তারিখ : ২৮ জানুয়ারী ২০২১, বৃহস্পতিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নওগাঁয় অবৈধ ভাবে চলছে ক্লিনিক,নীরব প্রশাসন

নওগাঁয় অবৈধ ভাবে চলছে ক্লিনিক,নীরব প্রশাসন
[ভালুকা ডট কম : ০৯ ডিসেম্বর]
লাইসেন্স, চিকিৎসার পরিবেশ ও মেডিক্যাল ডিপ্লোমা নার্স না থাকায় নওগাঁয় বেসরকারি চারটি ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারকে জরিমানাসহ চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলা হয়। কিন্তু সিভিল সার্জন অফিসের বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে এবং প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কর্তৃপক্ষ তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সিভিল সার্জন অফিসের কতিপয় কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজসে ক্লিনিকগুলো পরিচালনা করা হয়ে থাকে বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের এমন দাম্ভিকতায় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

গত ১১নভেম্বর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে শহরের কয়েকটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় সৌদিয়া হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসার পরিবেশ না থাকায় সিলগালা করে দেয় ভ্রাম্যমান আদালত। এছাড়া নওগাঁ শিশু হাসপাতাল ও ডায়ানস্টিক সেন্টারে লাইসেন্সবিহীন, ডিউটি ডাক্তার ও মেডিকেল ডিপ্লোমা নার্স না থাকায় ১০হাজার টাকা, মান্দা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিককে ৫ হাজার টাকা, মেট্রো হাসপাতালে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা দেয়ায় ৫হাজার টাকা এবং শাহ নার্সিং হোম এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ১০হাজার টাকা জরিমানাসহ ১মাসের জন্য চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গত ১২নভেম্বর পোরশা উপজেলার সরাইগাছি মোড়ের মজিদা ক্লিনিকের ৩হাজার টাকা জরিমানাসহ বন্ধ, একই কারণে নুর ফাউন্ডেশন ক্লিনিকের ৫হাজার টাকা জরিমানা ও ১৫দিনের জন্য বন্ধ, অব্যবস্থাপনার কারনে একতা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের ৫হাজার টাকা এবং হবির মোড় আল-মদিনা ক্লিনিকের ২হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া গত ১৬নভেম্বর নিয়ামতপুর উপজেলা সদরের নূরেছা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিককে ত্রিশ হাজার টাকা এবং নিরাময় ক্লিনিকের মালিককে বিশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

নওগাঁ জেলায় ৮৭টি ক্লিনিক এবং ১৩২টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থাকলেও লাইসেন্স রয়েছে অর্ধেকের মতো। বাকীগুলো লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। অনেক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার আবেদন করার পরই চালু করা হয়েছে। আবার যে কয় বেডের অনুমোতি থাকার কথা তার বেশি বেড যুক্ত করে ক্লিনিক পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া ক্লিনিকের জন্য নির্ধারিত নেই ডিউটি ডাক্তার ও মেডিক্যাল ডিপ্লোমা নার্স। সেবার নামে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে ক্লিনিক। নিয়মবর্হিভুত ভাবে গজিয়ে উঠা এসব ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা রোগীরা প্রতিনিয়ত মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়তে হচ্ছে। রাজধানীর আদাবরে মাইন্ড এইড হাসপাতালে জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনিসুল করিমের মৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

মান্দা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিকের পরিচালক আব্দুস সাত্তার ও শাহ নার্সিং হোম এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক শাহ মো: নূরুল ইসলাম বলেন, ভ্রাম্যমানে অভিযান চালিয়ে তাদের ক্লিনিককে জরিমানা করা হয়েছে। তবে রোগীর সেবা কার্যক্রম বন্ধ রাখার কোন নির্দেশনা দেয়া হয়নি। আমরা কাগজপত্র প্রস্তুত করে সিভিল সার্জন অফিসে জমা দিবো।

নওগাঁ সিভিল সার্জন ডা. এবিএম আবু হানিফ বলেন, প্রাথমিক ভাবে তাদের চিকিৎসা সেবা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। ত্রুটিগুলো ঠিক না করা পর্যন্ত রোগী সেবা বন্ধ থাকবে। চিকিৎসা সেবায় তাদের যে ঘাটতি আছে সেগুলো ঠিক করে আমাদের কাছে আবেদন করলে আমরা পরিদর্শন করে আবারও পরিচালনা করার অনুমোতি দেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে কেউ যদি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে তাহলে পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।#




সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১৩০৩ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই