তারিখ : ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, রবিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

ভালুকায় মাঠে মাঠে সরিষা ফুলের মৌয়ালী গন্ধ

ভালুকায় দ্বিগুন আবাদ মাঠে মাঠে সরিষা ফুলের মৌয়ালী গন্ধ
[ভালুকা ডট কম : ১০ জানুয়ারী]
গত বছরের তুলনায় এ বছর ভালুকায় সরিষার দ্বিগুন আবাদ হয়েছে। পৌষালী দুপুরে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত সরিষার হলদু ফুলে হালকা বাতাসে যেন নৃত্যরত ভালুকার বিভিন্ন গ্রামে ফসলের মাঠ। মাঝে মাঝে হলুদ গালিচার মত ফুল ফুটা সরিষা ক্ষেত হাতছানি দেয় পথচারির নয়ন তৃঞ্চা মিটাতে। বাতাসে ছড়ানো সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধ যেন অজানা অনুভূতির ছোঁয়া জাগায় সকলের প্রাণে। এক সময়ের গ্রাম বাংলার মাঠের শোভা মাঝখানে হারিয়ে যাওয়া অর্থকরি ফসল সরিষার আবাদ পুণরায় অনেকাংশে বেড়েছে বলে কৃষকরা জানান।

আদিকাল হতেই সরিষা গ্রামের মানুষের খাদ্য তালিকায় অতি গুরুত্বপুর্ণ স্থান দখল করে আছে। এক সময় গ্রামের আনাচে কানাচে যে দিকে চোখ যেতো দেখা মিলতো শুধু সরিষা ফুলের দিগন্ত জোড়া  হলুদ চাদরে ছাওয়া মাঠের পর মাঠ। কৃষকের উঠান ভরে উঠতো সরিষার দানায়।  গ্রামের কুলু সম্প্রদায় নিজস্ব প্রযুক্তিতে গরুদিয়ে ঘানি টানিয়ে সরিষা হতে তৈরী করতেন ঘন ভোজ্য তেল যা রান্না সহ শরীরে মাখানোর কাজে ছিল সকলের প্রিয়। নিজের ক্ষেতের উৎপাদিত সরিষা গ্রামের কুলু বাড়ীতে নিয়ে ঘানিতে তৈল ভাঙ্গিয়ে এনে ঘানি টানা সরিষার তেল দিয়ে মুখরোচক সবজি ভর্তা ভাজি রান্না যেন অকল্পনীয় বিষয় ছিল। প্রবীনদের কাছে শোনা যায় খাটি সরিষার তেল নিয়মিত খেলে অনেক রোগ বালাই হতে মুক্ত থাকা যায়। সর্দি কাশি হলে খাটি সরিষার তেল গরম করে বুকে পিঠে হাত ও পায়ের তালুতে মালিশ করলে আরোগ্য পাওয়া যেতো।
সরিষা গাছে ফুল আসার পূর্বে কাঁচা পাতা শাখ, সরিষা ফুলের ভাজা বরা হিসেবে খেতে খুবই সুস্বাদু। আমসত্ব,বড়ই, চালতা,জলপাই ইত্যাদি আচার তৈরীতে সরিষার তেল অত্যাবশ্যকীয়। পিঠা পুলি তৈরীতে খাটি সরিষার তেলের জুরি নেই। সরিষার ইলিশবাটা, কাশান্দি কার না প্রিয়।

আধুনিকায়ন ও বিজ্ঞানের উন্নত প্রযুক্তির কাছে আদিকালের কাঠের তৈরী ঘানিকল এখন হারানো দিনের স্মৃতি চারণ মাত্র। বিদেশের উৎপাদিত সোয়াবিন,পামওয়েল এক সময় এদেশের বাজার দখল করে নেয়ায় ঘানি শিল্পের সাথে জড়িত পরিবার গুলো ব্যবসায়িক লোকসানের মুখে পরে যায়। দিন রাত যেসব বাড়ীতে ঘানি টানা যাতা কলের কেচাং কেচাং শব্দ হত যা কালের বিবর্তনে এক সময় নিশব্দে মিলিয়ে যায়। সরিষার বিকল্প ভোজ্যতেল বাজারে আসায় প্রভাব পরে কৃষকের অর্থকরি ফসল সরিষার উপর। অনেকে মনে করেন মূলত ওই কারনেই এক সময় চাষীরা সরিষা আবাদে অনাগ্রহী হয়ে পরেন। সম্প্রতি সরিষা আবাদে কৃষকের মধ্যে নতুন করে সারা জাগলেও হারিয়ে গেছে ঐতিয্যবাহী ঘানি কল। এ বছর ভালুকায় সরিষার ফলন খুবই ভাল হয়েছে। সরিষা ফুল হতে প্রাকৃতিক ভাবে বনে জঙ্গলে গাছের ডালে বসা মৌচাক হতে খাটি মধু পাওয়া যায়। আবার অনেকে রবি মৌসুমে মধু উৎপাদনের জন্য সরিষার আবাদ করে বাক্সে মৌমাছি পালনের মাধ্যমে লাভবান হচ্ছেন।

উপজেলার কাচিনা, হবিরবাড়ী, ধীতপুর, বিরুনিয়া,মল্লিকবাড়ী, ডাকাতিয়া, মেদুয়ারী ও উথুরা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে এ বছর কমবেশী সরিষার আবাদ হয়েছে। উপজেলার কাচিনা ইউনিয়নের বাটাজোর গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল জানান তিনি ৫ একর জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন। তিনি জানান সরিষা আবাদে অন্যান্য ফসলের চেয়ে খরচ কম হয় দামও ভাল পাওয়া যায়। প্রতিমণ সরিষা ৩৫০০ টাকা হতে ৪০০০ হাজার টাকা পর্যন্ত মণ পর্যন্ত বিক্রি করা যায়। ডাকাতিয়া ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের কৃষক দেলুয়ার হোসেন জানান তিনি ৫/৬ একর জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন। সোয়াবিনের দাম বাড়ায় তিনি সরিষা আবাদে মনোযোগি হয়েছেন। তার মতে সোয়াবিন তেলের চেয়ে সরিষা খাদ্য হিসেবে অধিক স্বাস্থ্য সম্মত আর নিজের ক্ষেতের সরিষা স্থানীয় মিল হতে ভাঙ্গিয়ে নিজেদের প্রয়োজনে সারা বছর ব্যবহার করেন।

উপজেলা কৃষি কমকর্র্তা জেসমিন জাহান জানান চলতি মৌসুমে ২৩০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছে যা গত বছরের চেয়ে দ্বিগুন। রবি কর্মসূচী/২০০২২ সরিষা আবাদে কৃষকদের আরও উদ্যোগী হওয়ার লক্ষে ১৫০০ জন কৃষককে ১ বিঘা করে জমি আবাদের জন্য ১ কেজি সরিষা বীজ ১০ কেজি টিএসপি ও ১০ কেজি এম ও পি সার সরকারী প্রনোদনা হিসেবে দেয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে প্রতি হেক্টরে ১.১৫ মেট্রিক টন ফলন পাওয়া যায়। আগাম আমন ধান কাটার পর টানি জমিতে কার্তিক অগ্রহায়ন মাসে সরিষা বীজ বপন করায় ব্যস্ত থাকেন চাষীরা। সরিষা ক্ষেতে বীজ বপনের পূর্বে সার প্রয়োগ করলেও পরে তেমন একটা প্রয়োজন হয়না। তাছারা পানি সেচ ও নিরানীর প্রয়োজন না হওয়ায় অন্যান্য ফসলের চেয়ে চাষীদের জন্য সরিষা আবাদ অধিক লাভ জনক। সরিষা মাড়াই করে ওই জমিতে কৃষকরা বোরো ধানের আবাদ করতে পারেন। চলতি মৌসুমে উচ্চ ভালুকায় ফলনশীল জাতের সরিষা বারি ৯, বারি ১৪, বারি ১৭, বীনা ৫, ৭, ৯ ও স্থানীয় টরি ৭ জাতের সরিষার আবাদ হয়েছে। তিনি এলাকার বেশ কিছু কৃষকের সরিষা ক্ষেত পরিদর্শন কালে ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জানান সরকারী সহযোগিতা পেলে তারা আগামীতে আরও অধিক জমিতে সরিষা আবাদ করবেন।#




সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৬৫৭৬ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই