তারিখ : ২৩ জানুয়ারী ২০২১, শনিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

রাণীনগরে ঘর দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাত

রাণীনগরে ঘর দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাতের বিষয়ে অভিযোগের হিড়িক,তদন্ত চলমান
[ভালুকা ডট কম : ০২ ডিসেম্বর]
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের আওতার গ্রামগুলো থেকে হত-দরিদ্র, গরীব-অসহায়, খেটে-খাওয়া ও পিছিয়ে পড়া মানুষদের প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাঁকা ঘর দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়ার বিষয়ে অভিযোগের হিড়িক পড়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন গঠিত ৩সদস্যের তদন্ত কমিটি তদন্ত কাজ চলমান রেখেছে। টাকা দেওয়ার প্রায় ২বছর পার হওয়ার পরও যখন ভুক্তভুগিরা ঘর পাচ্ছে না তখন টাকা ফেরতের দাবীতে প্রশাসন বরাবর বিভিন্ন গ্রাম থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ৩৩টি গ্রাম নিয়ে গঠিত উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ। সারা দেশের হতদরিদ্র, গরীব-অসহায়, খেটে-খাওয়া ও পিছিয়ে পড়া মানুষদের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে বিনা খরচে দুই কক্ষ ও টয়লেট বিশিষ্ট পাঁকাঘর নির্মাণ করার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। গত বছর এই ঘরগুলো বরাদ্দ দেওয়ার কথা থাকলে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই ঘরগুলো চলতি বছর নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে। সেই প্রকল্পের ঘর দেওয়ার নাম করে ইউনিয়নের মেম্বার ও দালালদের সহায়তায় চেয়ারম্যান এই ইউনিয়নের প্রায় সকল গ্রাম থেকে শতাধিক সুবিধাভুগিদের কাছ থেকে ৪০-৫০হাজার করে টাকা নিয়েছে বলে ৫টি গ্রাম থেকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভুগিরা। অনুমান করা হচ্ছে ঘর দেওয়ার নাম করে চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা প্রায় কোটি টাকা নিজেদের পকেটে তুলেছেন। শুধু ঘর দেওয়ার নামে নয় পরিষদ থেকে অন্যান্য যে সকল সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয় তাতেও বিভিন্ন সুবিধাভুগিদের কাছ থেকে ইচ্ছে মাফিক টাকা আদায় করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। গত নভেম্বর মাসের ২২তারিখে এই বিষয়ে ইউনিয়নের রাতোয়াল গ্রাম থেকে ১৩জন ভুক্তভ’গি তাদের টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় স্থানীয় সাংসদের সুপারিশ নিয়ে প্রথম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রদান করে। এরপর অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় বিষয়টি ফাঁস হলে একই মাসের ২৯তারিখে ইউনিয়নের রাখালগাছী গ্রামের ৫জন, করজগ্রামের ২জন, আমগ্রামের ৪জন ও চলতি মাসের ০২তারিখে মাধাইমুড়ি গ্রামের ৩জন ভুক্তভ’গি নতুন করে অভিযোগ দিয়েছে। আগামী দিনগুলোতেও আরো কয়েকটি গ্রাম থেকে ভুক্তভ’গিরা লিখিত অভিযোগ প্রদান করবে বলেও গোপন সূত্রে জানা গেছে।

প্রথম অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গত নভেম্বর মাসের ২৯তারিখে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভ’মি) রাশেদুল ইসলামকে আহ্বায়ক, কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহীদুল ইসলামকে সদস্য ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসানকে সদস্য সচিব করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তদন্ত কমিটিকে ৩কার্যদিবসের মধ্যে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এদিকে অভিযোগ আসা বিভিন্ন গ্রামের ভুক্তভ’গিদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় মেম্বাররা বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে প্রভাবিত করে নিজেদের আয়ত্তে আনার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভ’মি) রাশেদুল ইসলাম বলেন তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে। আগামী ৬ডিসেম্বর অভিযোগের সুনানী অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আগামী ৬তারিখের পর যে কোন দিন তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।#


 



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকার বাইরে বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১৩০০ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই