তারিখ : ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নওগাঁর জবইবিলে আসতে শুরু করেছে অতিথি পাখি

নওগাঁর ঐতিহ্যবাহী জবইবিলে আসতে শুরু করেছে অতিথি পাখিসহ নানা রকমের পাখি,পাখির কলতানে মুখরিত পুরো জবইবিল
[ভালুকা ডট কম : ১৬ জানুয়ারী]
জেলার ভারত সীমান্তঘেষা উপজেলা সাপাহার। ঠাঁ ঠাঁ বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে পরিচিত জেলার এই সাপাহার উপজেলা। এই উপজেলাতে উৎপাদিত সুস্বাদু আমের খ্যাতি দেশজুড়ে। বর্তমানে এই বরেন্দ্র অঞ্চলে উৎপাদিত আম জেলার ব্যান্ডিং পন্যে পরিণত হয়েছে। এই উপজেলার আরেকটি ঐতিবাহী দর্শনীয় স্থান হলো জবইবিল। শীত এলেই এই ঐতিহ্যবাহী জবইবিল পরিযায়ী (অতিথি) পাখিসহ নানা রকমের পাখির কলতানে মুখরিত হয়ে ওঠে।

প্রতিবছর শীত মৌসুমের শুরু থেকে সুদুর রাশিয়া, সাইবেরিয়াসহ বিশ্বের শীত প্রধান দেশ হতে শত শত পাখি এসে ভীড় জমায় এই বিলে। আর এই সব সুন্দর সুন্দর পাখির আগমনে জবইবিল তার নিজ সৌন্দেয্যের বিকাশ ঘটাচ্ছে। প্রতিনিয়ত এই অতিথি পাখিসহ নানা জাতের নানা রকমের পাখি দেখার জন্য নওগাঁ জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা এই জবই বিলে এসে ভীড় জমায়।

জেলা সদর থেকে প্রায় ৬২কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত সীমান্তবর্তি এই উপজেলা সাপাহার। সাপাহার উপজেলার শিরন্টি ইউনিয়নে অবস্থিত এই জবইবিল। সাপাহার উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৫কিলোমিটার দূরে জবই নামক স্থানে প্রায় হাজার একর জমির উপর অবস্থিত এই ঐতিহ্যবাহী বিল। পর্যটকদের অবস্থানের জন্য সাপাহার সদরে রয়েছে মানসম্মত আবাসিক হোটেলগুলো। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় পথে নেই কোন দুর্ভোগের সমস্যা।

বিদেশ হতে আগত পিয়াং হাঁস, পাতি সরালি, লেঙজা হাঁস, বালি হাঁস, পাতি কূটসহ দেশী জাতের শামুকখোল, পানকৌড়ী, ছন্নি হাঁস বিল এলাকা মুখরিত করে তুলছে। অতিতে এক শ্রেণীর মানুষ অবাধে বিল হতে এসব অতিথি পাখি শিকার করে হাটবাজারে বিক্রি করত। এমনকি গত বছরও এলাকার কতিপয় ব্যক্তি এ বিল হতে বেশ কিছু পাতি সরালি হাঁস ফাঁদ পেতে ধরে বিক্রিয় করার সময় জবই বিল জীববৈচিত্র সংরক্ষন ও সমাজ কল্যাণ সংস্থার সদস্যগণ তাদের হাতে নাতে ধরে ফেলেন। পরে ওই পাখি শিকারীদের উপজেলা নির্বাহী অফিসার কল্যাণ চৌধুরী’র নিকট নিয়ে এলে তিনি ভ্রাম্যমান আদালতে তাদের শাস্তি প্রদান করেন। এর পর হতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কঠোরতা ও জীববৈচিত্র সংরক্ষন কমিটির সদস্যদের জোরালো নজর দারিতে বিল এলাকায় যে কোন ধরনের পাখি শিকার বন্ধ রয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে বর্তমানে দেশ বিদেশ হতে হরেক রকম পাখির আগমনে পুরো বিল এলাকা এখন পাখির কলতানে মুখরিত হয়ে উঠছে।

বেশ কয়েক বছর ধরে ওই এলাকার কিছু উৎসাহী যুবক জবইবিল জীববৈচিত্র সংরক্ষন ও সমাজ কল্যাণ সংস্থা নামে একটি সংগঠন তৈরী করে বিলে অতিথি পাখিসহ সব ধরনের পাখি শিকার বন্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এছাড়া বিলে কোন কচুরিপানা না থাকলেও সরকারী ও বে-সরকারী ভাবে মৎস্যজীবীগন খরা মৌসুমে বিলের পানি শুকিয়ে গেলে মা মাছগুলি রক্ষায় বিলের মধ্যে বেশ কিছু এলাকায় বাঁশ কাঠ ও কিছু কচুরিপানা দিয়ে কাঠা নামের একটি করে মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলে, খরা মৌসুমে মা মাছগুলি যাতে ওই স্থানে থাকতে পারে।

জীববৈচিত্র সংরক্ষন কমিটির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান জানান বর্তমানে জীববৈচিত্র সংরক্ষন কমিটির সদস্যদের প্রচেষ্টা ও স্থানীয় মৎসজীবীদের তৈরীকৃত কচুরিপানার কাঠা থাকায় অতীতের মত আবারো আস্তে আস্তে শীত মৌসুমে দেশি-বিদেশী পাখিরা অবাধে বিলে আসতে শুরু করেছে। ভবিষ্যতে বিলের বিশাল অংশে কচুরিপানা দিয়ে মাছসহ পাখিদের বড় ধরণের অভয়াশ্রম এবং বিলের বিভিন্ন দ্বীপগুলোতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়ে বনাঞ্চল তৈরী করলে সারা বছর বিল এলাকায় পাখিদের আনাগোনায় জবই বিল আবারো ফিরে পেত তার ঐতিহ্য ও নাব্যতা।

ইতিমধ্যে অনেক পাখি প্রেমিক ব্যক্তিরা পাখির সৌন্দয্য দেখতে বিল এলাকায় এসে বিড় জমাচ্ছে। বিল পাড়ে পর্যাটকদের জন্য ঘোরা ফেরা ও বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হলে ভবিষ্যতে সাপাহারের জবই বিলটি এই এলাকায় একটি পর্যটক কেন্দ্রে রূপ নিতে পারে বলেও অনেক পর্যাটকসহ এলাকাবাসীরা জানান।

নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর-পোরশা-সাপাহার) আসনের সংসদ সদস্য ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার সাপাহার উপজেলার জবই বিলটিকে একটি ঐতিহ্যবাহী পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পদক্ষেপ হাতে নিয়েছেন বলে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কল্যাণ চৌধুরী বলেন পূর্বে জবইবিল নানা সমস্যায় জর্জড়িত থাকলেও সবার সার্বিক সহযোগিতায় বর্তমানে জবইবিল পর্যটকদের জন্য একটি চমৎকার বিনোদনের স্পটে পরিণত করা হয়েছে। তবে একটি আধুনিক মানের বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যে মাননীয় খাদ্যমন্ত্রী ও জেলা প্রশাসন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। আশা রাখি জবইবিলকে ঘিরে গৃহিত এই প্রদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা হলে জবইবিল একটি আধুনিক বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হবে। এছাড়া শীত মৌসুমে এই বিলে জড়ো হওয়া অতিথি পাখিসহ নানা রকমের পাখি দেখতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

পরিবেশ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২৩১ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই