তারিখ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নওগাঁয় ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করে এলাকা ছাড়া পরিবার

নওগাঁয় ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করে এলাকা ছাড়া আদিবাসী পরিবার
[ভালুকা ডট কম : ২২ অক্টোবর]
নওগাঁর মহাদেবপুরে প্রভাবশালী দাদন ব্যবসায়ী দুই সহোদরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টায় আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করে এক আদিবাসী পরিবার বাড়ি ছাড়া। জামিনে বেরিয়ে আসার পর থেকে ওই পরিবারকে হুমকি ধামকি অব্যাহত রাখার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের দক্ষিন লক্ষ্মিপুর গ্রাম থেকে জীবনের ভয়ে ওই পরিবারের তিন সদস্য দুইদিন থেকে নওগাঁ শহরে এসে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন।

মামলা ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের দক্ষিন লক্ষ্মিপুর গ্রামের আদিবাসী বিধবা নারী একাই বাড়িতে থাকেন। তার দুই ছেলে ঢাকায় থাকেন। তার বাড়ির রাস্তার পশ্চিম পাশে পবাতৈড় গ্রামের মৃত মোসলেম এর ছেলে আজাদুল ইসলাম ওরফে জারদেশ (৩৫) বিভিন্ন ভাবে ওই বিধবাকে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিতো। বিষয়টি একাধিকবার আজাদুলকে নিষেধ করা হয়। গত ৩জুন রাত ১০টার দিকে বিধবা প্রকৃতির ডাকে বাড়ির বাহিরে গেলে গোপনে আজাদুল ঘরে ঢুকে। পরে বিধবা ঘরে আসলে তাকে ধর্ষনের চেষ্টা করে। তার ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আজাদুলকে আটক করে। বিষয়টি তার ভাই একরামুল (৪০) হক জানার পর লোকজন নিয়ে এসে আজাদুলকে জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

বিধবা বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে অবগত করা হলে আজ নয় কাল বলে সময়ক্ষেপন করে। এরপর থানায় মামলা করার জন্য কয়েকদিন ঘুরেও মামলা করতে না পারায় অবশেষে গত ৩০জুলাইয়ে বিধবা বাদী হয়ে নওগাঁ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে দুই ভাইকে আসামী করে মামলা করে। মামলার পর গত ১৬আগস্টে আসামী দুইজনকে আটক করে পরদিন আদালতে প্রেরণ করে থানা পুলিশ। গত ৩০ সেপ্টেম্বর আসামীরা জামিনে বেরিয়ে আসার পর থেকে ওই বিধবার পরিবারকে হুমকি ধামকি অব্যহৃত রাখা হয়েছে।

বিধবার ছেলে নিপেন অভিযোগ করে বলেন, আজাদুল ইসলাম মাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতেন। আমরা নিষেধ করেছিলাম। জীবিকার জন্য আমরা দুই ভাই ঢাকায় থাকি। একদিন রাতে তিনি মায়ের ঘরে ঢুকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। পরে তার ভাই একরামুল লোকজনকে নিয়ে এসে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এছাড়া গত ৫বছর আগে সাদা স্ট্যাম্পে লিখিত দিয়ে আমরা ২০হাজার টাকা একরামুলের কাছ থেকে সুদের উপর নিয়েছিলাম। ৫ বছর পর সুদে-আসলে ৭০হাজার টাকা তাকে ফেরত দিয়েছি। কিন্তু তারপরও তিনি স্ট্যাম্পটি ফেরত দিচ্ছেন না। তারা জামিনে বেরিয়ে এসে আমাদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে। ভয়ে গতকাল থেকে বাড়ি থেকে পালিয়ে আসছি। আমরা এর সুবিচার দাবী করছি।

অভিযুক্ত একরামুল হক বলেন, ওই পরিবারের কাছে ৭০হাজার টাকা পেতাম। তারা টাকা না দিতে বিভিন্ন ভাবে পায়তারা করছে। টাকা যেহেতু তারা দেয়নি এজন্য আমি স্ট্যাম্পও ফেরত দিবো না। তারা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা করছে। ওই পরিবারকে হুমকি দেয়ার বিষয়টি মিথ্যা।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার হোসেন বলেন, শ্লীলতাহানির ঘটনাটি নিয়ে আমরা স্থানীয় ভাবে আপোশের চেষ্টা করছিলাম। বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা আইনের আশ্রয় নেয়ায় ভাল হয়েছে। তবে হুমকি-ধামকি দেয়ার বিষয়টি জানা নেই।

মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকার বাইরে বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২৯৮ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই