তারিখ : ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, রবিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

রাণীনগরে শুরু হয়েছে গণিত প্রতিযোগিতা

মফস্বল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গণিতের প্রতি আগ্রহী করতেই
রাণীনগরে শুরু হয়েছে আরপিএ গণিত অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতা
[ভালুকা ডট কম : ১২ জানুয়ারী]
গণিতের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করার লক্ষ্যে ও “গণিতের ভয় চলো করি জয়” এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে রাণীনগর প্রসপ্যারিটি অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক আরপিএ গণিত অলিম্পিয়াড-২০২৩ শুরু হয়েছে। বুধবার বিকেলে (১১জানুয়ারি) রাণীনগর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে অলিম্পিয়ার্ডের প্রথম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পর্যায়ক্রমে উপজেলার ৮ইউনিয়নের সকল বিদ্যালয়েই এই অলিম্পিয়াডের বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান আরপিএ-এর সভাপতি ডা. কেএইচএম ইফতেখারুল আলম খান অংকুর।

মফস্বল পর্যায়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুথিগত বিদ্যার পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের তৈরি করার কাজে সহযোগিতা করার লক্ষ্য নিয়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যায়নরত উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সাবেক ও বর্তমান কৃতি সন্তানরা ২০২০সালে তৈরি করেন “রাণীনগর প্রসপ্যারিটি অ্যাসোসিয়েশন”। এই অ্যাসোসিয়েশন ব্যানারে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায়  আরপিএ গণিত অলিম্পিয়াড-২০২৩ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে গণিত বিষয়ে কোন শিক্ষার্থীর কোন জায়গায় দুর্বলতা আছে তা খুব সহজেই সমাধান করে নিজেদের গণিতসহ অন্যান্য বিষয়ে একজন দক্ষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারবে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতায় নিজেদের অংশগ্রহণে নিজেদের তৈরি করতে উৎসাহিত ও আগ্রহী হয়ে উঠবে বলে আশা আয়োজকদের।  

সভাপতি ডা. কেএইচএম ইফতেখারুল আলম খান অংকুর জানান অলিম্পিয়াড পরীক্ষা দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত ছিল। জুনিয়র পর্যায়ে অংশ নেয় ৬ষ্ঠ, ৭ম ও ৮ম শ্রেণী এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে অংশ নেয় ৯ম ও ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। ১ঘন্টার এই অলিম্পিয়াডে প্রায় ৩০০জন প্রতিযোগী অলিম্পিয়াডের চ’ড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণ করে। আগামীতে পর্যায়ক্রমিকভাবে উপজেলার ৫০টি বিদ্যালয়ে এই পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষার মাধ্যমে জুনিয়র পর্যায়ে ১০জন ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ১০জন করে শিক্ষার্থীদের বেছে নেওয়া হবে। পরবর্তিতে সকল প্রতিষ্ঠানের বিজয়ী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে উপজেলা পর্যায়ে চ’ড়ান্ত একটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সেই চ’ড়ান্ত পরীক্ষায় বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হবে। এই ধারাবাহিকতা আগামীতেও অব্যাহত রাখা হবে বলেও তিনি জানান।  

পরীক্ষার সময় আরপিএ-এর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা হলেন রুয়েটের সহকারী অধ্যাপক সজল আহম্মেদ, রাণীনগর মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক সোহানিয়া শবনম সেবা, প্রভাষক রুবাইত ইবনে মোফাজ্জল, রাণীনগর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মনোয়ার হোসেন তোতা, অত্র  বিদ্যালয়ের অন্যন্য সকল সহকারী শিক্ষকবৃন্দ এবং আরপিএ-এর কিছু সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী, উপজেলার কৃতি সন্তান যারা বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরীক্ষা শুরুর পূর্বে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে রাণীনগর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোয়ার হোসেন তোতা বলেন বিজ্ঞানের মূল ভাষা হচ্ছে গণিত। গণিতে ভালো হলে জ্ঞানের সকল শাখায় ভালো করা যায়। সর্বোপরি গণিত চর্চা একজন মানুষকে যুক্তিনির্ভর মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। গণিত শিক্ষা প্রসারে রাণীনগর প্রসপ্যারিটি অ্যাসোসিয়েশন, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে তিনি ধন্যবাদ জানান।

প্রভাষক ইবনে মোফাজ্জল বলেন স্কুল পর্যায়ে কিশোর শিক্ষার্থীদের মনে বিজ্ঞানের চেতনা জাগ্রত করার জন্য এসব অলিম্পিয়াড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতির ভাগ্য পরিবর্তনে যুগের পর যুগ বিজ্ঞানের যে অবদান, তা অনস্বীকার্য। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাঙালি জাতির ভাগ্য পরিবর্তনে বিজ্ঞানের চর্চা অবশ্যই প্রয়োজন।

মানবজীবনে বিজ্ঞানের অবদানের কথা উল্লেখ করে মো. সজল আহম্মেদ বলেন আমরা চারপাশে তাকিয়ে প্রয়োজনীয় যা কিছু দেখছি, তা সব বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির অবদান। এই বিজ্ঞান পারে একটি জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করতে। আবার এই বিজ্ঞানের অপব্যবহারে ধ্বংস হতে পারে জাতির অস্তিত্ব। তাই সুস্থ বিজ্ঞান এবং গনিত চর্চার মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে বিশ্বের বুকে তুলে ধরতে, এমন গণিত অলিম্পিয়াডের ভূমিকা অপরিসীম।

তিনি আরো বলেন আমরা শিক্ষা-দীক্ষা থেকে শুরু করে সকল সেক্টরে রাণীনগর উপজেলাকে বাংলাদেশের অন্যতম উন্নত উপজেলা হিসেবে দেখতে চাই। যে এলাকার আলো-বাতাস গায়ে লাগিয়ে বড় হয়েছি সে রাণীনগরের সকল সু-শিক্ষিত ভাই-বোনেরা মিলেমিশে হাতে হাত রেখে রাণীনগরের সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখতে চাই আমরা। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় প্রাইমারি স্কুলের ফ্রি বই থেকে শুরু করে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসির বাতাসসহ বিভিন্নভাবে দেশ আমাকে যা দিয়েছে সে বিবেচনায় আমি দেশকে কি কি দিতে পেরেছি সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজি প্রতিনিয়ত। ছোট বেলা থেকে শুনে এসেছি উন্নয়ন শুরু হয় নিজ বাড়ি আর গ্রাম থেকে এরপর সেটা ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ছাড়িয়ে দৃষ্টগোচর হয় জাতীয় পর্যায়ে। তাই আমরা বিশ্বাস করি রাণীনগরে উন্নয়ন মানেই বাংলাদেশের উন্নয়ন। আর তাগিদেই আমরা এই অ্যাসোসিয়েশনটি তৈরি করেছি। আমি আশাবাদি অ্যাসোসিয়েশনের এই কর্মকান্ড একদিন পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়বে এবং আমাদের দেখাদেখি প্রতিটি উপজেলাতেই এই ধরনের অ্যাসোসিয়েশন তৈরি হয়ে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখবে।#




সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

শিক্ষাঙ্গন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৬৫৭৬ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই