তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, বুধবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

কাপাসিয়ার ও শ্রীপুরের ব্রীজে ভ্রমণ পিপাসুদের ঢল

করোনা ঝুঁকি উপেক্ষা করে কাপাসিয়ার ফকির মজনু শাহ সেতু ও শ্রীপুরের বরামা ব্রীজে ভ্রমণ পিপাসুদের ঢল
[ভালুকা ডট কম : ১৬ মে]
গত আড়াই মাস যাবত করোনা মহামীরর বিধিনিষেধের কারণে অনেকে ইচ্ছা থাকা স্বত্ত্বেও স্বামী-স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, বন্ধু-বান্ধব, তরুণ-তরুণী, শিশু-কিশোরেরা ঘর থেকে বের হতে পারেনি। কোভিড-১৯ মহামারির কারণে যেখানে সকল পর্যটন কেন্দ্র ও পার্ক বন্ধ। এ উপলক্ষে গাজীপুরের ভ্রমণ পিপাসু মানুষ মাহসড়কের পাশে, বড় গাছের ছায়ায়, নদীর ওপর নির্মিত সেতু ও ব্রীজের ওপর দাঁড়িয়ে সুন্দর পরিবেশ ঈদ আনন্দ উদযাপন করছে। বদ্ধ পরিবেশ থেকে বের হয়ে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের নিয়ে উম্মুক্ত ও খোলামেলা জায়গায় ঘুরতে বের হয়েছেন তারা। সামাজিক দূরত্বের বালাই না থাকলেও ঘুরতে আসা তরুণ-তরুণীদের মধ্যে অনেককেই মাস্ক ছাড়াই ঘুরতে দেখা গেছে।

ঈদের দিন নামাজের পর থেকেই রাস্তাঘাটে মানুষ যে যার মতো করে ঘুরছেন, কাটিয়েছেন নিজের মতো সময়। অনেকে পরিবার নিয়ে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং ব্যক্তিগত গাড়িতে করে আশপাশের মনোরম পরিবেশ ও দর্শনীয় স্থান দেখতে ঘর থেকে বের হয়েছেন ঘুরতে। উপচে পড়া ভিড়ে স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। সামাজিক দূরত্বের তোয়াক্কা না করে ঈদ আনন্দে মেতে উঠতে দেখা গেছে দর্শণার্থীদের। বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় কাপাসিয়ার বানার নদীর ওপর নির্মিত ফকির মজনু শাহ সেতু ও শ্রীপুর উপজেলার বরমীর বরামা ব্রীজের ওপর মানুষ এসেছেন বিনোদনের জন্য। সেতু ও ব্রীজে আগতদের অর্ধেকই তরুণ-তরুণী। অন্যরা এসেছেন স্ত্রী-সন্তান ও বাবা-মাকে নিয়ে।

স্কুল ছাত্র রবিউল, সূজন, ইস্রাফিল, বায়েজীদসহ তারা ১০ বন্ধু এসছেন কাওরাইদ থেকে। তারা বলেন, টানা এক বছর ধরে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ঘুরতে যাওয়ার তো আর জায়গা নেই। সবসময় তো বাসায় থাকা হয়। তাই ঈদের পরদিন কয়েকজন বন্ধু মিলে আমরা একটু ঘুরতে এসেছি এবং ঈদের আনন্দটা উপভোগ করতে পেরে ভালই লাগছে।

উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নিজ মাওনা থেকে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এসেছেন আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমি ঢাকায় চাকরি করি। বাড়িতে না থাকার কারনে স্ত্রী-সন্তান অনেক দিন যাবত ঘরবন্দি। ঈদের ছুটিতে বাড়ি আসায় স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছি। তবে বরামা ব্রীজে মানুষের এতো ভিড় আগে জানলে আসতাম না।

শনিবার দুপুরের পর থেকেই কাপাসিয়ার বানার নদীর ওপর নির্মিত ফকির মজনু শাহ সেতু ও শ্রীপুর উপজেলার বরমীর বরামা ব্রীজের ওপর ভ্রমণ পিপাসুদের ভিড় দেখা যায়। সেতুর পাশেই ফুচকার দোকান, শিশুদের খেলনার দোকান, দোকানে ক্রেতাদের ভিড়। কোথাও দাঁড়ানোর জায়গা নেই। ঈদের দিন দুপুরের পর থেকেই এ দুটি সেতুতে ভিড় বাড়তে থাকে বলে জানায় ফুসকা বিক্রেতা আব্দুল জলিল ও খেলনা বিক্রেতা জাহেদ আলী ।

গাজীপুরের টঙ্গীতে নোমান গ্রুপের পোশাক কারখানায় চাকুরী করেন ফজলুল হক। তিনি বলেন, গার্মেন্টসে চাকরি করি। রাত-দিন ডিউটি করতে হয়। সময় পাইনা একটু ঘুরার জন্য। এদিকে, করোনার কারনে বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ। ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ীতে এসে সহপাঠি বন্ধুদের নিয়ে একটু বিনোদনের খোঁজে বরমীর বারামা ব্রীজে এসেছি। এখানে এসে দেখি আমার মতো অনেকেই তাদের আত্নীয়-স্বজন ছেলে-মেয়েদেরকে নিয়ে ঘুরতে আসছে। সত্যিই ব্রীজে ঘুরতে এসে খুব মজা লাগছে।

ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন স্ত্রী-স›ন্তান অনেকদিন যাবত ঘরে বন্দী। শুনেছি অনেকে বরামা ব্রীজে ঘুরতে আসে। তাই, আমিও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এখানে ঘুরতে আসছি। চিন্তা করলাম একটু ঘুরে আসি। তবে এখানেও অনেকেই আমার মতই স্বস্তি খুঁজতে এসেছেন।

বৈশ্বিক এই মহামারির মধ্যে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হলেও তারা ঈদ উদযাপন করতে ঠিকই রাস্তায় বের হয়েছে। পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় ভ্রমণ পিপাসু মানুষকে দেখা গেছে উন্মুক্ত স্থানে প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশের বিভিন্ন ফাঁকা মাঠে ও পথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে।

ঠিক তেমনি চিত্র দেখা গেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ওয়ায়েদ্দা দিঘীর পাড় ফাঁকা মাঠে। শ্রীপুর পৌরসভার কেন্দ্রীয় ইদগাহ মাঠ (ওয়ায়েদ্দা দিঘীর) পাড় দীর্ঘ দুই কিলোমিটার লম্বা মাঠের মধ্যে হাজার হাজার মানুষ প্রাকৃতিক পরিবেশে একত্রিত হয়েছিল। কেউ আত্নীয়-স্বজন নিয়ে আবার কেউ নিজের পছন্দের মানুষকে সাথে নিয়ে ঘুরতে এসেছে। এই মাঠে তাদের প্রিয়জনকে সাথে নিয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত সময় পার করেছে। আবার কেউ মাঠের মধ্যে বসে গল্প করে সময় পার করছেন।

স্থানীয় পোশাক কারখানার প্রশাসন বিভাগের কর্মী সাকিবুল হাসান সানি বলেন, ঈদ উদযাপন করার জন্য এই ফাঁকা মাঠকে বেছে নিয়েছি। ঘুরে বেড়ানোর জন্য সব জায়গা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে বন্ধুদেরকে সাথে নিয়ে এখানে এসেছি। দিঘীর পাড়ে ঘুরতে এসে লোকজনের সমাগম দেখে সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি।

উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের ধামলই গ্রামের প্রাথমিক শিক্ষক আবু জাকারিয়া পিন্টু বলেন, স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছি। বিভিন্ন বিনোদন স্পট করোনার কারনে বন্ধ থাকায় কোথায় ঘুরব তা ঠিক করিনি। আমরা ঘুরতে বের হয়ে ওয়ায়েদ্দা দিঘীর পাড়ে এতো সুন্দর মনোরম পরিবেশ দেখে এখানেই বসে আড্ডা দিচ্ছি।

উপজেলার রাজাবড়ী ইউনিয়নের কোড়লপাড়া গ্রামের বেসরকারী চাকুরিজীবি সারোয়ার জাহান শামীম। তিনি বলেন, ছেলে শাহরিয়ার হাসান কামরান (৫) সকাল থেকে কান্না করতেছে তাকে নিয়ে ঘুরতে যেতে হবে। ছেলের কান্নার কারনে তাকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছি। করোনার কারণে যখন সবকিছুই বন্ধ। তাই এই বিকেলে ঘরে বসে না থেকে ওয়ায়েদ্দা দিঘীর পাড়ে ফাঁকা মাঠে এসে ছেলেকে নিয়ে আনন্দ উপভোগ করছি।

এ ব্যাপারে শ্রীপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আসাদুজ্জামান মন্ডল দারা বলেন, ফাঁকা মাঠে কখনো এতো জামায়েত দেখা যায়নি। সরকারি বিধি-নিষেধের কারণে যখন সবকিছু বন্ধ থাকায় ভ্রমণ পিপাসুরা এ ফাঁকা জায়গাটিতে এসে ভিড় জমিয়েছে।

বরামা ব্রীজ এলাকায় এলাকায় দায়িত্বরত শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নয়ন ভূঁইয়া বলেন, মাস্ক পড়ার জন্য বলা হলেও তারা এটাকে গুরাত্ব দিচ্ছে না। জোর করে কি মানুষকে বোঝানো যায়। করোনায় প্রতিদিন মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। তবুও করোনার ভয় মানুষের মধ্যে কাজ করছে না।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

বিনোদন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১৩১৯ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই