তারিখ : ১৫ মে ২০২১, শনিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নওগাঁয় নদীর তীরে চাষ হচ্ছে মরিচ,দামে খুশি কৃষক

নওগাঁয় নদীর তীরে চাষ হচ্ছে মরিচ,ফলন ও দামে খুশি কৃষক
[ভালুকা ডট কম : ০৬ এপ্রিল]
উত্তরের শস্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত নওগাঁ জেলা। বর্তমানে এই জেলার ১১টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে চাষ হচ্ছে হরেক রকমের ফসল। আগে যে সব ফসল চাষের কথা কখনো কল্পনাও করেনি এই অঞ্চলের কৃষকরা বর্তমানে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে ও কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় সেই সব লাভজনক ফসল চাষ করে এই অঞ্চলের অবহেলিত কৃষকরা বর্তমানে অনেক লাভবান হচ্ছেন। মরিচ সবজির মধ্যে অন্যতম একটি প্রয়োজনীয় ও দামী ফসল।

বর্তমানে জেলার আত্রাই উপজেলার ছোট যমুনা ও আত্রাই নদীর পাড়ের পলি ও বেলে-দোঁআশ মাটির উর্বর জমিতে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় এই অঞ্চলের কৃষকের চোখে-মুখে স্বস্তির হাসি ফুটেছে। বিস্তৃত এলাকা জুড়ে মরিচ গাছের সবুজের সমারোহের এ মনকাড়া দৃশ্য বিমোহিত করছে সকলকে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে চলতি মৌসুমে জেলার ১১টি উপজেলায় রেকর্ড পরিমান জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। জেলায় মোট ৩হাজার বিঘা জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে মান্দা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ৬শত বিঘা জমিতে এবং নওগাঁ সদর উপজেলায় ৪শত বিঘা জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে।

গত মৌসুমে একাধিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে এই ফসলটি। সেই ক্ষতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে কৃষকরা আবার কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় উপজেলার আটটি ইউনিয়নের মরিচ চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। ছোট যমুনা ও আত্রাই নদীসহ অন্যান্য নদীর অববাহিকায় দেখা গেছে মরিচ চাষের দৃশ্য।

সরেজমিনে দেখা গেছে মরিচের দৃষ্টিনন্দন এ দৃশ্য। মরিচ ক্ষেতে কৃষকের ছোঁয়ায় আর সঠিক পরিচর্যায় গাছও হয়ে উঠেছে সুস্থ সবল। গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে মরিচের বাহার। এ দৃশ্য দেখে কৃষকের মন ভরে উঠেছে। অল্প করচে বেশি লাভের আশায় মরিচ ক্ষেতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষিরা। দুপুর গড়াতেই মরিচ তুলে হাটে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন কৃষকেরা। অনেকে আবার মরিচ তুলে নিয়ে বাড়িতে কিংবা জমিতে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করেন। জমিতে পাইকারি বিক্রি করলে লাভ কম হয় বলেও জানান চাষিরা। উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হওয়ায় এসব এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা তেমন ভালো নেই। সময়মতো বাজারে পণ্য নিয়ে যাওয়া আসায় কঠিন হয়ে পড়ে এবং পরিবহন খরচও বেশি হয়। তাই নায্যমূল্যে থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে এই অঞ্চলের মরিচ চাষিরা।

মান্দা উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের কুশাডাঙ্গা গ্রামের মরিচ চাষি একরামুল হক বলেন, আত্রাই নদীর তীরে আমি ১০কাঠা জমিতে মরিচ চাষ করেছি। এতে আমার ব্যয় হয়েছে ৭হাজার টাকা। তবে এ পর্যন্ত ২০হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করেছি। প্রথম দিকে ৩৫শত টাকা মণ দরে মরিচ বিক্রি করলেও এখন বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ মরিচ ১৫ শত থেকে ১৬ শত টাকায়। তবে মৌসুম শেষ হওয়া পর্যন্ত আরোও প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করতে পারবেন বলেও আশা করছেন তিনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো: শামছুল ওয়াদুদ বলেন চলতি মৌসুমে জেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। তবে চলতি মৌসুমে মরিচের গাছে রোগবালাইয়ের আক্রমণ কম হয়েছে। এছাড়াও কৃষকরা ফলন ও দামে অনেক লাভবান হয়েছে। আমরা আশা করছি আগামী মৌসুমে আরো বেশি জমিতে মরিচের চাষ হবে। মরিচ চাষে কৃষকদের করনীয় সম্পর্কে মাঠ পর্যায়ে আমাদের কৃষি কর্মকর্তারা সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছে।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

কৃষি/শিল্প বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১৩১০ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই