তারিখ : ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, রবিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

ভালুকায় আমন কাটা শুরু,কৃষকের মুখে হাসি

ভালুকায় আমন কাটা শুরু ফলন ভাল দামে খুশি কৃষকের মুখে হাসি
[ভালুকা ডট কম : ২৯ নভেম্বর]
ভালুকা উপজেলার সর্বত্র আমন ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। অন্যান্য বছরের তুলনায় রোগ বালাই ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় ধানের ফলন যেমন ভাল হয়েছে তেমনি গত বছরের চেয়ে এ বছর ধানের বাজার মূল্য বেশী থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

প্রতি বছর অগ্রাহায়ন মাস এলে সাড়ি সাড়ি সোনালী ছড়ার নতুন ধানের আঁটিতে ভরে উঠে কৃষকের আঙ্গিনা। কাক ডাকা ভোরে ধানের ছড়ায় মুক্তার মত জমে থাকা শিশির বিন্দু ঊষার আলোয় ঝিকমিক করে। দল বেঁধে কৃষকরা ধানের গোছায় কাস্তে লাগিয়ে ফসল কাটায় পার করেন সারা বেলা। বেলা পরার সাথে সাথে ধানের আঁটি মাথায় করে বাড়ীর উঠানে জড়ো আর ধান ছাড়ানোর ধপাস ধপাস শব্দে মুখর বাহির বাড়ির আঙ্গিনা। মাঠে মাঠে দিগন্ত জোড়া সোনালী ধান। কাটা ধানের কাঁচা খড়ের গন্ধ হেমন্তের মিষ্টি হাওয়ায় আবাহমান বাংলার ঘরে ঘরে কৃষান কৃষাণীর মাঝে উৎসবের আমেজ তৈরী করে । পাকা ধান কাটা ও মাড়াই করে গোলায় উঠানোর পর শুরু হয় নবান্নের নানা উৎসব। সারা রাত নারার আগুনে সিদ্ধ করা ধান পরদিন উঠানে রোদে শুকাতে দিতে গৃহস্থ বউ-ঝিদের মাথার ঘাম পায়ে ঝরে তবু বিশ্রাম নেয়ার অবকাশ থাকেনা। সাঁঝ বেলায় নাওয়া খাওয়া করে আবার রাতেই শুরু হয় ঢেকিতে চিকুর চিকুর শব্দ তোলে ধান বানার কাজ। ঢেকিতে চালের গুড়া করা হয় যা দিয়ে বিশেষ করে এ সময় চিতই পিঠা, তেলে ভাঝা মিষ্টি পিঠা আঞ্চলিক কথায় জামাই পিঠা, কলার পিঠা, ভাপা পিঠা, নারকেল পিঠা, পাটিসাপটা আরও কত রকম শেিতর পিঠা তৈরী করা হয়। চিনিগুড়ি, কালিজিরা, গুডি শাইল ধানের সুগন্ধি আতপ চাল দিয়ে খেজুরের কাঁচা রসের খীর পায়েশ, মুখ রোচক সুস্বাদু খাবারের সমারোহে বাড়ি বাড়ি ভীড় জমে  আত্মীয় কুটুমদের। শশুরবাড়ী হতে বাপেরবাড়ী বউ ঝিদের আনাগোনা শুরু হয়। এ সময় কৃষক পরিবারে শুরু হয় নতুন ধান ঘরে তোলার নানা আয়োজন আর কর্ম চাঞ্চল্য। ভালুকার প্রত্যন্ত এলাকায় মাঠে মাঠে সোনলী রংয়ের পাকা ধান কাটতে কৃষকরা ব্যাস্ত হয়ে পরেছেন। কোন কোন এলাকায় সমতল জমিতে ধান মাড়াইয়ে আধুনিক প্রযুক্তির হারভেষ্টার মেশিন ব্যবহার শুরু হলেও কিছু কিছু এলাকা রয়েছে যেখানে খাল বিল ও জমি উঁচু নিচু হওয়ার কারনে ধান কাটতে শ্রমিকের বিকল্প নেই।

বৃহস্পতিবার উপজেলার মল্লিকবাড়ী ইউনিয়নের সাতেঙ্গা গ্রামে শ্রমিকরা আমন ধান কাটছিলেন কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেনের ক্ষেতে। মোহনগঞ্জ ধর্মপাশা এলাকার শ্রমিক নূরুদ্দিন ও বাবু মিয়া জানান তারা ১০/১২ শ্রমিক ধান কাটার জন্য এই এলাকায় এসেছেন। তিন বেলা খাবার খেয়ে ৬০০ টাকা রোজে কাজ করছেন তারা। জমির মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান ৪ একর জমিতে তিনি ব্রি-ধান ৫১ ও রঞ্জিত জাতের আমন ধানের আবাদ করেছিলেন। তার জমি নিজস্ব ট্রাক্টর দিয়ে হাল চাষ করেছেন। ধান পাঁকতে শুরু হওয়ায় কয়েকদিন যাবৎ শ্রমিক দিয়ে ধান কাটাচ্ছেন। এলাকায় শ্রমিক না থাকায় বাহিরের শ্রমিকদের বেশী মজুরী দিতে হচ্ছে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় রোগ বালাই কম হওয়ায় ফলন মোটামোটি ভাল হয়েছে। একরে ৫০/৫৫ মণ ধান উৎপাদন হবে বলে তিনি আশাবাদী। বর্তমানে মাড়াইকরা ধান বাজারে ১৩০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। ধানের দাম বেশী হওয়ায় তিনি স্বস্তি বোধ করছেন এবং অনেক খুশি। সংসার চালাতে হাল গৃহস্থি তার একমাত্র অবলম্বন। ধান চাষের পাশাপাশি তিনি বাজে কৃষি করেও অর্থ আয় করেন। কৃষির উপর নির্ভর করে সংসার খরচ চালিয়ে তিন ছেলেকে লেখাপড়া করাচ্ছেন। বড় ছেলে আঃ ওয়াদুদ কৃষি বিশ্ব বিদ্যালয়ে কৃষি বিভাগে মাষ্টার্স পড়ছেন। মেঝো ছেলে আঃ আহাদ আনন্দ মোহন বিশ্ব বিদ্যালয় কলেজে ইসলামের ইতিহাস নিয়ে অনার্স পড়ছেন ও ছোট ছেলে আসহাবিল ইয়ামিন এ বছর এস এস সি পরীক্ষা দিয়েছেন। সারা বছরের খাবারের ধান রেখে বাকি ধান বিক্রি করে তিনি ছেলেদের লেখাপড়া ও আনুষাঙ্গিক খরচ চালিয়ে থাকেন। তবে বাজারে নিত্যপন্যের দাম বৃদ্ধির কারনে সংসার চালিয়ে ছেলেদের লেখাপড়ার খরচ চালাতে হিমসিম খাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

উপ সহকারি উদ্বিদ সংরক্ষণ অফিসার এনামুল হক জানান সারা উপজেলায় চলতি মৌসুমে আমন ধানের লক্ষমাত্রা ছিল ১৯ হাজার ৮৫৫ হেক্টর অর্জিত হয়েছে ১৯ হাজার ৮৬০ হেক্টর। ব্রীধান ৪৯,৫১,৭১,৭৫ ও ন্থানীয় সহ বিভিন্ন জাতের আমন আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল ৮২ হাজার ৯৭২ মেট্রিক টন। যেহেতু আমন মাড়াই শেষ হতে আরও সময় লাগবে অর্জিত লক্ষমাত্রা পরে পাওয়া যাবে।  প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোগবালাই কম থাকায় ও মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগের সার্বক্ষনিক তৎপরতা সহ কৃষককে সময়োপযোগী পরামর্শ দেয়ায় ফলন ভাল হয়েছে। এ মৌসুমে এ যাবৎ ধান মাড়াইয়ের তথ্যমতে প্রতি হেক্টরে গড়ে ৫ টন ফলন পাওয়া যাচ্ছে । ধানের বাজার মুল্য বেশী হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৬৫৭৬ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই