তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২১, সোমবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নওগাঁয় ৬ বছরেও মেরামত হয়নি ফুলবাড়ি বেড়িবাঁধ

নওগাঁয় ৬ বছরেও মেরামত হয়নি ফুলবাড়ি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ
[ভালুকা ডট কম : ০৮ মার্চ]
৬বছরেও মেরামত করা হয়নি ছোট যমুনা নদীর তীরবর্তী ফুলবাড়ী বন্যানিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ। যার কারণে বর্ষা মৌসুম ও নদীতে পানি এলেই নির্ঘুম রাত কাটে তীরবর্তি মানুষদের। গত ২০১৫সালে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষনের ফলে বন্যায় বিধ্বস্ত হয় আত্রাই উপজেলার ফুলবাড়ী ও পূর্বমিরাপুরের এই বন্যানিয়ন্ত্রন বাঁধটি। যার কারণে অল্প বৃষ্টিতেই জলবদ্ধতার স্বীকার হচ্ছে শত শত পরিবার। যাতায়াতের জন্য নৌকায় হচ্ছে তাদের একমাত্র অবলম্বন।

বাঁধ ভাঙনের ফলে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ফুলবাড়ি, মির্জাপুর, নান্দাইবাড়ি, কৃষ্ণপুরসহ কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ বন্যায় কবলিত হয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হন। এ ছাড়াও রাণীনগরের নান্দাইবাড়ি থেকে কৃষ্ণপুর হয়ে আত্রাইয়ের উদনপৈ পর্যন্ত বেরিবাঁধটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই বাঁধটি সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ না করায় এলাকার হাজার হাজার মানুষ আতঙ্কে বসবাস করছেন।

জানা যায়, গত ২০১৫সালের ২৩আগস্ট ভোর রাতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় আত্রাইয়ের ফুলবাড়ি বন্যানিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ ভাঙ্গার পর মির্জাপুর নামক স্থানে আত্রাই-নওগাঁ আঞ্চলিক সড়ক ভেঙ্গে আশেপাশের এলাকার ফসল পানির নিচে তলিয়ে যায়। সেই সাথে এলাকার শত শত পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে। এতে আত্রাই-রাণীনগর উপজেলার প্রায় ১৪হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়। প্রায় ২মাস পরে বন্যার পানি নেমে যায়। এদিকে ভেঙ্গে যাওয়ার ৬বছর পার হলেও আজোও ভাঙ্গন মেরামত করা হয়নি। এ ভাঙ্গন মেরামত না করায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে এলাকাবাসীর চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রাইপুর, ডাঙ্গাপাড়া, ফুলবাড়ি, উদনপৈয়, মিরাপুরসহ বিভিন্ন এলাকার লোকজনকে সপ্তাহে দুইদিন শনিবার ও মঙ্গলবার ভবানীপুর-মির্জাপুর হাটে যাবার জন্য এ পথ ব্যবহার করতে হয়। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য এ পথ দিয়েই হাটে বাজারজাত করে থাকেন। বন্যায় বাঁধ বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে তারা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে পারছে না।

নান্দাইবাড়ি গ্রামের শহীদুল ইসলাম জানান, আমরা এ ভাঙ্গন মেরামতের জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বারসহ অনেকের কাছেই ধর্না দিয়েছি। সকলেই আশ্বস্ত করেন কিন্তু আজোও তা মেরামত না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমের আগেই সেখানে পানি বন্দি হয়ে পড়েছে অসংখ্য পরিবার। বর্তমানে বাঁধটি মেরামত না করায় আমরা আমাদের কষ্টের ফসল নিয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছি।

ফুলবাড়ি গ্রামের রবিন ইসলাম বলেন, আসন্ন বন্যা মৌসুমের আগে বাঁধটি মেরামত না করায় জলাবদ্ধতার কারণে আমাদের মাঠে কোন ফসল চাষ করতে পারছি না। কৃষিপণ্য থেকে শুরু করে চিকিৎসা সেবা ও জেলা শহরের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে দিন দিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রামবাসীকে। তিনি দ্রুত বাঁধটি নির্মাণের জন্য উর্ধ্বোতন মহলের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার প্রবীর কুমার পাল বলেন, বাঁধটির বেঙ্গে যাওয়া অংশ পরিদর্শন করে অনেক আগেই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর মেরামতের আবেদন পাঠিয়েছি। কর্তৃপক্ষ যদি এই বিষয়ে কোন জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন কিংবা আমাদের পরবর্তি কোন নিদের্শনা না দেন তাহলে আমাদের করনীয় কি আছে। আশা করি কর্তৃপক্ষ দ্রুত বাঁধটি মেরামত করার বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহন করবেন।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১৩০৯ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই