তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, শনিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

অবৈধ সুদের কারবারকে বৈধতা দিতে ব্যস্ত কর্মকর্তারা

অবৈধ সুদের কারবারকে বৈধতা দিতে ব্যস্ত কর্মকর্তারা,দায়সারানো তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল
[ভালুকা ডট কম : ১৬ জুন]
নওগাঁর পার্শ্ববর্তি বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে শুধুমাত্র পৌর সভার ট্রেড লাইসেন্সে নিয়ে অনুমোদনহীন ব্যবসায়িক সমিতির আড়ালে উচ্চ হারের সুদের রমরমা ব্যবসা করে আসছে নাজমুল নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। এই সংক্রান্ত বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় দাদন ব্যবসায়ী নাজমুল হোসেন ও তার সহযোগি জালাল উদ্দিন বাড়িতে গিয়ে প্রকাশ্যে সাংবাদিক নেহাল আহমেদ প্রান্তকে প্রাণনাশের হুমকি-ধামকি প্রদান করে। এই ঘটনায় প্রান্ত বাদি হয়ে গত ২৫মার্চ সন্ধ্যায় পুলিশ ও ২৬মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত ভাবে একটি অভিযোগ প্রদান করে।

অভিযোগ পাওয়ার পর নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেন। পরবর্তিতে সমবায় কর্মকর্তা দীর্ঘদিন পর তদন্ত শেষে একটি দায়সারানো প্রতিবেদন দাখিল করেছেন নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর। কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করেই অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে আতাত করে কর্মকর্তারা অবৈধ সুদের কারবারকে বৈধতা দিতেই দীর্ঘ কাল ক্ষেপন করে পৌর সভাকে দায়ী করে দায়সারানো একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সান্তাহার পৌর শহরের নিচ পোঁওতা গ্রামের আব্দুল আলীমের ছেলে নাজমুল হোসেন (৩২) সান্তাহার পৌরসভা থেকে অর্থের বিনিময়ে তামিম সঞ্চয় ও ঋণদান প্রতিষ্ঠান নামে একটি ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করে। এরপর পৌর সভা থেকে দেওয়া অবৈধ লাইসেন্স দিয়ে আকর্ষনীয় বই ছাপিয়ে ট্রেড সনদের নাম ব্যবহার না করে শুধুমাত্র ব্যবসায়িক সমিতি নাম দিয়ে মাসিক শতকরা ৩০টাকা হারে সুদ আদায় করে আসছে। এমন অভিযোগের সূত্র ধরে দীর্ঘ তদন্ত শেষ করে কয়েকজন গনমাধ্যকর্মী গত মার্চ মাসে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের গনমাধ্যমে একটি প্রতিবেদন করেন। এরই জের ধরে গত ২৫মার্চ দুপুরে নাজমুল ও তার সহযোগি জালাল উদ্দিন সাংবাদিক প্রান্তের নিচ পোঁওতা গ্রামের বাড়িতে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করাসহ প্রাণ নাশের বিভিন্ন হুমকি-ধামকী দিয়ে আসে। এরপর প্রান্ত থানা পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রদান করে। কিন্তু অভিযুক্ত নাজমুলের সঙ্গে আতাত করে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তাব্যক্তিরা নীরব হয়ে যাওয়ায় সেই অভিযোগ আর আলোর মুখ দেখিনি। কিন্তু দীর্ঘদিন পর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা একটি দায়সারানো প্রতিবেদন সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর দাখিল করেছেন।

উপজেলা সমবায় ও তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন আমি নির্দেশনা মোতাবেক তদন্ত করেছি। তদন্ত করতে গিয়ে আমি যা পেয়েছি তা হলো নাজমুলের একমাত্র পৌর সভার ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া আর কোন কাগজ নেই। কিন্তু আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে পৌর সভার কি এমন সনদপত্র দেওয়ার নিয়ম কতটুকু আছে কিংবা কেউ পৌর সভার এমন সনদপত্র নিয়ে কি আর্থিক লেনদেন করার বিধান কতটুকু আছে সেই বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি নন। এছাড়াও সমবায় অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া নাজমুল অবৈধ সুদের কারবার করে আসছে সেক্ষেত্রে নাজমুলের বিরুদ্ধে সমবায় বিভাগের কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ আছে কিনা সে বিষয়ে তিনি বলেন নাজমুলের বিষয়ে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। আমার কোন কিছু করার নেই। আমাকে তদন্ত করতে বলা হয়েছে আমি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেছি।

মঙ্গলবার এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সীমা শারমিন বলেন সময়ের অভাবে আমি তদন্ত প্রতিবেদন দেখার সময় পাইনি। আমি প্রতিবেদন দেখে পৌর সভা ও থানা পুলিশকে দ্রুত এই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য লিখিত ভাবে নির্দেশনা প্রদান করবো। পরবর্তি ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব তাদের।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১৩১৯ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই