তারিখ : ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১, বুধবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

শ্রীপুরে বাড়িঘর তালাবদ্ধ মা-মেয়ের ঠাঁই এখন গোয়ালঘরে

শ্রীপুরে বাড়িঘর তালাবদ্ধ মা-মেয়ের ঠাঁই এখন গোয়ালঘরে
[ভালুকা ডট কম : ০৮ অক্টোবর]
২৫ বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল জলিল শিকদার-ছালমা দম্পতির। এরপর তাদের সংসারে জুলেখা নামের এক মেয়ের জন্ম হয়। জুলেখার বয়স যখন ১১বছর তখন তার বাবা মারা যায়। এরপর থেকেই অনেক কষ্ট সহ্য করেই অর্ধাহারে অনাহারে দিন কেটে যাচ্ছিল মা ও মেয়ের।

এরই মাঝে জুলেখার পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তির উপর লোভ তৈরী হয় চাচাদের। ১৫বছর বয়সী কিশোরী জুলেখাকে গত বছর নিজের ও মায়ের অমতে জোর করে জেঠাতো ভাই জসিম সিকদারের সাথে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ে বেশী দিন টিকেনি। জুলেখা আক্তার স্বামীর অজান্তে পরকিয়া হয়ে পাশের এলাকার জলক নামের এক ছেলের সাথে দ্বিতীয় বিয়ে হয়। মেয়ে অন্যের ঘরে চলে যাওয়ায় ফের অসহায় হয়ে পড়েন তার মা ছালমা আক্তার। স্বামী হারা ছালমা তার বাপের বাড়ি থেকে জমি বিক্রি করে ২০ লাখ টাকা এনে ৭টি আঁধাপাকা ঘর নির্মাণ করেন। উদ্দেশ্য ছিল, এসব ঘর ভাড়া দিয়ে যে আয় হবে তা দিয়েই ছালমার বাকী জীবন কেটে যাবে। তবে ছালমার বাবার বাড়ী থেকে টাকা এনে বাড়ি করার বিষয়টি অস্বীকার করেন জসিম সিকদারের বাবা গফঁর সিকদার।

এদিকে জোর করে কিশোরী জুলেখাকে বিয়ে দেয়ায় সে মেনে নিতে পারেনি। পরে তার পছন্দের ছেলে জলক নামের একজনের কাছে জুলেখার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। ফলে তাদের সংসারে ভাঙ্গন ধরে। এ অবস্থায় ফের হিংস্্র হয়ে উঠে জুলেখার চাচারা। ছালমার মা তার বাবার বাড়ীতে বেড়াতে যান, সেখান থেকে ফিরে দেখেন ঘরে তালাবদ্ধ। ঘর তালাবদ্ধ থাকায় ও করোনা ভাইরাস সংক্রমন শুরু হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি আর বেশি দুর এগোয়নি। এসময় মা ছালমা ও মেয়ে জুলেখাকে বাড়ী থেকে বের করে দেয়া হয়। পরে বাবার বাড়িসহ বিভিন্ন জায়গা ঘুরে কোথাও আশ্রয় না পেয়ে গত বুধবার সকালে বাড়িতে গেলে ভাসুর-দেবর-ননদদের রোষানলে হয় পড়তে মা ও মেয়েকে। স্বজনদের সম্পত্তির লোভে এখন ঘরহারা মা ও মেয়ের আশ্রয় হয়েছে বাড়ীর গোয়ালঘরে।

গাজীপুরে শ্রীপুরে বারতোপা গ্রামের হেলিকাপ্টার কারখানার পাশে এ ঘটনা ঘটে। ভোক্তভোগি বারতোপা গ্রামের  জলিল শিকদারের স্ত্রী ছালমা আক্তার। ছালমা আক্তার জানান, আমার স্বামীর সম্পত্তি লোভে আমার মেয়ের সাথে জোর করে জসিম সিকদারের কাছে বিয়ে দেন। কিন্তু জসিম সিকদার অস্বাভাবিক জীবনযাপন করায় তাদের সম্পর্ক বেশি দিন টিকেনি। এরপর থেকেই আমাদের সম্পত্তিসহ বাড়িটি দখলে নিতে তারা নানা কৌশল অবলম্বন করেছে। তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন, ইউপি চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্যদের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করলেও কোন সুরাহা হয়নি। স্বামীর রেখে যাওয়া স্মৃতি বুকে নিয়ে বাঁচতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

ছালমার ভাসুর রশিদ শিকদার জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধ তৈরী হওয়ায় বাড়ীটি তালাবদ্ধ করে দেয়া হয়েছে। বিরোধ মিটে গেলেই বাড়ীটি খুলে দেয়া হবে।এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার ইমাম হোসেন জানান, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বাড়ি থেকে বাহির করে দেয়ার বিষয়ে কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

লাইফস্টাইল বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১৩০৬ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই