তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২০, শনিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নান্দাইলে মৃত উপকারভোগীদের ভাতা তুলে নিয়েছে একটি চক্র

নান্দাইলে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে মৃত ৫৩৪ উপকারভোগীর ৩০ লাখ টাকা ভাতা তুলে নিয়েছে একটি চক্র
[ভালুকা ডট কম : ৩১ জানুয়ারী]
ময়মনসিংহের নান্দাইলে ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় সাড়ে ২১ হাজার উপকারভোগী (বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী) রয়েছেন। এই উপকারভোগীরা বছরে চার বার তাঁদের প্রাপ্য ভাতা এক হাজার ৫০০ টাকা নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে তোলেন। এর মধ্যে গত পাঁচ বছরের বিভিন্ন সময়ে ৫৩৪ জন উপকারভোগী মারা গেলেও তাঁদের ভাতা ঠিকই তুলছে একটি চক্র।

এ ব্যাপারে অনুসন্ধানে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে ১৬৩ মৃত ব্যক্তির ভাতা প্রায় ৫০ লাখ টাকা জমা থাকার কথা থাকলেও ব্যাংকে টাকা রয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকার মতো। বাকি প্রায় ৩০ লাখ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। এসব ভাতাভোগী উপজেলার ৮ নম্বর সিংরইল ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিংরইল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম টানা দুবার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর আমলেই মৃত মানুষের নামে ভাতা তোলা হচ্ছিল। এ ঘটনা জানাজানির পর জানুয়ারি থেকে উল্লিখিতদের নামে ভাতা ছাড় করা হচ্ছে না। পরে ওই ইউনিয়নের দায়িত্বে নিয়োজিত সমাজসেবা কার্যালয়ের মাঠকর্মী আব্দুল মালেককে ভালুকায় বদলি করা হয়। এ ছাড়া তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আব্দুল হাদি নামের আরেক জনকেও তারাকান্দা বদলি করা হয়।

নান্দাইল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ইনসান আলী বলেন, মৃত উপকারভোগীদের ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভাতা বিতরণ বিষয়ের হালনাগাদ তথ্য ব্যাংকগুলো দিচ্ছে না। ফলে পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন সূত্রে ঘটনাটি জানতে পেরে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া যায়। পরে মৃত উপকারভোগীদের স্থলে জীবিতদের প্রতিস্থাপন করার কাজ শুরু করা হয়। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিস্থাপিত উপকারভোগীদের হাতে ভাতা বিতরণের পাস বই তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।

উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় উপকারভোগীর সংখ্যা (বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী) সাড়ে ২১ হাজারের মতো। কার্যালয়ের কর্মকর্তা ইনসান আলী জানান, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সহায়তা হিসেবে সরকার উপকারভোগীদের ভাতা দিচ্ছে। ভাতার টাকা সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করার দায়িত্ব তাঁর। তিনি তিন মাস পর পর বিভিন্ন ব্যাংকে অনুশাসনপত্র (অ্যাডভাইস) পাঠান। ওই পত্রে ভাতা বিতরণের সরকারের নীতিমালা উল্লেখ থাকে। ব্যাংকগুলো নীতিমালা মেনে চললে সমস্যা থাকার কথা নয়।

ওই কর্মকর্তা আরো জানান, তিনি নিজের পরিচয় গোপন করে কয়েকটি ব্যাংকের শাখায় গিয়ে দেখতে পান ব্যাংক কর্মকর্তারা মুখ না দেখেই ভাতার টাকা তুলে দিচ্ছেন। নান্দাইল শহরের নতুন বাজারের একটি ব্যাংকে গিয়ে তিনি দেখতে পান একজন ইউপি সদস্য পাঁচটি পাস বই হাতে করে ভাতার টাকা তুলতে এসেছেন। জিজ্ঞেস করলে ইউপি সদস্য (নাম প্রকাশ করেননি) তাঁকে জানান, উপকারভোগীরা অসুস্থ। তিনি তাঁদের টাকা তুলে দিতে এসেছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলার ৮ নম্বর সিংরইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম বলেন,এত লোক মারা গেছে, এইটা আমার জানা নাই। খোঁজ নিয়ে দেখব। তাঁদের ভাতা যে উঠানো হয়েছে, এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন,এমন তো হওয়ার কথা না। ব্যাপক সর্বনাশ তো। এই ইউনিয়নের ভাতা দেয় সোনালী ব্যাংক তারের ঘাট শাখা। ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ফজরে নুর জানান, তিনি সাত মাস আগে এই ব্যাংকে যোগ দিয়েছেন। এর পর থেকে স্বচ্ছতার সঙ্গে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। আগের দায় তিনি নেবেন না। এক বছরের ভাতার টাকা ইউপি সদস্যের পকেটে : পুরো এক বছরের কয়েকজন বিধবা ও বয়স্ক ব্যক্তির ভাতার টাকা তুলে নিয়েছেন উপজেলার আচারগাঁও ইউপি সদস্য সাখাওয়াৎ হোসেন বাবুল।

গত বুধবার তাঁর বিরুদ্ধে সমাজসেবা অফিসে এসে অভিযোগ করেন পূর্ব শিবনগর গ্রামের মোছা. রাজিয়া আক্তার, হাজেরা খাতুন ও আবদুল হাই। তাঁরা জানান, গত সেপ্টেম্বরে নান্দাইলের সোনালী ব্যাংকে এসে পাস বই জমা দিয়ে একেকজন ছয় হাজার টাকা তোলেন। পরে তাঁদের হাতে মাত্র ৫০০ টাকা দিয়ে বাকি টাকা নিয়ে নেন মেম্বার বাবুল।ভাতাভোগী হাজেরা খাতুন বলেন,কার্ড দেঅনের সময় মেম্বার টেহা চাইছিন। তহন দিতারছি না। এর লাইগ্যা হেইল্যা (মেম্বার) টেহা নিছেগা। আমি টেহাডা ফিরত চাই।

উপকারভোগীদের সরকারি ভাতা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য সাখাওয়াৎ হোসেন বাবুল বলেন,কী কইন, এইডাও কি সম্ভব। মানুষ ভোট দিছে কি তারার টেহা খাওনের লাইগ্যা। এইডা একটা ষড়যন্ত্র। নির্বাচনী প্রতিহিংসার বশবর্তী হইয়া কেউ আমার বিরুদ্ধে লাগছে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ইনসান আলী বলেন,দুজন নারী ও একজন পুরুষ উপকারভোগী গত বুধবার এসে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ভাতার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন। আমি তাঁদের অভিযোগটি লিখিতভাবে জানাতে বলেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

জীবন যাত্রা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২৩৮ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই