তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২১, শনিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

দুর্ভোগের আরেক নাম রাণীনগর-কালীগঞ্জ সড়ক

দুর্ভোগের আরেক নাম রাণীনগর-কালীগঞ্জ ২২ কিলোমিটার সড়ক,কাজের মেয়াদ বাড়লেও শেষ হচ্ছে না কাজ
[ভালুকা ডট কম : ১০ এপ্রিল]
চরম দুর্ভোগের আরেক নাম নওগাঁর রাণীনগর হয়ে কালীগঞ্জ যাওয়ার ২২কিলোমিটার সড়ক। সড়ক প্রসস্থ ও নির্মাণ কাজ দীর্ঘদিনেও শেষ না হওয়ায় সড়কটি যেন মৃত্যুর ফাঁদে পরিনত হয়েছে। রাস্তার কেবলমাত্র কার্পেটিং তুলে কোন রকমে রোলার দিয়ে ফেলে রাখায় খানাখন্দ ও ধুলাবালিতে একাকার হওয়ায় দুর্ভোগে উপজেলার লাখ লাখ মানুষ। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। এদিকে সড়কটির কাজ দীর্ঘদিনেও শেষ না হওয়ায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংসদ।

সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁর জনগুরুত্বপূর্ন রাণীনগর-আবাদপুকুর-কালীগঞ্জ ২২কিলোমিটার সড়কটি ছিল এলজিইডির আওতায়। সড়কে অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল এবং দীর্ঘ এলাকা জুড়ে মানুষের জীবন মান উন্নয়নের লক্ষে এলজিইডি থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগে হস্তান্তর করা হয়। এই সড়কটি রাণীনগর সদর থেকে আবাদপুকুর-কালীগঞ্জের মধ্যদিয়ে নাটোরের সিংড়ার ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের সাথে মিলিত হয়েছে। রাস্তাটি প্রসস্থ এবং মজবুত পাকাকরণের জন্য গত ২০১৮ সালে দরপত্র আহবান করা হয়। দীর্ঘ ২২ কিলোমিটার রাস্তায় ২৬টি কালভার্ট ও ৪টি সেতু নির্মানে মোট ব্যয় ধরা হয় ১০৫ কোটি টাকা। রাস্তা, কালভার্ট ও সেতু নির্মানে সময় দেয়া হয় ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা একের পর এক অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন করতে থাকেন।

স্থানীয়রা বলছেন, এখন পর্যন্ত রাস্তার কেবলমাত্র কার্পেটিং তুলে কোন রকমে রোলার দিয়ে ফেলে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন এমন অবস্থায় পরে থাকায় রাস্তা জুড়ে ছোট বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন তারা। এছাড়া দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এ পর্যন্ত কালভার্ট এবং সেতু নির্মান কাজ শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। অধিকাংশ সেতু-কালভার্ট ভেঙ্গে কাজ না করেই ফেলে রাখা হয়েছে। ফলে পার্শ্বে রাস্তা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর্ঘটনা। রাস্তার কাজ বন্ধ থাকায় হতাশায় পড়েছেন উপজেলাবাসি।

পথচারী ও যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই ভোগান্তি পোহাচ্ছি। ভারি মালামাল পরিবহন, জরুরী রোগী নিয়ে রাস্তায় চলাচল করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া রাস্তার কেবলমাত্র কার্পেটিং তুলে কোন রকমে রোলার দিয়ে ফেলে রাখায় রাস্তায় খানাখন্দে ও ধুলা-বালিতে একাকার। যানবাহন চালকরা বলেন, যাত্রীরা রাস্তার ধুলাবালি ও খানাখন্দের দুর্ভোগের কারনে সড়কটি দিয়ে চলাচল করতে চায় না। রাণীনগর থেকে আবাদপুকুর পর্যন্ত যেতে আগে সময় লাগতো ১০মিনিট এখন সড়কের এমন দশার কারনে যেতে সময় লাগে ৩০-৪০মিনিট। রাণীনগর থেকে কালীগঞ্জ যেতে প্রায় এক ঘন্টাও বেশি সময় লাগছে। এই সড়কটিকে ঘিরে আমরা চরম দুর্ভোগে পড়েছি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ চালু করেন আবার কাজ বন্ধ রেখে আবার চলে যান। যেন দেখার কেউ নেই।

নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো: আনোয়ার হোসেন হেলাল চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, জনস্বার্থে দ্রুত সড়কটির কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের অবগত করা হয়েছে। আমি সড়ক ও জনপদ বিভাগের উর্দ্ধতন কর্তাব্যক্তি বরাবর লিখিত ভাবে আবেদনও জানিয়েছি। আশা করছি দ্রুতই এই দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবেন এলাকাবাসী।

নওগাঁ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার সাজেদুর রহমান সাজিদ বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করতে পারেনি। দ্রুত এই সড়কের কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বার বার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। যদি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সঠিক সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারে তাহলে তার চুক্তিনামা বাতিল করাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১৩১৩ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই