগের চেয়ে স্টেশনে কিছুটা সুস্থ্য পরিবেশ ফিরে এসেছে। আগের চেয়ে স্টেশনটি অনেকটা ছিমছাম লাগছে। পরিস্কার-পরিছন্ন পরিবেশ ফিরে আসায়, প্লাটফর্মের আসে পাশের অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করার কারণে এখন স্টেশনটি অনেকটাই ভালো লাগছে।  অনেকটাই কমে গেছে পকেটমার ও ছিচকে চোরদের দৌরাত্ম। তবে স্টেশনটির মান আরো বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণ জনবল বৃদ্ধি করার পাশাপাশি আধুনিক মানসম্মত নিরাপদ প্রাচীর বেষ্টিত একটি নতুন স্টেশন ভবন অত্যন্ত জরুরী।

সরেজমিন স্টেশন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, উচ্ছেদ হওয়া দোকানীরা পুনরায় কাটাঁতারে বেড়ার মাঝে রেললাইন ঘেঁষে দোকান নির্মাণের উদ্যেগ গ্রহন করছে। ইতিমধ্যে ওই সকল দোকানীরা দোকান নির্মাণের জন্য বিভিন্ন মালামাল এনে স্টেশনের পাশে জমা করে রেখেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন দোকানী জানায়, স্থানীয় সরকার দলীয় কিছু নেতার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তারা দোকান নির্মাণের উদ্দ্যেগ নিচ্ছেন। উপজেলার শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের অনুমতি পেলেই তারা পুনরায় দোকান নির্মাণ করবেন।

সান্তাহার স্টেশনের স্টেশন মাস্টার রেজাউল করিম ডালিম বলেন, বর্তমানে স্টেশনটি চলছে অর্ধেকেরও কম সংখ্যক জনবল দিয়ে। আর হাতে গোনা কয়েকজন জনবল নিয়ে আমি চেষ্টা করছি যাত্রী ও স্টেশনের আশেপাশের মানুষদের মাঝে সম্পন্ন সেবা পৌছে দেওয়ার। কিন্তু আমি একা আর কতদুর করতে পারি। সকলের সহযোগিতা পেলে অবশ্যই স্টেশনকে অবৈধ দখল থেকে শুরু করে সকল অনৈতিক কর্মকান্ড থেকে রক্ষা করা সম্ভব। তবেই স্টেশন থেকে পুরোপুরি সুস্থ্য সেবা প্রদান করা সম্ভব।

তিনি আরো বলেন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জায়গাগুলোতে পুনরায় স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। জায়গাগুলো সংরক্ষন করার দায়িত্ব আইন শৃঙখলা রক্ষাকারি বাহিনীর। আর এই বিষয়গুলোর পিছনে দলীয় প্রভাব থাকায় সবার সহযোগিতা ব্যতিত আমার একার পক্ষে কোন শক্তিশালী ভ’মিকা গ্রহণ করা সম্ভব নয়। তবে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষরা যদি ইচ্ছে করেন তাহলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

সান্তাহার রেলওয়ে থানার (জিআরপি) ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, ওই স্থানগুলো কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা রয়েছে। কেউ যদি সেখানে অবৈধভাবে কোন স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সান্তাহার পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম বলেন, স্টেশনের আশেপাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জায়গায় পুনরায় স্থাপনা নির্মাণে যদি আমার কোন দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তর মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নওগাঁর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন একুশে পরিষদের সভাপতি এড. ডিএম আব্দুল বারী বলেন, সান্তাহার স্টেশনের সৌন্দয্যই হচ্ছে তার আশেপাশের পরিবেশ। বর্তমানে স্টেশনের আশেপাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করায় যথেষ্ট সুন্দর লাগছে স্টেশনটি। কিন্তু এই স্টেশনকে ঘিরে স্থানীয় কয়েকশত গরীব মানুষ জীবিকা নির্বাহ করতো। তাদের আয়ের উৎসই ছিলো এই রেল স্টেশন। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন, রেলের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ও সরকার যদি একটি নির্দিষ্ট স্থানে এই সব মানুষদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে তাহলে কিছু মানুষের আয়ের উৎসও তৈরি হলো মাঝখান থেকে স্টেশনটি অবৈধ দখলের হাত থেকে মুক্তি পাবে। এতে করে স্টেশনটি তার হারিয়ে যাওয়া সৌন্দয্য ও ঐতিহ্য ফিরে পাবে বলে আমি আশাবাদি। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে স্টেশনটি আমাদের সবার সম্পদ তাই এটির রক্ষনাবেক্ষন দায়িত্ব আমাদের সবার। তাই প্রথমে ব্যক্তি স্বার্থ না দেখে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। #





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকার বাইরে বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২২০ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই