তারিখ : ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নানা শর্তের আবর্তে কমছে সঞ্চয়পত্রের বিক্রির পরিমাণ

নানা শর্তের আবর্তে কমছে সঞ্চয়পত্রের বিক্রির পরিমাণ,বিশ্লেষক প্রতিক্রিয়া
[ভালুকা ডট কম : ১০ জানুয়ারী]
সুদের হার কমে যাওয়া এবং নানা শর্তের আবর্তে পরে দেশে সঞ্চয়পত্রের বিক্রির পরিমাণ কমে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও  জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর  সূত্রে  জানা যায়   চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) ৫ হাজার ৮৪১ কোটি ৬৪ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। অথচ আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই বিক্রির পরিমাণ ছিল ২১ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এ বছর সঞ্চয়পত্রের বিক্রি আগের বছরের চেয়ে ৭৩ শতাংশ কমে গেছে।

এক লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সঞ্চয়পত্রের সব লেনদেন ক্রেতাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে করতে হচ্ছে। এ ছাড়া সঞ্চয়পত্রে বড় বিনিয়োগে কঠোর হয়েছে সরকার। চাইলেই প্রভিডেন্ড ফান্ডের অর্থে সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ নেই। এখন প্রভিডেন্ড ফান্ডের অর্থ দিয়ে সঞ্চয়পত্র কিনতে হলে কর কমিশনারের প্রত্যায়ন লাগে। পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক ফার্মের নামে সঞ্চয়পত্র কিনতে হলে লাগছে উপ-কর কমিশনারের প্রত্যায়ন।

এসব  জতিলতার কারণে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাছাড়া, ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্রের সুদের ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ করার ফলে অনেকে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করার উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছেন।

বর্তমানে পরিবার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১.৫২ শতাংশ। ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১.২৮ শতাংশ, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১.০৪ শতাংশ, পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১.৭৬ শতাংশ। ২০১৫ সালের ২৩ মে মাসের পর থেকে এই হার কার্যকর আছে। এর আগে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ছিল ১৩ শতাংশেরও বেশি।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ প্রফেসসর ডঃ আবুল বারাকাত বলেন, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ কমছে বলেই  হয়তো তা সোনা-দানা, বিদেশি মুদ্রা  বা জমি কেনায় বিনিয়োগ হচ্ছে। অথবা মানুষের সঞ্চয় কমে  গেছে। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ কমার কারনে রাষ্ট্রের কোষাগারে মজুদ কমছে। আর তাই সরকারের খরচা মেটাতে ব্যাঙ্ক থেকে ধার  করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ধনী এবং কম ধনীদের জন্যা আলাদা সুদের হার করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। যাতে কমধনীর ছোট সঞ্চয়ের  জন্য  সুদের হারটা একটু বেশী রাখা হবে। এখন যদি  সুদের হার এক ডিজিতে নামিয়ে আনা হয় তবে সঞ্চয় পত্র বিক্রির উপর তার নেতিবাচক প্রভাব পরবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় সঞ্চয় স্কিমগুলোতে বিনিয়োগকৃত অর্থের ওপর একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর মুনাফা প্রদান করতে হচ্ছে সরকারকে। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পরে বিনিয়োগকৃত অর্থও ফেরত প্রদান করতে হয়। প্রতিমাসে বিক্রি হওয়া সঞ্চয় স্কিমগুলো থেকে প্রাপ্ত বিনিয়োগের হিসাব থেকে আগে বিক্রি হওয়া স্কিমগুলোর মূল ও মুনাফা বাদ দিয়ে নিট ঋণ হিসাব করা হয়। ওই অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা থাকে এবং সরকার তা প্রয়োজন অনুযায়ী বাজেটে নির্ধারিত বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজে লাগায়। এ কারণে অর্থনীতির পরিভাষায় সঞ্চয়পত্রের নিট বিনিয়োগকে সরকারের ‘ঋণ’ বা ‘ধার’ হিসেবে গণ্য করা হয়।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অন্যান্য বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২৩১ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই