তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২১, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

লকডাউন নিষ্ঠুর রসিকতায় পরিণত হয়েছে-মির্জা ফখরুল

লকডাউন নিষ্ঠুর রসিকতায় পরিণত হয়েছে-মির্জা ফখরুল
[ভালুকা ডট কম : ০৮ জুলাই]
বিএনপি অভিযোগ করেছে, করোনা মহামারী ব্যবস্থাপনায় সরকারের উদাসীনতা ও বিজ্ঞানমনস্ক নীতি প্রণয়নে চরম ব্যর্থতার ফলে দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় উপনীত হয়েছে।দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, একদিকে অক্সিজেনের অভাবে করোনা রোগীর অকাল মৃত্যু, আইসিউ সুবিধার অভাব, হাসপাতালের শয্যা সঙ্কট  আর প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, সেবাকর্মী এবং ঔষধের অভাবে জনগণের মধ্যে রীতিমত আতংকের সৃষ্টি করেছে।

মির্জা ফখরুল বলেছেন, বৈশ্বিক করোনা মহামারির সাথে এদেশের মানুষের ঘাড়ে “অব্যবস্থাপনাজনিত মহামারী” চাপিয়ে দিয়েছে বর্তমান ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকার। করোনার ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে কর্মহীন দরিদ্র মানুষের জন্য খাদ্যে  এবং  নগদ অর্থ সহায়তার ব্যবস্থা না করে মানুষকে ঘরে বন্দি থাকতে বাধ্য করার মধ্য দিয়ে ‘লকডাউন’ একটি নিষ্ঠুর রসিকতায় পরিণত হয়েছে। চলমান লকডাউন যেন কর্মহীন কোটি কোটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে খাদ্যাভাবে মারার অমানবিক হাতিয়ার।

বিএনপি মহাসচিব উল্লেখ করেন, সরকারের অপরিকল্পিত ও অমানবিক লকডাউনের সিদ্ধান্ত এদেশের কোটি কোটি “দিন আনে দিনে খায়” মানুষের সকলের জীবনই স্থবির করে ফেলেছে। অথচ এদের দৈনন্দিন জীবন প্রবাহকে অব্যাহত রাখতে যে নগদ অর্থ বা খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা উচিৎ ছিল, বর্তমান গণবিচ্ছিন্ন সরকার তার প্রয়োজনীয়তাই অনুভব করেনি। নগদ অর্থ এবং খাদ্য সহায়তা ছাড়া ঘোষিত এই লকডাউন একদিকে যেমন করোনা মহামারিকালে অসহায় মানুষের প্রতি সরকারের অমানবিক আচরণের বহিঃপ্রকাশ, অন্যদিকে আদৌ এ লকডাউন কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কাড়ন নগদ অর্থ বা খাদ্য না দিয়েই যদি তাদের ঘরে আবদ্ধ থাকতে বলা হয়, তাতে একটা ডেসপারেট সিচুয়েশন তৈরি হতে বাধ্য। মানুষ তখন জীবন বাঁচানোরর প্রয়োজনে যে কোনও উপায় খুঁজবে- এটাই স্বাভাবিক।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, করোনা মহামারি একটা সর্বাত্মক যুদ্ধ। আর যুদ্ধ বিজয়ের অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে সৈনিকদের অস্ত্রসজ্জিত করে সুনির্দিষ্ট যুদ্ধকৌশল বা রোডম্যাপ প্রণয়ন করা। কিন্তু, বাংলাদেশের ভোট ডাকাত সরকার করোনা যুদ্ধে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তো নেয়ইনি, বরঞ্চ ব্যক্তিগত আচার আচরণ, হিংসা ছড়ানো ও বাগাড়ম্বরের মাধ্যমে জাতিকে ভয়াবহ বিভক্তির দিকে ঠেলে দিয়ে করোনা যুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করার পরিবেশ বিনষ্ট করেছেন।

বিএনপি’র এ নেতা  উল্লেখ করেন, আমরা প্রথম থেকেই জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে একসাথে সুচিন্তিত পরিকল্পনা নিয়ে এ বৈশ্বিক মহামারী মোকাবেলার আহবান জানিয়েছিলাম এবং বিকল্প প্রণোদনা ও বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাব করেছিলাম। বিএনপি বিভিন্ন সময়ে করোনার প্রথম ঢেউ, দ্বিতীয় ঢেউ, এমনকি তৃতীয় ঢেউ আসার আগেই এমনকি প্রাক বাজেট বক্তব্যেও করোনা মোকাবেলায় বিএনপি’র রোডম্যাপ/সুপারিশ তুলে ধরেছিল। আমরা সুস্পষ্টভাবে বলেছিলাম, লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত দিন আনে দিন খায় এ শ্রেণীর প্রায় ৬ কোটি হতদরিদ্র প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের প্রায় ৫ লক্ষাধিক শ্র্রমিক, করোনার কারণে নতুন করে গরিব হয়ে পড়া আড়াই কোটি মানুষ, যে সকল নিম্নমধ্যবিত্ত দরিদ্রের কাতারে নেমে পড়েছে এবং যারা চক্ষুলজ্জায় হাত পাততে পারে না এমন শ্রেণীর মানুষের  কাছে নগদ অর্থ সহায়তা  পৌঁছাতে, যাতে তারা অন্তত দু মুঠো খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে। কিন্তু সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি।

মির্জা ফখরুল আরও উল্লেখ করেন, ভোটারবিহীন জনবিচ্ছিন্ন এ সরকারের জনগণের কাছে কোনো দায়বদ্ধতা বা জবাবদিহিতা না থাকায় তারা বেপরোয়া হয়ে পড়েছে। সরকার জনগণের টাকা জনগণকে দিচ্ছে না, অথচ অযৌক্তিকভাবে ১ কোটি টাকার প্রকল্প ২ কোটি টাকায় বাস্তবায়ন করে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রকল্প সময় বৃদ্ধির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হরিলুট করে বিদেশে পাচার করে দিচ্ছে। মেগা প্রজেক্টের মেগা দুর্নীতির সব কাহিনী তো সবাই   জেনে গেছে। এ সকল মেগা প্রজেক্টে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন পর্যায়ে চরম অস্বচ্ছতা, অদক্ষতা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপচয় ও মহা দুর্নীতির মহা রেকর্ড তৈরি হচ্ছে। ঐ সকল প্রকল্পের অর্থ বর্তমানে মানুষের জীবন বাঁচানোর উদ্দেশ্যে বরাদ্দ দিতে পারে সরকার। তা তারা করছে না।

আসলে বর্তমান সরকার সকল অর্থনৈতিক রীতিনীতি ভঙ্গ করে হীন রাজনৈতিক ও দলীয় ক্রনিদের স্বার্থে একটি অদ্ভুত  ধরণের চিন্তা নিয়ে  দেশ পরিচালনা করছে। তারা গরীব জনগণের নিকট হতে নির্বিচারে ট্যাক্স আদায় করছে, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে শুরু করে ব্যাংকিং সেক্টর, বিদ্যুৎ সেক্টর, Infrastructure  সেক্টর এক কথায় সর্ব সেক্টরে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য বানিয়ে একদলীয় শাসন কায়েম করেছে। জনগণের ভোটের দরকার নাই তাদের। নাই জনগণের কাছে জবাবদিহিতা। তাই বেপরোয়া দুর্নীত আর অপশাসন করে চলেছে সরকার।

এ প্রেক্ষিতে বিএনপি দাবি করেছে, লকডাউনের কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত অভাবী মানুষকে ঘরে রাখতে হলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রধান নীতি “Stay at Home” এর প্রধান উপাদান হচ্ছে ঘরে থাকা। আর অভাবী মানুষকে ঘরে রাখতে হলে তাদের ঘরে অবশ্যই খাদ্য পৌঁছে দিতে হবে।বৈশ্বিক মহামারি করোনা নিয়ন্ত্রণে দেশকে রক্ষার প্রয়োজনে বিএনপির পক্ষ থেকে পাঁচটি সমন্বিত পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্য  সরকারকে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

এ দাবীগুলি হচ্ছে;
১. দরিদ্র মানুষকে ঘরে রাখার জন্য তাদের ঘরে নগদ কমপক্ষে এককালীন ১৫,০০০/- টাকা করে এবং খাদ্য পৌঁছে দিতে হবে।
২. মানুষকে বাইরে বের হবার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং মাস্ক ব্যবহারে উদ্বূদ্ধ করতে হবে।
৩. অন্তত ৮০% মানুষকে অতি দ্রুত  টিকা প্রদান সম্পন্ন করতে হবে। এ জন্য একটি সমন্বিত ও সুনির্দিষ্ট রোড-ম্যাপ প্রণয়ন করে জাতির সামনে উপস্থাপন করতে হবে এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে। অবিলম্বে দেশে টিকা উৎপাদনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৪. বর্তমানে সারাদেশে করোনা আক্রান্ত রোগীদের সর্বাত্মক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য সারাদেশে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ, আইসিইউ ও করোনা বেড বৃদ্ধিসহ অত্যাবশ্যকীয় চিকিৎসাসামগ্রী ও পর্যাপ্ত চিকিৎসক/স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করতে হবে।
৫. অনেক বিলম্ব হলেও এখনি দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, সকল রাজনৈতিক দল, এনজিও ও সামাজিক সংগঠনের সমন্বয়ে একটি জাতীয় আপতকালীন পরামর্শক কমিটি গঠন করতে হবে।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অন্যান্য বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১৩১৪ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই